somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভালোবাসার গল্প (২য় কিস্তি)

০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্তর ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশটাকে দেখছিলো। কত বিশাল এই আকাশ। সাথে বৈশাখের গৃহত্যাগী জ্যোৎস্না। এরকম রাতে কেন জানি অন্তরের ভিতরকার কষ্টগুলো জেগে উঠে। মনে পড়ে যায় অনেক দিন আগের কথা...

চাইনীজ রেস্টুরেন্ট। চারজনের একটি পরিবার। বাবা-মা, আর দুই ভাই। ছোট্ট ছেলেটি বেশি দুষ্টু, সে বারবার তার বাবার হাত ধরে টানাটানি করছে। সবাই খাবার আসার জন্য অপেক্ষা করছিলো। আজ বাবা একটু বেশি গম্ভীর। ছোট্ট ছেলে অন্তর তাই তার বাবার হাত ধরে টানাটানি করছিলো আর বলছিলো, বাবা, গল্প বল, চুপ করে আছো কেন? অন্যদিনে বাবা খুব গল্প করেন। আজ কেন জানি চুপচাপ বসে সবার দিকে নীরবে তাকিয়ে আছেন।অন্তর বুঝতেই পারছে না, আজ বাবা কেন এত চুপচাপ। অবশ্য পরিবারের কেউ ই বুঝতে পারছে না, আজ কেন সবচাইতে হাসিখুশি মানুষটি চুপচাপ।
খাবার এল। এইবার পরিবারের প্রধান ব্যক্তি মুখ খুললেন। বললেন, অন্তর, নাও, শুরু কর। তারপর আবার নীরবতা। সবাই নীরবে খেয়ে চলল। খাওয়া যখন প্রায় শেষের দিকে, বাবা অস্ফুট কন্ঠে বললেন, আজকের পর আর কখনো আমাদের এইভাবে একসাথে খাওয়া হবে না।
সবাই অবাক হয়ে তাকাল। অন্তর বুঝতেই পারল না, বাবা কেন এই কথা বলছেন...।

অন্তরের সত্যি আর বাবার সাথে বসে খাওয়া হ্য়নি। আকষ্মিক ভাবে বাবা ঐ রাতের পর বাসা ছেড়ে চলে যান। সেদিন অন্তরের মা'র কি কান্না। অন্তর পরে বুঝেছিলো,ওর বাবা তার অফিসের এক কলিগকে বিয়ে করে চলে গিয়েছিলো। তারপর মাঝে মাঝে বাবা বাসায় এসে কেবল মাসিক খরচের জন্য কিছু টাকা অন্তরের মা'র হাতে দিয়ে চলে যায়। অন্তর আর কখনই তার বাবার সাথে কথা বলেনি। আসলে খুব চেনা মানুষ হঠাৎ অচেনা হয়ে গেলে কি আর তার সাথে কথা বলা যায়? যার কষ্ট, কেবল সে ই তা বোঝে।


