পারিবারিক ভাবে আমাদের নারী অভিজ্ঞতা একটু কম। মা-বৌ “এর” এবং গার্লফ্রেন্ড “দের” মাধ্যমে অর্জিত যে অভিজ্ঞতা, তার কোন কিছুই কাজে আসছে না আমার মেয়ে নীগান কে সামলানোর ব্যাপারে। ঠিক যে যে টাইপ ঢঙ্গের কাজগুলা করার কারনে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিসের মেয়েগুলাকে উঠতে বসতে হাঁটতে পঁচানি দিয়েছি, সেই ধরনের ঘাড় ব্যাকা করে চোখ পিটপিট করে আমার মেয়ের কথা বলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে থাকি আর ছবি তুলি মোবাইলে (বি.দ্র: আমার ডি
এস.এল.আর নাই)।
তো আমার মেয়ের ঈদে লাগবে চুড়ি। প্রায় দুই বছরের সাইজের চুড়ি খোজ করি, সাইজ পাই কিন্ত কাঁচের, স্টিল পাই কিন্ত রং পছন্দ হয়না। যা আছে কপালে, ভেবে গেলাম মৌচাক মার্কেটে। এটুক বলতে পারি, ইয়া আল্লাহ, এই রোজার মাসে যদি কেউ সংযমের পরীক্ষা দিয়ে থাকে তো উপরের দিকে আমার নাম থাকবে।
মৌচাক মার্কেটের ভিতরের এক দুই তালার সিঁড়ি আর আশে পাশে খোঁজ শুরু করলাম। আশেপাশে রীতিমতো রমনীমোহন পরিবেশ। ভাবলাম ভ্যাবলার মত না ঘুরে দেখি চুড়ি কেনে কে বা কারা, তাদের পিছে ঘুরি, এভাবেই পাওয়া যাবে। এভাবে কয়েকজনের পিছে ঘুরে আমার উপলব্ধি, যেসব পোলাপান মেয়েদের পিছে টাংকি মারতে ঘুরে, তারা যথেষ্টঈ শারীরিক শ্রম দিতে সক্ষম (শ্রম মন্ত্রনালয় এদের ব্যাপারে চিন্তা করে দেখতে পারেন)। যাহোক, ঘুরে বুঝলাম ঘুরে হবেনা, এক্সপার্ট অপিনিয়ন লাগবে। বাইরের দিকে চলে এসে তিনজন আপুর পথ রোধ করে দাঁড়ালাম। এক নিঃশ্বাসে সব ব্যাক্ষা করে বললাম, সাহায্য চাই।
যে পরিবেশ পরিস্থিতি, চাইলে ঐখানে ভুল বুঝাবুঝি হলে গণধোলাই কোন ব্যাপারই না। তিন আপার একজন চোখ সরু করে তাকিয়ে আছে, আরেকজন সানগ্লাস পড়া তাই চোখ দেখা যাচ্ছেনা; তৃতীয় জন বাকি দুইজনের দিকে আর আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিল, বলল “চলেন”
মার্কেটের ভিতরে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কোনদিকে দিয়ে যেন কই নিয়ে এলো, দেখি অনেক দোকান। এবার চোখ সরু আপা চোখ ঠিক করে বল্ল, বয়স কত? আমি বল্লাম ৩৫। এবার উনি হেসে দিয়ে বললেন “মেয়ের বয়স কত”? বল্লাম “দুই হতে দুই মাস বাকি”।
দামাদামি কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে ১২০ টাকা ডজনের চুড়ি ৬৫ টাকা করে কিনে দিয়ে চলে গেলেন

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



