বিটুলদার সাথে পরিচয় কলেজে।রাশিয়া হয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন।বয়স চলি্লশ ছুই ছুই করছে।ইংলিশ ফাউন্ডেশন কোসে ভতি হওয়ার সুবাদে আমার ক্লাসমেট। বাসা নিয় বেশ কিছুদিন ধরে সমস্যায় আছি। বিটুলদা বললেন তার রুমে উঠতে।ভাড়াও ভাগ করে দিলে সাধ্যর মধ্যে।উপায় না দেখে উঠে পড়লাম পরের সপ্তাহে।
মানুষকে দূরে থেকে যতটা ভাল মনে হয় কাছাকাছি আসলে ততটা ভাল না লাগতেও পারে।কিন্তু আমি মানিয়ে চলতে জানি।সবকিছু মানিয়ে চললাম বিটুলদার সাথে।রাতে ঘুমানোর সময় একে অন্যের পারিবারিক কথা শেয়ার করতাম।এ কথা সেকথায় একদিন "পম" (আমার ইয়ের নাম)কথাও বলে ফেললাম। সে হিন্দু আর আমি মুসলিম হওয়া সত্তেও আমাদের সম্পর্ক কিভাবে হয়েছিলো সেটাও বললাম।
আর সেটাই বিটুলদার মনে হিংসার যোগান দিলো।
বেশকিছুদিন ধরে আমি পমকে ইংল্যান্ডে পড়ার জন্য আসার ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছিলাম।একসময় জোর করাতে সে তার পাসপোর্ট এর কপি ও অন্যান্য পেপারগুলো পাঠায়।বিটুলদার কাছে হেলপ চাইলে তিনি বললেন তার পরিচিত এক কলেজ থেকে সব করে দিবেন মাস খানেকের মধ্যে। আমি ও উনাকে বিশ্বাস করে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কিছুদিন পর পমকে ফোন করলাম।এটা সেটা বলার পর সে বলল গত দুদিন আগে তাদের বাসায় একটা চিঠি এসেছে তার বাবার নামে।কোন ঠিকানা নেই।লন্ডন থেকে পোষ্ট করা।তার বাবা সপ্তাহ ানেকের জন্য বাড়ী ছিলোনা আর পম দরকারী কিছু আছে কিনা দেখার জন্য চিঠি খুলে ফেলে।চিঠিতে লিখা আছে যে "আপনার মেয়ে এক মুসলিম ছেলের সাথে পালানোর চেষ্টা করছে। ছেলেটি লন্ডনে থাকে এবং আপনার মেয়েকেও পড়ার নাম করে এখানে নিয়ে আসার ব্যাবস্থা করছে।"আরো অনেক কিছুই লিখা ছিলো চিঠিতে আর সাথে পমের পাসপোটের ফটোকপি।
পম জিজ্ঞেস করলো আমি তার পাসপোটের কপি কাউকে দিয়েছি কিনা।আমি উলেটা তাকে প্রশ্নটা করে বসলাম।সে বলল সে পাসপোটের একটাই কপি করেছিলো এবং সেটা আমার কাছে পাঠিয়েছে।কিন্তু আমিতো সেই কপি একমাত্র বিটুলদাকেই দিয়েছিলাম।ব্যাপারটা আমি দেখবো বলে তাকে আশ্বস্ত করলাম।
রাতে বিটুলদার সাথে কথা হলো এটাসেটা নিয়ে। একসময় উনাকে বললাম পমের পেপারসগুলো অন্যের হাতে যাতে না যায়। বিটুলদা বললেন তিনি সেগুলো কলেজে জমা দিয়ে দিয়েছেন।তবে কলেজ এই পেপারসগুলোতে সন্তুষ্টনা। এডমিশন দেয়ার সম্ভবনা কম।আমি কিছুই বললাম না।
পরের সপ্তাহের রবিবারদিন আমি ফ্রি ছিলাম রুমে। বিটুলদা কোথায় গেছেন বলে যাননি। রুমের এক কোনায় হুবারটা পড়ে ছিলো বিটুলদার লাগেজর পাশে।কাপেট পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে যেই হুবারটাতে হাত দিয়েছি অমনি চোখ আটকে গেলো একটা কাগজের কোণায় যার বাকি অংশ বিটুলদার লগেজের তলায়।টেনে বের করে আনতেই দেখি পমের পাসপোটের ফটোকপিআর পেপারসগুলো।উলেটা পিঠে পমের চোট্ট করে লেখা নামটাও রয়েছে।এইগুলাই সেই কপি পমের এডমিশনের জন্য বিটুলদাকে যেগুলো আমি দিয়ছিলাম।
নিজের ধমের একটা মেয়ে অন্য ধমের একটা ছেলের সাথে পালিয়েযাবে এটা বিটুলদার সহ্য হয়নি।
নাহ বিটুলদাকে কোন প্রশ্নই করিনি। বিনা নোটিশে পরের সপ্তাহেই বাসা ছেড়েছি।কলেজেও বদলিয়েছি পরের মাসেই।
ঐ ঘৃণিত চেহারা দেখার ইচ্ছে আমার ছিলোনা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