অন্তর...।
অন্তর ওর মা'র ডাকে সম্বিত ফিরে পেল।
তাড়াতাড়ি ও নিচে চলে গেল।
-অন্তর, তোর ফোন।
অন্তর ফোনের রিসিভার তুলে নিল।
-হ্যালো..
- অন্তর, আমি আনন্দ। আমাকে চিনতে পেরেছ?
অন্তর একটু অবাক হল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক কুইজ অনুস্ঠানে আনন্দের সাথে পরিচয়। তারপর ার যোগাযোগ হয়নি। অবশ্য অন্তরের কাছে আনন্দর ফোন নম্বর ছিলো না। আনন্দকে সে তার ফোন নম্বর লিখে দিয়েছিলো, কিন্তু আনন্দ কখনও ফোন করেনি। অন্তর পরে জানতে পেরেছিলো, আনন্দ মেয়েদের সেকশনের ফার্ষ্ট গার্ল। অন্তর ভেবেছিল, এ জন্য হয়ত আনন্দ তাকে ফোন দেয়নি। তাছাড়া অন্তর এখন আর তত ভালো রেজাল্ট ও করে না। যদিও আগে ও খুব ভালো রেজাল্ট করত। কিন্তু, ঐ ঘটনার পর ও ইচ্ছা করে আর ভালো রেজাল্ট করার চেষ্টা করে না।
কি কারণে আনন্দ এতদিন পর ফোন দিতে পারে, অন্তর ভাবতে ভাবতে উত্তর দিলো।
- হুম.. কেমন আছো?
-ভালো। কি করছিলে?
-জ্যোৎস্না দেখছিলাম।
-তুমিতো দেখি কবি..
-নাহ্। আমি কবি না। কিন্তু মাঝে মাঝে আমি আকাশ দেখি। আজ তো পুর্ণিমা।
- তুমি কি পুর্ণিমা দেখ সবসময়?
-না। তবে আজ বছরের সবচেয়ে সুন্দর পুর্ণিমা। বৈশাখের পুর্ণিমা বছরের সবচেয়ে সুন্দর পুর্ণিমা। তুমি বাইরে গিয়ে দেখ, তোমার বাসা থেকে আকাশ দেখা যায় তো? নাকি বিশেষ কারো সাথে পুর্ণিমা দেখবে বলে এখন দেখ না। নাকি পড়তে পড়তে সময় পাও না?
- আমার বাসা থেকে আকাশ দেখা যায়। কিন্তু কখনো দেখি না। আসলে মনে থাকে না। তোমার পড়াশোনার কি অবস্থা?
অন্তর একটু হাসলো। বললো-
- আমিতো তোমার মত ভালো স্টুডেন্ট না। পড়াশোনা করি না।
- পড়াশোনা কর না কেন? সামনের বার তো এস এস সি পরীক্ষা। ভালো করতে হবে না? জি পি এ সিস্টেম চালু হবার পর তো গত দু'বছর আমাদের স্কুল থেকে কেউ জি পি এ ৫ পায় নি। এবার তো স্যারেরা আমাদের উপর অনেক আস্থা রেখেছেন।
-আমাকে দিয়ে ওসব হবে না। তুমি ভালো স্টুডেন্ট, তুমি চেষ্টা কর।
- শোনো, চেষ্টা করলে যে কেউ ভালো করতে পারে। তুমি ও পারবা। চল, আমরা সেই কুইজ প্রোগ্রামের মত একসাথে ভালো করার চেষ্টা করি।
- আরে ধুর!!
- না শোনো, ফার্ষ্ট টার্ম পরীক্ষার পর আমরা কয়েকজন সোহেল স্যারের কাছে ইংলিশ পড়ব। তুমিও আমাদের সাথে আস। এইটা স্পেশাল ব্যাচ। তবে ২/১ দিনের ভেতর নাম লিখাতে হবে। তুমি চলে আস। তোমার সাথে দেখা ও হবে। আমি তোমাকে এই জন্য ফোন করেছিলাম। আর এই ব্যাচে আমরা কয়েকজন ভালো ফ্রেন্ড ছাড়া আর কেউ থাকবে না।
- হুম.. দেখি।
- দেখি টেখি না। চলে আসো। বাইরের স্টুডেন্টরা এই ব্যাচে থাকবে না। আমাদের জন্য ভালো হবে।
-আচ্ছা, ঠিক আছে। দেখি।
-আমি তোমাকে মাঝে মাঝে ফোন করে খবর নিব, কেমন পড়াশোনা করছো? আমি যদি ফোন করি, তোমার বাসায় কোনো প্রবলেম হবে?
-নাহ্। তুমি যখন খুশি ফোন করো।
-আচ্ছা, ঠিক আছে, এখন আমি রাখছি। পরে কথা হবে, কেমন?
-আচ্ছা, ঠিক আছে, খোদা হাফেজ।


(চলবে....)

প্রথম কিস্তি এইখানে...
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২৪
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×