somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নঝরা শেষ বিকেল

১৩ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্নঝরা শেষ বিকেল
============
শামীম
=======
১*
-কি কর ?
-দেখনা ছবি আকি ।
-কার ছবি ?
-কার আবার তোমার । নড়াচড়া করনাতো ছবি নষ্ট হয়ে যাবে নড়াচড়া করলে ।
-কি দরকার ছবি আকার, আমিতো তোমার সামনে আছি ।
-হমম তা আছ , কিন্তু .....
- কিন্তু কি কিন্তু কি । বলে নাইমের হাত থেকে কাঠিটা কেড়ে নিল সুমনা ।
-আহা.. এখন তো মনযোগ নষ্ট হয়ে যাবে । দাও ওটা ।
-দেবনা দেবনা দেবনা আগে বল কিন্তু কেন ।
-আহা সুমনা ছেলেমানুষি করনা । মনযোগ নষ্ট হবে ।
কাঠিটা ফিরিয়ে দেয় সুমনা । নাইম আবার ছবি আকতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে । আজ কয়েক সপ্তাহ হল ছবিটা আকার চেষ্টা করছে ও হচ্ছেনা কোথায় যেন গন্ডগোল লেগে যায় ।
-স্যার আপনের চা । বলে চা-টা বাড়িয়ে দেয় রিপু । ভারি মিষ্টি ছেলে, বলার সাথে সাথে চা এনে দেয় । দাম ? পড়ে দিয়েন স্যার, যাওয়ার সময় দিয়েন বলে চলে যায় । না দিলেও কিছু বলেনা ।
-নিচে রাখ । কি চা দিছ ?
-জ্বী আদা চা । বলে বেঞ্চের উপড় রাখল ।
-হমম ভাল হয়েছে । চুমুক দিয়ে বল্ল নাইম ।
-স্যার ছবি আকা কি শ্যেষ হবে ? বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করে রিপু ।
- হম .. কেন হবেনা অবশ্যই হবে ।
-তাইলে স্যার গাত কয়মাস হয়ে গেল ছবিআকা তো শ্যেষ হয়না ।
-হবে হবে শেষ হবে, তুই এখন যা আমার মনযোগ নষ্ট করিস না । এমনিতে সুমনা বারবার ডিস্টার্ব করছে ।
মাথা নিচু করে চলে গেল রিপু । যাচ্ছে আর ভাবছে লোকটার বিষয়ে । নাহ এত ছোট মাথায় এত বড় বিষয় ঢুকবে না ।

২*
-আবার ফিরে এসেছে সুমনা । হল তোমার ছবি আকা ? ছবিটার দিকে এত গভীরভাবে তাকিয়ে চিন্তা করছিলো নাইম যেছ সুমনা তার পাশে এসে দাড়িয়েছে খেয়ালি করেনি । কথা বলতেই তার ধ্যান ভাঙল ।
-হম.. হচ্ছে , কিন্তু চোখটা কি বেশি মায়বি করব কিনা ভাবছি ।
প্রসঙ্গ পাল্টালো সুমনা । আচ্ছা নাইম তোমার আমার প্রথম দেখার কথা মনে আছে তোমার ?
-হমম আছে ।
-জানো সেদিনর কথা আমি আজো ভুলতে পারিনা । আনমনে বল্ল সুমনা । সেদিন আমার পরিক্ষা ছিল, আমি রিক্সার জন্য রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলাম । এমনিতে লেট তার মধ্যে আবার গাড়ি পাচ্ছিলাম না । হঠাৎ দেখি একটা ছেলে হাতে কিছু পেইন্টের কাগজ নিয়ে রিক্সায় আসছিল । আমি ওই রিক্সা দাড়করিয়ে ছেলেটাকে নামিয়েদিয়ে সেই রিক্সা নিয়ে পরিক্ষা দিতে গেলাম । তুমি তো প্রথমে আপত্তি করলে পরে ঠিকই মেনে নিলে ।
পরিক্ষা শেষে বন্ধুদের সাথে গেলাম চিত্র প্রদর্শনী দেখতে । ওমা গিয়ে দেখি তুমি । মানে সেই ছেলেটা, একটু আগে যাকে আমি জোড় করে রিক্সাথেকে নামিয়ে দিয়েছিলাম । ছেলেটার আকা ছবি দেখে আমিতো আরো অবাক ! একঝটকায় তোমার বিরাট ভক্ত হয়ে গেলাম । তারপর কতভাবে তোমার সাথে দেখা করার ফন্দি করি । মনে আছে তোমর ?
-হমম সব মনে আছে । গম্ভীর ভাবে বল্ল নাইম । সে এখন ছবি আকছেনা কিন্তু মনযোগ দিয়ে কিযেন ভাবছে । হঠাৎ পোপারটা টেনে ছিড়ে ফেল্ল নামইম । অবাক হয়ে দেখছে সুমনা ।
-এটা কি করলে নাইম ! এ নিয়ে তো চল্লিশটা পেপার ছিড়লে । বিস্ময় সরে বল্ল সুমনা ।
-হম হচ্ছিল না । তোমার ছবি না, অন্য কারো ছবি আসছিলো মনে হচ্ছিল । আবার নতুন পেপার নিয়ে আকাআকি শুরু করল নাইম ।

৩*
একটু পরপর এদিক সেদিক ঘুড়তে ঘুড়তে রাজুর প্রায় পুরো সৈকত ঘোরা শেষ । দেখার আর বকি নেই কোন জায়গা । খুব বেশি ডিউটি তার না । নাইমে এখানে নিয়েআসা আর নিয়েযাওয়া । বসে বসে সিগারেট টানছে আর নাইমের কাজ দেখছে আর কষ্ট পাচ্ছে ছেলেটার জন্য । আহা... বেচারা ।
সন্ধা হয়ে এসেছে প্রায়, আর থাকা যাবেনা ফিরতে হবে নাইমকে নিয়ে । এরই মধ্যে খালাম্মা ফোন করেছিল কয়েকবার ।
-স্যার যাবেন না ? সন্ধা তো হয়ে এল । নম্র সুরে বল্ল রাজু ।
- হুম যাব । সাদা পেইন্টের কাগজটার দিকে তাকিয়ে বল্ল নাইম ।
-আসেন । বলে দাড়িয়ে রইল রাজু, হাত ঘড়িটা দেখল আরেকবার ।
-সুমনা , আজ তাহলে গেলাম । বলে উঠেদাড়াল নাইম । দু'পা সামনে এগিয়ে পিছনে তাকাল, কেই নেই, শুধু পেইন্টের সাদা কগজটা চোখে পড়ল ওর ।
রাজু সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে হাটতে লাগল গাড়ির দিকে । আর ভাবতে লাগল, যে মেয়েটা মারা গেছে আজ দু'বছর আগে আজও কিভাবে সে নাইমরে সাথে কথা বলে ! লোক মুখে সুনেছে, এখানে ছবি আকতে এসে ফেড়ার পথে কার-এক্সিডেন্টে মারা যায় মেয়েটা । কিন্তু তাকে আজও ভুলতে পারেনি নাইম । আজও প্রতি দিনই আসে সেখানে ছবি আকতে । কথা বলে সুমনার সাথে । ধুর, যা ইচ্ছা করুক আমার ডিউটি আমি করি তার টা তার ।

নাইম বসে আছে গাড়ির সিটে, চোখ তার শূন্যে কি যেন খুজে ফিড়ছে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×