ওয়াশিংটন আরভিং মার্কিন মুলুকের অষ্টাদশ শতাব্দির লেখক। তাকে অনেকেই মেটাফিজিক্যাল লেখক বলতে চান। তার এই বইটাও তা সাক্ষ্য দেয়। রিপভ্যান উইঙ্কেল বইটি যদিও উদ্ভট রসের তবুও এই বইতে তিনি একটা কথাই বলতে চেয়েছেন তা হল লালন সাইয়ের ভাষায় এমন মানব জনম আর কি হবে?
কাটস্কিল পাহাড়ের পাদদেশে রিপের বাস। ছোটদের কাছে সে জনপ্রিয় সে তাদের মজার মজার কাহিনী বলে বেড়ায়। বড়দের কাছে সে জনপ্রিয় কারণ সে পরোপকারী। কিন্ত নিজের কাজে রিপ লবডঙ্কা। ছেলেরা তার কথা শুনেনা। আর বউটাতো সাক্ষাত খান্ডাস। গাদা বন্দুক আর কুকুরটা সাথে নিয়ে কাটস্কিল পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানোই তার একমাত্র ভাললাগা কাজ। তেমনি একদিন সে পাহাড়ে বসে আছে। কাকতালীয়ভাবে এক আগন্তুকের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। সে তার হাতে একটা পিপে ধরিয়ে দিয়ে তার পেছনে যেতে বলে। তারা আরো কিছু অদ্ভুদ সাজপোষাক পরা লোকজনের ভেতর উপস্থিত হয়। তাদের সর্দার। সবাইকে শরবত পরিবেশন করতে বলে। রিপ সবাইকে পিপা থেকে শরবত পরিবেশন করে। সে খুব তৃন্ষার্থ ছিল। সেও কয়েকমগ শরবত খেয়ে ফেলে। এবং খুব দ্রুত সে ঘুমের জগতে তলিয়ে যায়।
পরদিন যখন তার ঘুম ভাঙ্গে তখন সবকিছু বদলে গেছে। মরচে পড়া বন্দুকটা দেখে সে আতকে উঠে। কুকুরটাও কোথায় চলে গেছে। সে কোনো প্রকার উঠে দাড়াল। মুখে হাত বুলিয়ে একফুট দাড়ির অস্থিত্ব পেয়ে বুঝতে পারল শরবতের গুনে একরাতের ভেতর সে বুড়িয়ে গেছে। সে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখে সেখানে কিছু নাই। একটা সরাইখানায় হট্টগোল দেখে সেখানে উকি মারে। লোকজন ভোট নিয়ে ব্যস্ত। একজন তাকে বলে বুড়ো তুমি কাকে ভোট দিচ্ছ। সে কিছুই বুঝতে পারলোনা। সে বলল এক দরিদ্র প্রজা আমি। রাজা দীর্ঘজিবী হোক।
সবাই ধুর ধুর করে উঠল। এ নির্ঘাত টোরীপন্থী গোয়েন্দা। সে যাদের খোজ করল তারা ১৮ বছর আগে মারা গেছে। একসময় সে চীতকার করে- তোমরাকি কেউ রিপভ্যনকে চিননা? তখন এককোনায় দাড়ানো এক মহিলা বলে রিপভ্যান আমার বাবা ছিলেন। ২০ বছর আগে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তখন রিপ কেদে বলে আমিই সেই হতভাগ্য রিপ। আসলেই আরভিংয়ের মত বলতে ইচ্ছে করে জীবন কত ক্ষণস্থায়ী সুতরাং লালনের মত বলি এমন মানবজনম আর কি হবে।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



