হেফাজতের নেতাকর্মীদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা অনুদানের বিপুল অর্থ এখন কোথায়? এ প্রশ্ন নিয়ে শীর্ষনেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। হেফাজতের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে আমিরের ছেলেসহ কয়েক নেতার সম্পদের পাহাড় গড়া নিয়েও শুরু হয়েছে বিরোধ। দেশ ও বিদেশ বিশেষত সৌদিআরব, কাতার, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিপুল অর্থ সহায়তার কিছুই না পেয়ে ক্ষুব্ধ আহত ও নিহতদের পরিবারগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন যে, নেতারা আসলে কওমি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসা করতে চায়। এরা মাদ্রাসার আহত, নিহত ছাত্রদের নামে টাকা আনলেও তা পায় না ভুক্তভোগীরা। এর আগে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তদন্তেও হেফাজতের পক্ষ থেকে সংগঠনের আহত-নিহতদের সাহায্য না করার প্রমাণ মিলেছিল। হেফাজত ও মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্রদের ব্যবহার করে নেতাদের রাজনীতি করা, অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড়গড়া ও কওমি মাদ্রাসার সরকারী সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্র-অভিভাবকরা। নেতাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ হয়ে পড়ায় হেফাজতের প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন শিক্ষক-ছাত্র ও তাদের অভিভাবকরা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই হেফাজত নেতাদের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী, সমর্থক, ভক্ত ও অনুরাগীরা। গ্রগতিবিরোধী ১৩ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৫ মে ২০১৩ সংগঠিত অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কথা বলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এসব আর্থিক সহায়তা আনা হয়। কওমি মাদরাসার প্রবাসী ছাত্র-শিক্ষক, ধর্মভিত্তিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যাংকে, হাতে-হাতে এ বিপুল পরিমাণ টাকা প্রদান করেছেন সংগঠনটির সদর দপ্তর হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায়। তবে আজ পর্যন্ত এসব অর্থের কোন হিসাব দিতে পারেনি হেফাজত কিংবা হাটহাজারী মাদরাসা। আন্দোলন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় কোটি কোটি টাকা এসেছে নামে-বেনামে। এসব অর্থ পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হেফজাতের শীর্ষনেতারা। ৫ মে পর কয়েকজন নেতার উত্তরোত্তর উন্নতি হয়েছে। কেউ ফ্ল্যাট কিনেছেন। কেউ সারা মাসই গাড়ি ভাড়া করে চলেন। স্বয়ং আনাস মাদানি বাড়ি করছেন অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে। অথচ অনুদান সংগ্রহ করা হলেও ৫ মে নিহতরা কোন সাহায্য পায়নি।
নিহতদের নামে বিদেশ থেকে আনা কোটি কোটি টাকায় ফ্ল্যাট কিনছে হেফাজত নেতারা। অথচ এখনো পর্যন্ত নিহতরা সামান্য কোন সাহায্য পায়নি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....
দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...
তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর
আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন
Sajna

Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন
বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।