somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু হাসি খেলা ছিল সারা বেলা

২০ শে জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফুটবল বিশ্বকাপ আসার সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণ লড়াই করে সব দলের সমর্থকদের টিকে থাকতে হয়,আমিও এর থেকে আলাদা নই ৷

২০১০ সালের বিশ্বকাপই ছিল আমার ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথে কাটানো শেষ বিশ্বকাপ ৷এই উৎসবের শুরুটা হয় বরাবরই পতাকা উড়ানো দিয়ে,উঁচুতে পতাকা ওঠানোর জন্য আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ ফন্দিফিকের করতে হয়েছিল । আসলেই কাছের বন্ধু না থাকলে খেলা নিয়ে গোলমাল করে মজা হয় না ।তৎকালীন সময়ে আমরা সবাই ছিলাম ক্লাস টেনের ছাত্র,তাই আবেগ ছিল অনেক গভীরে ।স্কুল,প্র৷ইভেট,পথেঘাটে সবাই ধুমায়ে গ্যানজাম করছি ।
তো বিশ্বকাপের সময় আমরা থানার পাশে প্রাইভেট পড়তে গেছি কিছু বন্ধু,আলোচনা শুরু হয়ছে পেলে আর ম্যারাডোনা রে নিয়া।মোটামুটি বলা যাই,ব্রাজিলিয়ান বন্ধুরা পেলেকে পাইছে কুপা সামশুর সেই মহান তলোয়ার হিসেবে।স্যার আসতে একটু দেরি করছে, এই দিকে পুলাপান এর মাথা পুরা গরম হয়ে গেছিলো,খেলা নিয়ে এত পরিমান ছিল্লাপাল্লা করছিলাম যে থানার ওসি পুলিশ পাঠাছিল, আসলে কি ঘটছে তা জানার জন্য ।এই স্যারের ওই বিশ্বকাপে মজার ১টা অভিজ্ঞতা ছিল,তিনি প্রতিদিন যে দল কে বলত জিতবে বলে মনে হচ্ছে, সেই দলই হেরে যেত। পরের দিন এক বন্ধু রসআলোয় প্রকাশিত ম্যারাডোনার হাতে বিশ্বকাপের বদলে, লাউ হাতে ছবি এনে দিয়েছিল।এর ২-৪দিন পরে আমরা কিছু বন্ধু ভ্যানে উঠছি,এই বার বাধসে মেসি কে নিয়া,ধাক্কা ধাক্কি তে ভ্যান ৮০% মত উল্টায়ে গেছিল, আমরা লাফ দিয়ে নামছিলাম।সব সমর্থক ই চাই,নিজের দলকে ভারী করতে।আমরা পটাম(কিছুটা উদ্দেশ্যহীন ) টাইপের এক বন্ধুকে আর্জেন্টাইন সমর্থক বানায়ে ফেললাম,ছেলেটা খুব ভালো ছিল,সে তেভেজ কে তেজেব বলে চিনত ।সে এইবারও এক দিনে ২ টা জার্সি কিনে দলের প্রতি গভীর ভালবাসার জানান দিছে। এক জার্মান সমর্থক কে দেখেছি,দুই পাশ থেকে আগত আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের ভারী লন রোলারের মাঝে পরে চ্যাপ্টা হতে ।কলেজে পড়ার সময়ও রোদ আর টিপ টিপ বৃষ্টিতে জাবুলানি বলে ফুটবল খেলার অসাধারন কিছু অনুভূতি আছে। আছে কলেজের বলে খেলার জন্য তালা কেনারও ঘটনা,আসলে চাবি পাওয়া যাচ্ছে না বোলে কিছু দিন ঘোরাচ্ছিল,গেম টিচার নতুন তালা কেনার কথা শুনে কেন যেনি পুরান চাবি খুঁজে পেয়েছিল। এখন মাঝে মাঝেই আনমনে বসে ভাবি, সেই দিন গুলা কি যে আনন্দেরই ছিল।মনে হয়, এই তো সেদিন।

দল হেরে বাদ যাওয়ার পরে,আমার মন ছিল বড়ই দুঃখ ভারাকান্ত। ব্রাজিল একই রাউন্ড থেকে বাদ যাওয়াই কিছুটা মানুষিক প্রশান্তি পেয়েছিলাম।তবুও খেলার প্রতি গভীর ভালবাসা থেকে পরের সব গুলা ম্যাচ দেখলাম,বিপদ হল ফাইনালের দিন রাতে। হঠাৎ দেখি ডিস কানেকশন নাই,খেলা শুরুর কিছু সময় বাকি ছিল ,তাও মনের ভিতর উশখুশ শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ এ জিনেদিন জিদানের ফাইনাল টা দেখতে পাড়ছিলাম না,ছোট ছিলাম তাই হয়ত ঘুমায়ে পড়ছিলাম।তাই ফাইনাল নিয়া আমার মনে ব্যাপক আক্ষেপ ছিল।তোপরে এক স্যারকে ফোন করে তার মেসে গিয়ে ফাইনাল দেখলাম।তিনিও ছিলেন আর্জেন্টাইন সমর্থক,আমাদের চাপে পরে বড় ১ টা পতাকা বানাতে বাধ্য হয়েছিলেন।তার কাছে তেভেজ ছিল মেসির থেকেও অনেক বড় প্লেয়ার।ঐ রাতে ডিসের সমস্যার কারন ছিল কতিপয় ২ পায়া জীব খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে ফেলেছিল।
তখন কার দিন গুলোতে চাইলেই কিছু হাঁসি খেলা পাওয়া যেত সারা বেলা। অমলিন ভাবে ধুসর ধুল জমতে থাকা সেই সময়ে আর হয়তো কোন দিন ফেরা হবে না।কিছু ঘটনা চোখে না দেখে কখনই উত্তেজনা অনুভব করা সম্ভব না। জীবনে এক সাথে হাটার জন্য খেলা ধুলা তার হাত বাড়িয়ে দিসে,আমি সব ভুলে তার সাথেই হেটে চলেছি,চলব…………
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×