somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অটোরিকশার প্রকাশ্য চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই!

১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অটোরিকশা- যাকে আমরা আদর করে ডাকি সিএনজি। এমন বাহন যারা চালান, তাদের প্রকাশ্য চাঁদাবাজির জন্য নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। সিএনজি অটোরিকশার এমন অত্যাচার চলতে থাকলে অদূর ভবিষত্যে গণআন্দোলন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ওই আন্দোলনের আগেই সচেতনতা এবং আন্দোলন প্রতিরোধের জন্য আজকের এই পোস্ট। কেননা আমরা আন্দোলনকে বড় ভয় পাই। এটি দেশের অগ্রগতির লাগাম পেছনে টেনে নিচ্ছে।



নগর জীবনের জন্য অটোরিকশা অতি প্রয়োজনীয় একটি বাহন। এই বাহনের কদর ছিল, আছে এবং থাকবে। অতীতে যখন টু-স্ট্রোক অটোরিকশা (বেবিট্যাক্সি) ছিল, তখন কোনো ভাড়ার মাপকাঠি ছিল না। তবে চালকরা নিতান্তই মানবিক ছিল বলে ইনসাফের সাথে ভাড়া চাইতেন, আবার পেসেঞ্জারের সাথে ভাড়ার দরকষাকষিতে তারা ভাড়া কমাতেন এবং ন্যায্য ভাড়া দিয়ে টু-স্ট্রোক অটোরিকশা (বেবিট্যাক্সি) চলাচল করত। বলাবহুল্য, তখন নগর জীবনে এতটা চাহিদা ছিল না বলে চালক ও পেসেঞ্জার উভয়েই স্বস্তিতে যাতায়াত করতেন কোনো ধরনের বিড়ম্ভনা ছাড়াই।



এরপর শুনলাম টু-স্ট্রোক অটোরিকশার পরিবর্তে নগরে যুক্ত হবে ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা (সিএসজি), যা আমদানি করা তেল ব্যতীত দেশের গ্যাস সম্পদ দিয়েই চলবে। আবার কালো ধোঁয়ামুক্ত এই বাহন পরিবেশবান্ধব বিধায় বাহনের গায়ের রং সবুজ করা হলো। যদিও বিআরটিএ’র আইন মতে, ভাড়ায় চালিত বাহনের ছাদ হলুদ রাখার বিধান ছিল।

আধুনিক নগরজীবনে ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছিল এবং পেসেঞ্জারের অধিকারের কথা মাথায় রেখে ওই বাহনে মিটার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত ভাড়া মিটারে হিসাব করে পরিশোধ করে নতুন বাহনে ভ্রমণ করার অনুভূতি আজও মনে করিয়ে দেয়- আমরাও সভ্য হতে চলেছি।

কিন্তু কিছুদিন পর নতুন আবদার- সিএনজি নিতে ওই বাহনের সময় নষ্ট হয়। তাই মিটার থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। যাই হোক, চালকদের মানবিক আবেদন মেনে নিয়ে যাত্রীরা আরামের সিএনজিতে চড়ে বেড়াতেন।

বাঙালি জাতি বসতে চাইলে খেতে চায়, খেতে চাইলে শুতে চায়। আর ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা চালক বরাবরই বাঙালি জাতির জীন বহন করে চলছেন। তাদের নতুন আবদার- গাড়ি মালিকের জমা বেশি, তাই ভাড়াও বেশি, মিটার থেকে ২০ টাকা বা প্রয়োজনে আরও বেশি। যর্থাথই মানবিক আবেদন। আর বাঙালি জাতির আরেক গুণ সহ্যশীলতা ও সহনশীলতা। তাই বেশি ভাড়ার ভার সহন করে নিয়ে যাত্রীরা চলছেন।

এদিকে যাত্রী হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া প্রতিরোধে মেট্রোপলিটন পুলিশ কিছু মোবাইল নাম্বার বিতরণ করল, যাতে করে যাত্রীরা পুলিশের কাছে অভিযোগসহ প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্যে নিতে পারেন। এখানেও বিপত্তি। বাংলাদেশের পুলিশ বলে কথা! পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নাম্বারে আর কলও যায় না, পুলিশও অভিযোগ পায় না। আমি নিজে কয়েকবার পুলিশকে ফোন করে শুধু একবার পেয়েছি।যদিও সমাধান পাইনি।

