
যুক্তরাষ্ট্রের চাকচিক্যময় লাস ভেগাস শহর। ভোগের এহেন কোন বস্তু নেই, যা এই শহরে পাওয়া যায় না। নারী, মদ, জুয়াসহ সকল ভোগের জায়গা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে লাস ভেগাসকে।
মানবিকতা বলতে কোন শব্দ নেই, টাকার কাছে ওটা বিক্রি হয়ে গেছে বহু আগেই। বড় বড় ক্যাসিনো আর হোটেলগুলো প্রলয়ঙ্করী আকার ধারণ করেছে। যৌন চাহিদাসহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ প্রাপ্তির জন্য মানুষ আসে এখানে। শুধু সাধারণ যৌনবাসনা পূরণ নয়, রয়েছে বিকৃত যৌনবাসনা পূরণের আয়োজন। একটি উদাহরণ দিচ্ছি, একজন নারী তার সমস্ত পরিধেয় খুলে উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ান। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্বে বিকৃত যৌনতালিপ্সু দাঁড়ায়, হাতে তার বিশেষ বন্দুক। সেই বন্দুকে আছে রাবার বুলেট। এই লোকটি বন্দুক উঁচিয়ে তাক করে মেয়েটির যোনী দিকে। এরপর গুলি করে যোনীর বরাবর। আহ, কতোটা নৃশংস!! কতোটা নৃশংস!!
মেয়েটির এই গুলি লাগাতে কিছুটা ব্যাথা ছাড়া তেমন কোন ক্ষতি হয়না ঠিক, কিন্তু একজন নারীর যোনীকে টার্গেটে পরিণত করাটা মানবিক পৃথিবীর উপর, সমগ্র মানুষ জাতির মুখে চপেটাঘাত স্বরূপ।
অথচ কী আশ্চর্য, কিছু লোক এটাকে নারীদের অধিকার বলছে! তারা কী দেখছে না, একজন নারী অর্থের কাছে, পুঁজিবাদের কাছে কতোটা জটিলভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
বৈধ অবৈধ পতিতাবৃত্তির পরিবেশ সৃষ্টি এবং লালন করছে আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ। যৌনাচার এবং পর্নোগ্রাফিক চিত্র সমূহের সন্ধান প্রাচীনকালের প্যাপিরাস পাতায় অঙ্কিত চিত্রের মধ্যে পাওয়া গেলেও এর সবচেয়ে বড় নিদর্শন পম্পেই নগরীর আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়। একসময় পর্নোগ্রাফি সমগ্র পৃথিবীব্যাপী নিষিদ্ধ ছিল। প্রথম পর্ণোগ্রাফিক রচনা হচ্ছে ব্রিটিশ লেখকের Fanny Hill বইটি। এই বই লেখার জন্য অবশ্য কারাভোগ করতে হয়েছিল লেখককে। Obscene Publications Act 1857 এর দ্বারা পর্নোগ্রাফিকে নিষিদ্ধ করা হয় যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ডে। Comstock Act এর দ্বারা ১৮৭৩ সালে পর্ণোগ্রাফিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথম পর্ণোগ্রাফিক শর্টফিল্ম Le Coucher de la Mariée ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। আর প্রথম দেশ হিসেবে পর্ণোগ্রাফিকে ১৯৬৯ সালে সেন্সরশীপ প্রদান করে ডেনমার্ক, যা আস্তে আস্তে যা সমগ্র পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে; আর এর মূল কারন হচ্ছে অর্থ। যুক্তরাষ্ট্রে পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির পরিমাণ হল ১০-১২ বিলিয়ন ডলার। আর ২০০৬ সালে গোটা বিশ্বের পর্ণো ইন্ডাস্ট্রির রেভিনিউ ছিল ৯৭ বিলিয়ন ডলার। শুধুমাত্র নারী নয়, পুরুষেরাও দেহ বিক্রি করছে। প্রতিটি ভিডিওর জন্য অর্থ পাচ্ছে। মানুষ পরিণত হচ্ছে আধুনিক দাসে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন জায়গায় পতিতাবৃত্তির বৈধতা আছে, যদিও অবৈধ এবং ভাসমান পতিতার সংখ্যাই বেশী। একজন মানুষকে আমরা আর মানুষ হিসেবে দেখতে পারছি না, একজন মানুষ শুধুমাত্র একটি মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। মুনাফালোভীরা দানব হয়ে উঠেছে। আমরা ঠিক করতে পারছি আমাদের ছেলেমেয়েদের স্বাভাবিক যৌন ভবিষ্যৎ। অথচ কারা এই অমানবিকতার পক্ষে সাফাই গায়? কারা একজন মানুষকে শুধুমাত্র একটি মাংসপিণ্ডে পরিণত হবার কথা বলে? বলুন তো পর্ণ ভিডিও দেখার পর একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির কেমন পরিবর্তন হয়? এই আধুনিক পুঁজিবাদ, মুনাফালোভী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সকল মানবিকতার বালাইকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে অর্থকে ঈশ্বরে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র একজন নারীকে দেখছে না, কখনও কখনও তাকে পতিতা হতে বাধ্য করছে। বাংলাদেশে যে কয়েক লক্ষ পতিতা আছে তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। অথচ পতিতাদের অধিকার নিয়ে লেখালেখি, সেমিনার, আলোচনা হয়েছে বা হচ্ছে প্রচুর।
এই যে পুঁজিবাদের অশ্লীল আয়োজন, এই আয়োজনকে রুখে দিয়েছিল সোভিয়েতের সমাজতন্ত্র। এই অমানবিক যৌন দাসত্ব থেকে নারীকে মুক্তি দিয়েছিল। সেদিন একজন মানুষ, মানুষ হিসেবে বাঁচবার অধিকার পেয়েছিল; অথচ আমরা আজও কতোটা দূরে!
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



