
দেশে ৯৮ টি মিনি স্টেডিয়াম হবে। ভালো কথা, আমি ক্রিকেট বিদ্বেষী নই। ক্রিকেট বিষয়ে বলার আগে কিছু কথা না বললেই নয়-
কিছুদিন আগে টিভিতে একটি অনুষ্ঠান দেখেছিলাম, অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে।স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক, অন্যরা বাসায় বসে ডিম পাড়ে। আমাদের দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষক থাকেন না, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী তো দূরের কথা। স্কুল কলেজের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারের কথা বাদই দিলাম। ঢাকা শহরের ফুটপাত দিয়ে ঘুরলেই বলে দেয়া যায় অভুক্ত লোকেদের কথা। কোন চাকুরির জন্য আবেদনকারীদের সংখ্যা দেখলেই বুঝা যায় বেকার লোকের হিসাবটা। এসব ক্ষেত্রে মঞ্চে দাঁড়ানো লোকের বক্তৃতা শুনবার প্রয়োজন নাই।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের বরাদ্দ দেখলেই মনে হয়, শালার আমরা গরীবই রয়ে গেলাম।
ক্রিকেটের উন্নয়ন যে দেশের উন্নয়ন নয়,
এ বিষয় কে বুঝাবে বাঙালীকে?
বুঝানোর ক্ষমতা অন্তত আমার নেই। কারন সেই দূর দেশ আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের জন্য যারা প্রতিনিয়ত মারামারি করে, তাদের বুঝনোর সাহস কোন ব্যাটার?
এতদিন তো সাধারণ লোকজন নাচত, এখন দেখি রাষ্ট্র পর্যন্ত নাচছে! আমরা কোন দিকে যাব?
এতদূরেও যাওয়ার দরকার নেই, যারা শুধুমাত্র জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য ৯০ কোটি টাকা খরচ করে, তাদের জন্য আর কী বলার থাকতে পারে?
বাঙালীরা আরও একটি বিষয়ে তারছেড়া, যার নাম রাজনীতি!
বাঙালীরা বিদেশের গিয়েও বাংলাদেশের রাজনীতি করে।
কিন্তু, খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে তারা জানে রাজনীতি মানে শুধুমাত্র মারামারি আর দলাদলি।এখানে নির্বাচন আসলেই উৎসব শুরু হয়ে যায়, বিকারগ্রস্তদের উৎসব।তাহলে খেলাধুলা অথবা রাজনীতির কি দরকার নেই? অবশ্যই দরকার আছে।
কিন্তু, যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার আগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দরকার। দরকার বেঁচে থাকার অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর দিকে ফিরে তাকানোর।
পরিশেষে, হুমায়ূন আজাদ স্যারের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করি-
"পা, বাঙলাদেশে, মাথার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পদোন্নতির জন্যে এখানে সবাই ব্যগ্র, কিন্তু মাথার যে অবনতি ঘটছে, তাতে কারো কোনো উদ্বেগ নেই।"
ছবি কৃতজ্ঞতা- আমার দেশ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