বাঙালি জাতির সহ্য ক্ষমতা অনেক। বাঁধ ভেঙে গেলেও প্রতিকার নেই বিধায় বেশি ভাড়া পরিশোধ করে যাত্রীরা নিজের প্রয়োজন মিটাচ্ছেন। আর সিএনজি অটোরিকশা চালকরা বেশি ইনকাম করে টাকা উড়াচ্ছে। এখন আর বেশি জায়গায় (ক্ষ্যাপ মারা) যাতায়াত করতে হয় না। অল্পতেই ভালো ইনকাম হয় বলে অবসরে বিশ্রামের সময় তাদের আর শেষ হয় না। তাই তো পছন্দের জায়গায় ছাড়া তারা একদম অন্যত্র যেতে চায় না, তা যতই সাধারণ যাত্রীর তাড়া থাকুক না কেনো। আর ভাড়া, সে তো ভয়ের বিষয়! এখন ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা ভাড়া আর মিটারকে স্পর্শ করে না। মিটার থাকে মিটারের জায়গায়। মিটারে রিডিংকৃত ভাড়ার দিগুণ বা তিনগুণেও চালকের মন/উদর ভরে না। চাই কমপক্ষে চারগুণ ভাড়া বা তারও বেশি সমপরিমাণ ভাড়া। তা না হলে ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশায় চড়া নিষেধ। যে জায়গায় ভ্রমনে সাধারণত মিটারে ৫০ টাকা উঠে, সেই জায়গায় চালক ভাড়া হাকায় ২৫০ টাকা। এরপর রফাদফা করে হয়তো ২২০ টাকায় যাত্রীকে ভ্রমন করতে হচ্ছে। এতো ভ্রমন নয় যেন কাঁটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা। ইদানিং সরকারের মহান উদ্যোগে ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়েছে, কমেছে রাস্তার দৈর্ঘ্য। এখানে অটোরিকশা চালকদের আরও মজা। যাত্রাপথ কম, ইনকাম বেশি। অর্থ্যাৎ অটোরিকশা ফ্লাইওভার স্পর্শ করলেও ভাড়া আগের মতই।

এদিকে সাধারণ মানুষের ইনকাম বাড়ছে না। বাড়ি ভাড়া/দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পাল্লা দিয়ে গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি জনজীবনকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলছে। বিশেষ করে যেসব স্বল্পআয়ের সাধারণ মানুষ গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে চিকিৎসা সহ অন্যান্য কাজের জন্য, তারা দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁচাচ্ছে বর্ধিত ভাড়া দিয়ে। আবার জনজীবনে অন্যান্য প্রয়োজনে নাগরিকদেরকে অতিরিক্ত ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশায় চড়তে হচ্ছে।

সিএনজি চালকদের ইনসাফ বলে কিছু নাই। তারা রীতিমত যাত্রীদেরকে ঢেঁকিয়ে বেশি ভাড়া পরিশোধ করতে বাধ্য করছে। অগত্য সাধারন মানুষ তাদের প্রকাশ্য চাদাঁবাজীর টাকা পরিশোধ করে, তাদের যাত্রা পথ শেষ করছে। এই নিয়ন্ত্রণহীন চাদাঁবাজ/ বেইনসাফি আচরণ থেকে প্রতিকারে কোন ব্যবস্হা নাই। কিছুদিন আগে মেট্রোপলিটন পুলিশ মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে ভাড়া ব্যাপারে জানতে চাইলে, তারা কিছুটা অপ্রতিরোধ্য থেকে প্রতিরোধের সীমানায় আসে। কিন্তু আবারও সে প্রচেষ্টা অতিত হয়। সিএনজি চালকরা যাত্রির প্রয়োজনকে কাজে লাগিয়ে, বেশি ভাড়া আদায় করছে।

আমি জানি আমার এই কথা, মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে বা সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে না, সমাধান ও হবে না। ভুক্তভোগী বাঙ্গালী জাতির হাড্ডি সার যতদিন এক না হবে এবং ততদিন তাদের প্রতিরোধে জন্য গনআন্দোলনও শুরু হবে না। ফলে প্রস্তাবিত ডিজিটার বাংলাদেশের ডিজিটগুলো অ্যানালগ হয়ে উল্টো পথে হাঁটবে। ফলে জনগনের স্বপ্নের বাংলাদেশ স্বপ্নই থেকে যাবে।
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×