আমার বাবা এক ঔষুধ কম্পানিতে কাজ করতেন। মাঝে মাঝে প্রয়োজনে আমি বাবার অফিসে যেতাম। বাবার বন্ধুরা আমাকে বলতো চোরের পোলা। আমি কিছু বুঝতাম না বাবার দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে থাকতাম একটা উত্তরের আশায়। নাহ বাবা কিছুই বলতেন না শুধু হাসতেন। মাথায় হাত রেখে বলতেন আর একটু বড় হ বাপ।
যখন আমি বুঝলাম আমি একটু বড় হয়েছি একদিন মা কে জিজ্ঞেস করলাম। মা আমাকে যে কাহিনী শুনিয়েছিলেন তা এখানে না ই বললাম। সারমম এটাই যে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবা কয়েক ভ্যান ঔষুধ চুরি করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য।
আমি কি চোরের পোলা?
মা বলেছিলেন বাবা এসব কথা কাওকে বলিসনা। তোর বাবা বিপদে পড়বেন।
আমার মায়ের মনে এত ভয় ছিলো কেন?
আমার ফুফাতো বোন ক্লাস সেভেন এ পড়ে। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তাদের। আমার ছোট ভাই সবে সেভেন পাশ করেছে বলে তার বইগুলো তাকে দেওয়া হলো। কয়েকদিন পর সে এসেজানালো সমাজ বিজ্ঞান বই বদলানো হয়েছে । ক্লাস টিচার নতুন বই আনতে বলেছেন । অতপর আমি একটা নতুন সমাজ বিজ্ঞান বই কিনে আনলাম এবং কৌতোহল বশত পাথক্যটা খুজে বের করার চেষ্টা করলাম। সারা বই তন্ন তন্ন করে কোন পাথক্য খুজে পেলাম না একটা লাইন ছাড়া যেটা নতুন যোগ করা হয়েছে:স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
কেন একটি লাইনের জন্য এই নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবার গুলোকে নতুন বই কিনতে হলো।
দূরের কনঠস্বর ভাইয়ের "আর কত"পোষ্টটা পরলাম যেখানে তিনি লিখেছেন আমরা দেশ থেকে শুধু নিয়েই যাচ্ছি কিছুই দিচ্ছিনা।
কিন্তু যে মানুষগুলো কমলাপুর ষ্টেশনে রাত কাটায় তারা দেশ থেকে কি নিয়েছে বা নিচ্ছে?
সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দেশকে দিয়ে যাচ্ছে । তাও দু মুঠো ভাত জোটেনা। সেই 72 থেকে তারা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যা পেয়েছেন বা পাচ্ছেন তাতো আমার বাবার উদাহরণ থেকেই বুঝা যায়।
যে ফ্যসিলিটিগুলোর কথা বললেন সেগুলো ও এক শ্রেনীর শোষক লোকের জন্য।
আমি আপনার সাথে একমত কিন্তু এই মুটে মজুররাতো দেশকে দিয়ে যাচ্ছেন তাতো আমরা অস্বীকার করতে পারিনা।
আর মুক্তিযুদ্ধ?
সেতো আমরা ভূলতে বসেছি।
সবকিছুর পরে ও আপনার সাথে গলা মিলাই
ভালোবাসি তোমায় সুপ্রিয় স্বদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



