বলা যায় আলব্যর ক্যামুর আউড সাইডার বইটার পড়ার আগে আমি জানতাম না। এত নিস্পৃহ ভাষায় কোন বই লেখা যায়। বয়স আর কত হবে। আট নয় বছর! ঢাকা ডাইজেষ্ট ম্যাগাজিনে প্রথম 'অচেনা'নামে বইটার সারসংক্ষেপ পড়ি। তখন সেই বয়সে এটা ছিল আমার জন্য আঘাত। নৈতিকতা হীন এক নায়ক। যে তার মায়ের মৃত্যুকে কোন ঘঠনা বলেই মানতে চায়না। মনে হয়েছিল এই বহিতে বিদ্যুৎ আছে। মেসেজটা অবচেতনে ঢুকিয়ে রেখেছিলাম। এরপর পল ক্লদেলের ইংরেজিটা পড়ি। শিহরিত হই। ছোট উপন্যাসগুলার মধ্যে বেশ কয়েকটা উপন্যাস বিশ্বউপন্যাসের মানচিত্র বদলে দিয়েছে। তাদের মধ্যে জন স্টেইনবেবের দ্যা পার্ল, হেমিংওয়ের দ্যা ওলড ম্যান এন্ড দ্যা সী, কিংবা সোরেন কিয়ের্কেগার্দের দ্যা ডায়েরী অব সিডিউসার,। এর পরে হাতে আসে মুল ফ্রেঞ্চ থেকে বাংলায় মৃণাল কান্তি ভদ্রের অনুবাদ। ক্যমুর ভাষায় বিষন্ন মাদকতা সমৃদ্ধ। তার দি মিথ অব সিসিফাসের ক্ষেত্রেও একথা বলা যায়। বলা যায় তার প্লেগ সম্পর্কেও। শেষে আগন্তুক নামে মুল ফ্রেঞ্চ থেকে মৃণাল কান্তির বইটাও পড়ি। অদ্ভুদ লাগছে। আগের দুইবারের পরও মনে হয়েছে। নতুন করে পড়ছি।সেই বিষন্ন সমুদ্র সৈকত তার তাতানো রোদ যেটা তাকে আরবটাকে গুলি করতে প্রেরণা দিয়েছে। আসলে আমার মনে হয়েছে। এটা একটা দর্শনের বই। মানুষের সমুল ধরে নাড়া দেয়। সবকিছুতেই বিরক্ত সে। প্রেমিকার সাথে তার কথা বার্তাগুলা অদ্ভুদ। তদোপরি পাদ্রীর কাছে যে তার স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকারতো একট বৈপ্লবিক কান্ড। এটা আমার কাছে খাটি অস্তিত্ববাদি উপন্যাসের চাইতেও মনে হয়েছে খাটি সিনিক্যাল উপন্যাস। শেয়ার করুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



