somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৬ ডিসেম্বর ‘৭১- একটি অন্যরকম গল্প

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। সারা শহরে আনন্দের বন্যা। মিত্রবাহিনী শহরে প্রবেশ করেছে। পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করেছে। আজ স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় দিবস।

হোটেল ইন্টারকনে বসে আব্বাস ঘোষণার অপেক্ষায় বসে আছেন। তিনি একজন বিখ্যাত ফটোগ্রাফার। যুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি এই অঞ্চলে ছবি তুলছেন। তিনি চান এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি তুলবেন।

হঠাৎ তিনি দেখলেন একটি ভারতীয় বাহিনীর জিপ ছুটে আসছে। জিপের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল বসে আছেন। আব্বাস জিপের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং লিফট চাইলেন। লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সম্মত হলেন এবং আব্বাস জিপে উঠলেন।

জিপ ফার্মগেটের দিকে এগোতে লাগল। হঠাৎ জিপের দিকে গুলি ছুটে এল। জিপের সবাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। কিন্তু লেফটেন্যান্ট কর্ণেল উঠে দাঁড়ালেন এবং গুলির উৎসস্থলের দিকে এগিয়ে গেলেন। আব্বাসও তার পিছু নিলেন।

গুলির উৎসস্থলে ছিল একটি পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থান। লেফটেন্যান্ট কর্ণেল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজরকে বললেন, “পূর্ব পাকিস্তানের কমান্ড আত্মসমর্পণ করেছে। ঢাকা শহর এখন মিত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। গোলাগুলি না করে আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।”

মেজর কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। তারপর তিনি তার অধীনস্থদের সঙ্গে কথা বললেন। হেডকোয়ার্টারে ফোন করলেন। তারপর নিশ্চিত হয়ে লেফটেন্যান্ট কর্ণেলের সঙ্গে হাত মেলালেন।

একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল। ঢাকা শহর রক্ষা পেল।

আব্বাস তার ক্যামেরায় সবকিছু ধরে ফেললেন। এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। এই ছবিটি আজও বাংলাদেশের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আব্বাসের আবেগ

আব্বাসের চোখে পানি এসে গেল। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমি আজ আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছি। আমি বাংলাদেশের বিজয়ের ছবি তুলেছি। এই ছবিটি ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল হয়ে থাকবে।”

লেফটেন্যান্ট কর্ণেল পান্নুর আবেগ

লেফটেন্যান্ট কর্ণেল পান্নুও খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন, “আমি আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছি। আমি ঢাকা দখল করেছি। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছি।”

একটি অন্যরকম গল্প

এই গল্পটি অন্যরকম কারণ এটি একটি বিজয়ের গল্প। কিন্তু এটি শুধুমাত্র একটি সামরিক বিজয়ের গল্প নয়। এটি একটি আবেগময় বিজয়ের গল্প। এটি একটি গল্প যেখানে একজন ফটোগ্রাফার তার ক্যামেরার লেন্স দিয়ে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ধরে রাখেন। এবং একজন বীর সেনানী তার সাহসিকতা এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়কে রোধ করেন।


বিজয় দিবসের টি-শার্টে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা


বিজয়ের মাসে বিজয় দিবসের টি-শার্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা তুলে ধরে মাসিরা অনলাইন শপ। এবারও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের নানা অনুষঙ্গ স্থান পেয়েছে টি-শার্ট এর জমিনে।

বিজয়ের এই মাসে মাসিরা অনলাইন শপ একটু ভিন্ন রূপের আয়োজন করে থাকে। বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইন আর লাল সবুজ রং দেখে তরুণ দেশপ্রেমিকরা কিছু না কিছু কিনছেনই।

কারোর টি-শার্টে উঠে এসেছে বাংলাদেশের মানচিত্র, কারোর নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে জাতীয় পতাকা, কোনোটায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা ছবি, লেখা, কবিতার লাইন ও জাতীয় ফুল। অর্থাৎ বিজয় উৎসবের বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে ডিজাইন করা হয়েছে বিজয় দিবসের টি-শার্ট গুলোতে।

বিজয় দিবসের টি-শার্ট অনলাইনে অর্ডার করতে ভিজিট করুন: https://www.mashira.com.bd/bijoy-dibosh-t-shirt/
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×