গত বছর 35 বছরে বাংলাদেশের কথা বলতে গিয়ে প্রায় সবাইকেই একটা পোড়োবাড়ীর গল্প বলতে হয়েছিল। চারপাশের বাতিগুলো নিভে আসছিলো। অনিশ্চয়তার ল্যাবিরিন্থে আটকে থাকা একটা উপায়হীন জাতির সামনে আশা জাগানোর মতো কোন পথ খোলা ছিল না। কে জানতো এত অল্প সময়ে এমন একটা মিরাকল ঘটে যাবে যে আবার স্বস্তি এবং প্রত্যাশার একটা ক্ষেত্র তৈরী হতে পারে।
ফখরুদ্দীন সরকারকে একটা মিরাকলই বলতে হবে। একজন শিক্ষিত রুচিবান দেশপ্রেমিক নেতা (অনির্বাচিত হলেও) এই মুহুর্তে জরুরী ছিল। দুর্নীতিবাজ নেতারা যখন কারাগারে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে যখন ক্র্যাশ অপারেশন চলছে তখন একটা সুষম সমাজের প্রত্যাশা উঁকি দিচ্ছে অনবরত।
দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। যদিও বাজারদর এখনো নিয়ন্ত্রনের বাইরে। তবে দুর্নীতিবাজরা দামী গাড়ী-কালো টাকা রাস্তায় ফেলে যাচ্ছে- এটা একটা প্রতীকী ঘটনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিবারতন্ত্রের রাজসিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
এখন পর্যন্ত ফখরুদ্দীন সরকার সাধুবাদ পাবার মত পারফর্মেন্স বহাল রেখেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মতই।
কিন্তু বাংলাদেশের সরল বিশ্বাস প্রবন জনমানুষ বারবার এত বেশী প্রতারিত হয়েছে এবং ধোকা খেয়েছে যে চুন খেয়ে মুখ পুড়ে পুড়ে দই খেতেও ভয় হচ্ছে। ঘর পোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়।
ফখরুদ্দীন সরকারের আবির্ভাবের আগের মুহুর্ত পর্যন্ত কেউ ধারণা করতে পারেনি বাংলাদেশ এভাবে রাজনৈতিক রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হবে।
রাজনীতিবিদদের শোধন প্রক্রিয়া চলছে, এছাড়া উপায় ছিলনা। যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ, রাজনীতির এই রাবণবাদ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার এখনই সময়।
সপ্তম আশাভঙের বেদনা সম্ভবত বাংলাদেশের মানুষ নিতে পারবেনা। এটাই সম্ভবত শেষ সুযোগ। ফখরুদ্দীন সরকার যদি সত্যিই দেশ প্রেমিক সরকার হয়ে থাকেন, বিশ্বব্যাংক-ওয়াশিংটন এবং সামরিক সমর্থনের নেতিবাচক গুজব যদি মিথ্যা হয়, তাহলে আমরা আবার স্বপ্ন দেখতে সাহসী হতে পারি।
অধ্যাপক ইউনূস আপাতত নীরব। সেটাও স্বস্তির বিষয়। কারণ কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতার কারণে সমস্ত রাজনীতিবিদকে অপমান করার অথরিটি এমনকি নোবেল সার্টিফিকেটও নয়।
বাংলাদেশে কিছুই হয়নি তাতো নয়। গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের বাইরেও বিশাল দারিদ্র দূরীকরণ হয়েছে সরকারী বেসরকারী প্রচেষ্টায়। গার্মেন্টস সেক্টর বিকশিত হয়েছে বিএনপি আমলে, কৃষিতে বাম্পার ফলন হয়েছে '96-2001, আওয়ামী লীগের আমলে। এরশাদ আমলে যোগাযোগ অবকাঠামোর যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি সমুন্নত রয়েছে। গরীবী ভারতের চেয়ে কম। কাজেই 35 বছরে কিছুই হয়নি এরকম নেতিবাচক মন্তব্য করার মত অধিকার কারো নেই।
এখন ফখরুদ্দীন সরকার যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে, ভোট কেনা-বেচার সংস্কৃতির বাইরে জনগন যদি যোগ্য নেতা (শাসক নয়) নির্বাচনের সুযোগ পায়, এই মুহুর্তে আমরা নিশ্চয়ই আশাবাদী হতে পারি।
তবে পাকিস্তানে মুশাররাফ যেরকম উর্দির গনতন্ত্র জারী রেখেছেন তাতে মুখ উজ্জ্বল হয়নি ইসলামাবাদের। ভারতের মনমোহন সিংকে দেখলে গনতন্ত্রের একটা প্রতিভূ এবং প্রতীকী চেহারাই ভেসে ওঠে। যেকারণে ভারত বিশ্বরাজনীতিতে সম্মানের জায়গায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ঐরকম সম্মানের জায়গা চায়। গনতন্ত্রের দেশ হিসেবে পরিচয় চায়। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের গ্রহন থেকে গনতন্ত্রকে বের করে নিয়ে আসতে নিশ্চয়ই খানিকটা সময় লাগবে। কিন্তু মুশাররাফের মতো দীর্ঘসূত্রিতা যেন পেয়ে না বসে ফখরুদ্দীন সরকারকে।
কবরস্থানের শান্তি নয়- বাংলাদেশের মানুষ চায় স্বাভবিক শান্তি। দেখুন না চেষ্টা করে ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। ইতিহাসে একটা উজ্জ্বল জায়গা হয়তো অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।
----------------------
[গাঢ়]সংক্ষেপিত ঃ [/গাঢ়]
পুরো অংশটুকু পড়ুন nvRvi`yqvixi 26-শে মার্চের সংখ্যায়
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




