আমার কিছু মেধাবী বন্ধু ছিল। বলা চলে আছে এখনো, যোগাযোগ টা একটু কম।
এইচ.এস.সি এর পর, এদের একটা বড় অংশই দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। এরপরেই ঝামেলা টা বাধে।
যেহেতু পড়ার চাপ নেই, ক্লাস শুরু হয়নি, তখন দেশে ইন্টারনেট আর মোবাইলের প্রসার তো দূরে থাক, তেমন একটা প্রচলনই হয়নি। অনেকের কাছেই কম্পিউটার তখন “একটি আধুনিক গণনা যন্ত্র”।
অনেকেই তখন বড় হওয়ার নমুনা হিসেবে সিগারেট ধরেছে, কেউ কেউ চুল বড় রাখছে। কারো কারো গীটারে হাতে-খড়ি হচ্ছে মেয়ে পটানোর পূর্ব-প্রস্তুতি হিসেবে। তো আমার সেই মেধাবী মহলের একটা অংশ চিন্তা করল একটু ঈভ-টিজিং করবে। স্থান হিসেবে বেছে নিল শাহবাগের মোড় আর শিশুপার্ক এর মাঝের পথ। যত যাই হোক, মেধাবী তো, ঈভ-টিজিং টাও তারা শুরু করল শিল্পিত রুপে। পাশে দিয়ে সুন্দরী মেয়ে হেঁটে গেলেই একজন বলে
“হরিণ সুন্দর চোখে”
পাশ থেকে বাকিরা বলে
“নারী সুন্দর বুকে”!!!
ঈভ-টিজিং এদের একসময় বন্ধ হয়ে গেল। আফটার অল মেধাবী তো! লেখাপড়ায় মন দিল, কেউ পড়তে দেশের বাইরে চলে গেল। ঝামেলা বাধালো এদের দেখাদেখি পকেটে পয়সাওয়ালা কিছু মধ্য ও নিম্ন মেধার পোলাপান! এরা আর ওই “জাল ছিড়া বাইর হইতে পারলনা”। এদের কেউ খাইল রাস্তায় মাইর, কেউ বাসায় ধরা খায়ে আটকা। তিনজন হাজতেও ছিল এক রাত, পরে ছাড়া পাইল।
এত কথা মনে পড়ল, শুনলাম অগাস্ট ১৩ নাকি এ বছরের এইচ.এস.সির রেজাল্ট দিবে। পোলাপান যে বয়সে বিগড়ায় তার মধ্যে এইটা একটা বয়েস। যারা যারা হাতের কাছে এই বয়সী ছেলে মেয়ে পরিচিত পাবেন, একটু নজরে রাখবেন কয়েকটা দিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



