আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি তার সর্ম্পকে আমরা কতটুকু জানি? আমাদের যে পৃথিবী তা সৌরজগতের একটি গ্রহ হলেও এর রয়েছে সুচনা কাল। বিজ্ঞাণীরা বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবী সম্পর্কে নানা রকম তথ্য দিয়েছেন। পৃথিবীর বয়স, আয়তন, ব্যাস, ওজন সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলেও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে দেয়া তথ্য মসুহের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত বিগ ব্যাঙ থিউরি। তবে এ নিয়ে সন্দেহ এখনো কাটেনি। বিজ্ঞাণীরা আশা করছেন যে, খুব শিঘ্রই এ বিষয়ের সমাধান হতে পারে। আমাদের প্রত্যাশাও ঠিক তাই নয় কি? আমরা আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারব, তা আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের।
আমাদের পৃথিবীর বর্তমান বয়স ৪,৫০০ মিলিয়ন বছর (প্রায়)। এর আয়তন ৫১,০১,০০,৫০০ বর্গ কিলোমিটার। পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,২৩৪ কি: মি: বা ২৫,০০০ মাইল। পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৭৬৫ কি: মি:। সুতরাং ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৪৩৬ কি: মি:। পৃথিবীর জলভাগের আয়তন প্রায় ৩৬,১১,৪৮,২০০ বর্গ কি: মি:। আর স্থলভাগের আয়তন প্রায় ১৪,৮৯,৫০,৩২০ বর্গ কি: মি:। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭১ ভাগ জলভাগ আর ২৯ ভাগ স্থলভাগ।
কেপলার মতবাদ অনুসারে আমাদের পৃথিবী সৃর্যকে পদক্ষিণ করছে। তার মানে হল সৌরজগতের মুল কেন্দ্র সুর্য। সুর্যকে কেন্দ্র করে ঘুর্ণায়মাণ সকল গ্রহ। আমাদের গ্রহ পৃথিবী সৃর্যকে পদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। আর পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট। অর্থাৎ প্রায় একদিন। আর সুর্যকে পদক্ষিণ করা নিয়ে পৃথিবীতে সৌর বছর গণনা করা হয়। তার মানে প্রতি বছর ৩৬৫ দিন হিসেব করা হয়। কিন্তু একটা গন্ডগল থেকেই যায়। অর্থাৎ বাকি ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। সে কথা বলছি একটু পরে।
আমরা জানি, ২৪ ঘন্টায় একদিন। দিনের হিসেব করা হয় পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর আবর্তনের সময় নিয়ে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আমরা দিনের হিসেবটা পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর আবর্তনের সময়ের চেয়ে বেশী হিসেব করি। সে হিসেব টা প্রায় ৪ মিনিট বেশী। প্রতিদিন এভাবে ৪ মিনিট করে বেশী হিসেব করায় আমরা সৌর বছরের হিসেবে একটা গোলমাল বেধে যাচ্ছে মনে হলেও আসলে কিন্তু সব ঠিকই আছে। অর্থাৎ আমরা সৌর বছর হিসেব করতে গিয়ে যে, ৫ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড হিসেবের বাইরে রেখেছি তা কিন্তু নয়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৪ মিনিট করে বেশী হিসেব করে আমরা প্রতি ৪ বছরে একটি দিন বেশী হিসেব করে ফেলি। আর সে জন্য ৪ বছর পর পর সৌর বছর হিসেব করা হয় ৩৬৫ এর পরিবর্তে ৩৬৬ দিনে। আর এ বছরকে অধিবর্ষ বলা হয়। এ জন্য প্রতি ৪ বছর পর পর ফেব্রুয়ারী মাস হয় ২৯ দিনে। আর এ জন্য যাদের জন্ম হয় ২৯ ফেব্রুয়ারী তাদের জন্মদিন আমাদের মত প্রতিবছর আসেনা। তাদের জন্মদিন পালন করতে হয় ৪ বছর অন্তর।
সৌর বছর হিসেবে আমরা ইংরেজী বছর নয় শুধু আমরা আমাদের বাঙলা বছরকে হিসেব করি সৌর বছর হিসেবে। আর এ জন্য প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল কিন্তু বাঙলা নববর্ষ অর্থাৎ ১ বৈশাখ উদযাপন করে থাকি।
আমাদের দেশে ইংরেজী অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় এবং বাঙলা ক্যালেন্ডারের পাশা পাশি আরও একটি ক্যালেন্ডার প্রচলিত আছে, তার নাম হিজরী ক্যালেন্ডার। হিজরী সন গণনা করা হয় চন্দ্র বছর নিয়ে। প্রশ্ন হল যে, চন্দ্র বছর আবার কি?
আমাদের পৃথিবী যেমন সুর্যকে পদক্ষিণ করছে প্রতিনিয়ত, ঠিক তেমনি আমাদের পৃথিবীকেও পদক্ষিণ করছে কেউ না কেউ। তবে সে সংখ্যা অন্যন্য গ্রহ সমুহের মত বেশী নয়। অর্থাৎ মাত্র একটি উপগ্রহ আমাদের পৃথিবীকে পদক্ষিণ করছে। উপগ্রহটির নাম হল চন্দ্র। আমরা যাকে রাতের বেলায় চাঁদ হিসেবে দেখি। চন্দ্র প্রতি ২৯ দিনে একবার পৃথিবীকে পদক্ষিণ করছে। তবে তা সৌর বছরের মত মাঝে মাঝে ৩০ দিনে গড়ায়। অর্থাৎ সময়ের হিসেব করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ৩০ দিনে গড়ায়। আর চন্দ্র বর্ষকে নিয়ে গণনা করা হয় হিজরী ক্যালেন্ডার।
যে সুর্য এবং চন্দ্র কে নিয়ে আমরা এত কথা পড়লাম এবার জেনে নেব, আমরা তাদের থেকে কত দুরে অবস্থান করছি। আমরা যাকে পদক্ষিণ করছি অর্থাৎ সুর্য় আমাদের থেকে ১৪,৯৫,০০,০০০ কি: মি: (প্রায়) গড় দুরত্বে অবস্থান করছে। আর যে আমাদের কে পদক্ষিণ করছে অর্থাৎ চন্দ্র আমাদের থেকে ৩,৮৪,৪০০ কি: মি: গড় দুরত্বে অবস্থান করছে। তবে তারাও কিন্তু থেমে নেই অর্থাৎ প্রত্যেকে নিজ নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করছে।
আজ এ পর্যন্ত। আবার দেখা হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



