জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে ডিফেন্সপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, উভয়পক্ষের সাক্ষীদের দেয়া তথ্য থেকে প্রমাণ হয়েছে যুদ্ধকালে কাদের মোল্লা ঢাকাতে ছিলেন না। অন্যদিকে ভোটার আইডি কার্ডে উল্লেখ করা জন্ম তারিখ অনুযায়ী প্রসিকিউশনের এক নারী সাক্ষী নূরজাহানের জন্ম ১৯৭৬ সালে। অথচ এই সাক্ষী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের নানা অপরাধের সাথে কাদের মোল্লাকে জড়িত করে সাক্ষ্য দিয়েছেন যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ মামলার অপর এক সাক্ষী মোমেনা বেগম নামে ট্রাইব্যুনালে যে সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি আসল মোমেনা বেগম ছিলেন না বলেও ডিফেন্স আইনজীবী যুক্তি ও প্রমাণ তুলে ধরেন। গতকাল দুপুরের পরে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী ‘ল' পয়েন্টে তার আর্গুমেন্টের সামারি তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ডিফেন্সটিমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বিভিন্ন ‘ল' পয়েন্টে বক্তব্য তুলে ধরবেন।
এছাড়া এ মামলায় ডিফেন্সপক্ষে ৬ জনের দেয়া সাক্ষ্য থেকেও একথা স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, কাদের মোল্লা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ৩/৪ দিন পরেই ফরিদপুরে চলে যান। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতেই তিনি ফরিদপুরে অবস্থান করেছেন এবং সেখানে চৌদ্দরশি বাজারে ব্যবসা করতেন। কাজেই যুদ্ধকালে মিরপুরে এবং কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ঘটনার সাথে কাদের মোল্লাকে জড়িত করে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর সাথে কাদের মোল্লার দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না। ডিফেন্স এবং প্রসিকিউশনের উভয় পক্ষের সাক্ষীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এটাও প্রমাণ হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতে কাদের মোল্লা ঢাকাতেই ছিলেন না।
গতকাল বুধবার শুনানিতে অংশ নিয়ে আবদুস সোবহান তরফদার আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগেরই প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী নেই। এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ১২ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দিলেও সাক্ষীদের কেউই কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগেরও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য তারা দিতে পারেননি। প্রায় সব সাক্ষীই বলেছেন, তারা অন্যের কাছে এসব অভিযোগের কথা শুনেছেন মাত্র। কোনো ঘটনারই তারা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নন।
আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৮নং সাক্ষী নূরজাহান ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিলেও ডিফেন্স আইনজীবী গতকাল শুনানিতে বলেছেন, এই সাক্ষীর জন্ম হয়েছে ১৯৭৬ সালে। অথচ কাল্পনিকভাবেই এই সাক্ষী ১৯৭১ সালের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন (!) ভোটার আইডি কার্ডে উল্লেখিত জন্ম তারিখ থেকেই এই তথ্য উদঘাটন হয়েছে বলেও আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে জানান। একই সাথে এই সাক্ষী দীর্ঘ ৪২ বছর পরে এসে ঢাকায় উপস্থিত আসামী কাদের মোল্লাকে চিনতে পারার বিষয়টি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই আইনজীবী।
আবদুস সোবহান তরফদার বলেন, প্রসিকিউশনের এক সাক্ষী বলেছেন, কাদের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধকালে মিরপুরে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে ফরিদপুরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। আইনজীবী প্রশ্ন তুলেন যুদ্ধকালের কোনো অপরাধের অভিযোগে কাদের মোল্লা গ্রেফতার হয়ে থাকলে তিনি কোনোভাবেই ছাড়া পেতেন না। যেহেতু তিনি ছাড়া পেয়েছেন এবং বিশেষ করে ঐ সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা শাহজাহান তালুকদার ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লুৎফুল কবীর নিজেরাই কাদের মোল্লাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন কাজেই এতে প্রমাণ হয়, তিনি (কাদের মোল্লা) যুদ্ধকালে কোনো প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। আর যদি তিনি জড়িত থাকতেনই তাহলে কোনো অবস্থাতেই ঐ সময়ে ছাড়া পাবার কথা ছিল না।
গতকাল ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত আর্গুমেন্টে ডিফেন্সপক্ষের আইনজীবী বলেন, আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত এই মামলায় যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে এর প্রায় সবকটি অভিযোগই সাক্ষীরা অন্যের কাছে শুনেছেন। বিশেষ করে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ৬টি চার্জের মধ্যে বেশিরভাগ অভিযোগের কথাই সাক্ষীরা অন্যের কাছে শুনেছেন। তারা কেউই প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষী নন। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে অপর দু'সদস্য মুজিবুর রহমান মিয়া ও শাহিনুর ইসলাম আর্গুমেন্ট শুনানি রেকর্ড করেন। তবে দুপুরের পরে শুনানিতে চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



