জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন একথা আজ সকল বাঙ্গালীরই জানা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জামায়াত নেতা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য তার নিজ এলাকায় আলবদর, আলশামস এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করে এবং তাদের সরাসরি সহযোগিতা করেন। তখন তিনি কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তবে তথাকথিত মওলানা হিসেবে তিনি তার স্বাধীনতা বিরোধী তৎপরতা পরিচালনা করেছেন। তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে লুটতরাজ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং নির্বিচারে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছেন। সাঈদীর পরামর্শ পরিকল্পনা এবং প্রণীত তালিকা অনুযায়ী এলাকার বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের পাইকারি হারে নিধন করা হয়। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অপকর্ম করেই ক্ষান্ত হননি। পবিত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে একজন মওলানা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অপকর্ম করেছেন। নির্বাচনে তিনি অবশ্য জয়লাভ করেছিলেন। তার জয়লাভের পিছনে কারণ ছিল সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার, হিন্দুদের উপর নির্যাতন, ভোট চুরিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ। তার এই অপকর্মের কথা শুধু বাঙ্গালীরাই নয় পৃথিবীর অনেক দেশের লোকজনও জানে। আজ ৪২ বছর পর সেই ভণ্ড, অসৎ কুলাঙ্গার মানুষটিকে আদালত সঠিক ও যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড রায় দিয়েছেন। শুধু সাঈদী নয় সেই ৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সাহায্য সহযোগিতা ও বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল বর্তমান জামায়াত ও বিএনপির অনেক বড় বড় নেতারা। যারা আজ যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে বাংলার মানুষের কাছে স্বীকৃত। এদের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজনকে বিচারের কাঠগড়ায় আনতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। রায়ও ঘোষণা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের। কিন্তু সেই রায় কার্যকর এখনো অসমাপ্তও। সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ এই কার্যক্রমের জন্য বাংলার জনগণ বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আর যারা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তাদেরকেও বিচারের কাঠগড়ায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে ইতিহাসে এ ধরণের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জনগণের অকৃত্তিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান ও বিশ্বস্ততা আরও সুনিবিড় হয়ে উঠবে, কিন্তু এখন বাঙ্গালী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিচারের এই রায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য। সুতরাং এই রায় যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা উচিত এবং এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেই এদেশের মানুষের সেই বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত হবে।
দেলোয়ার হোসেন সাঈদী একজন ভণ্ড প্রতারক ধর্ম ব্যবসায়ী
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....
দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...
তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।