somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমতায় থাকাকালীন খালেদা জিয়ার হিংস্র থাবায় যেমন জ্বলেছিল, ক্ষমতায় না থেকেও জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে দেশ ও জনগণকে। আবার মুখে ফেনা তুলছে গণতন্ত্র রক্ষার, এ যেন “ভুতের মুখে রাম নাম”

১২ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ শহরের ছায়াবানী, অজন্তা, অলকা ও পূরবী সিনেমা হলে বোমা হামলা করে বিএনপি মদদ পুষ্ট জেএমবিরা। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামীলীগের সমাবেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত ও ঘৃন্য গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বীভৎস মৃত্যুপুরীতে পরিনত করেছিল খুনীর দল বিএনপি। এই পৈশাচিক হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমান সহ চব্বিশ জন। আর আহত হয়েছিলেন প্রায় ৪০০ নেতা কর্মী। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম.এ.এস কিবরিয়া সহ ৫জন। আর এগুলোই ছিল কি বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের গণতান্ত্রিক দেশে শাসন ব্যবস্থা? ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট। সারা দেশেই স্বাভাবিক জীবন যাপন চলছিল। সকাল ১১ টাথেকে সাড়ে ১১ টার মধ্যে দেশের ৩৫০টি স্থানে পাঁচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলায় প্রকম্পিত হয়ে উঠে সারা দেশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে একেক এলাকায় বোমা হামলা চলতে থাকে। জামায়াত-বিএনপি জোট বিগত আন্দোলনে শিশুদের ব্যবহার করে ৩৭ টিনিষ্পাপ শিশুর জীবনের করুণ পরিণতি ঘটায়। শিশুদের রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহারের বিষয়টি দেশের মানুষের পাশাপাশি জাতিসংঘ থেকেও জোর প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও বন্ধ করেনি তাদের এই অপকর্ম। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিবেদিত প্রাণ সেই পুলিশ বাহিনীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারছে জামায়াত-বিএনপি জোটের ক্যাডাররা। বিএনপি-জামায়াত এর ক্যাডারদের বর্বর আক্রমনে দাউ দাউ করে জ্বলেছে যাত্রীবাহী বাস ও সবজিবাহী ট্রাক। আবার তারা মুখে বলে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে। এটাই কি তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের নমুনা? স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বলেছে, প্রয়োজন হলে আগামীতে নাকি তারা দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেবে। অন্যদিকে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেকটা একই সুরে ইদানিং বিভিন্ন সভায় বলছেন, প্রয়োজনে তিনি নাকি দেশকে অচল করে দেবেন। দেশ অচল কাদের জন্য করবেন? জনগণের জন্য নাকি ক্ষমতা দখলের জন্য? হুমকিগুলো মূলত পরোক্ষভাবে জনগণকেই দেয়া হয়েছে বলা যায়। কারণ তারা যদি আগামীতে সত্যি সত্যি দেশের পরিস্থিতি জ্বালাও-পোড়াও এর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তাহলে সরকারের চেয়ে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও জনগণেরই ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। বেগম খালেদা জিয়া দেশ বাঁচানোর স্লোগান মুখে মুখে বললেও আসলে তিনি পরোক্ষভাবে দেশের ক্ষতি করার পরিকল্পনায়ই করছেন। অতীতে কোন এক সভায় তিনি সেনাবাহিনীকে দেশের হাল ধরার ইঙ্গিত পর্যন্ত দিয়েছিলেন। একদিকে নিজেকে আপোসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করবেন আর অন্যদিকে একটি অগণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় আসার ডাক দেবেন এ কি করে হয়? তার মানে একটি বৈধ নির্বাচিত সরকারকে হটাতে প্রয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া দেশে সেনাশাসনকে সমর্থন দিতেও রাজি আছেন। একই মুখে দুরকম বক্তব্য। এসবের নেপথ্যের কাহিনী এমন দাঁড়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হত্যা করছে এবং কিছু সংবাদপত্র আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতিও ঠিকই একই পন্থায় হত্যাকান্ড, গুমের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছে, পাশাপাশি মুখে ফেনা তুলছে গণতন্ত্র রক্ষার। এত দেখছি “ভূতের মুখে রাম নাম”।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×