somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

( ভালবাসা যখন প্রতিযোগিতা ) @DOCTOR VS ENGINEER@

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটির বাসায় বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। মেয়েটি দিশেহারা হয়ে প্রেমিককে বলছে, "কিছু একটা করো... নয়তো আমার বিয়ে হয়ে যাবে। " প্রেমিকের তখনও নিজের জিন্স প্যান্টটা মা'কে খুঁজে বের করে দিতে হয়.... এই অবস্থায় বাসায় বিয়ের কথা বলাটা নিরর্থক পাকামো ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।
একদিন মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়............. ছেলেটা কোন বন্ধুর ছাদে অথবা নেভালে গিয়ে মদ গিলে কিছুক্ষণ টাল হয়ে থাকে। বেশ কিছুদিন আর্কের 'এতো কষ্ট কেনো ভালোবাসা' অথবা ট্র্যাপের 'চলে যদি যাবি দূরে স্বার্থপর' টাইপের গান শোনে.... জগতের সমস্ত কষ্ট'ই আস্তে আস্তে হীল হয়... এই কষ্ট'ও কমে। ছেলেটা একদিন টুপ করে অন্যকারো প্রেমে পড়ে যায়... অথবা প্রেমের প্রতি বিষাক্ত ধারণা নিয়ে পড়ালেখায় মন দেয়।
আমাদের দেশের ছেলেদের 'সেটেলড' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়... যখন তার একটি ভালো ডিগ্রী আছে... সেই ভালো ডিগ্রীর সুবাদে একটি সিকিউরড চাকরী আছে... আবার সেই চাকরীর সুবাদে বেশ ভালো একটি ব্যাংক ব্যালেন্স আছে... এবং সেই ভালো ব্যাংক ব্যালেন্সের কারণে সুন্দর একটি ফিউচার হবে।

আর সেটেলড হতে গিয়ে জগতের সমস্ত পরীক্ষা, সেশন জট, হরতাল, অবরোধ, ব্যাকলগ, থিসিস পেপার নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শেষে ছেলেটার বয়স হয়ে যায় সাতাশ থেকে আটাশ.... এরপর আবার চাকরী'র জন্যে যুদ্ধ শুরু.... ভালো চাকরী পেতে গেলে এক্সপেরিয়েন্সের জন্যে যুদ্ধ, এক্সপেরিয়েন্স হলে প্রমোশনের জন্যে যুদ্ধ... সবকিছু শেষ করে সেটেলড ট্যাগটা যখন গায়ে লাগে... তখন ছেলেটার বয়স হয়ে গেছে প্রায় পয়ত্রিশের কাছাকাছি।

এই দীর্ঘ সময়ে পূর্ব প্রেমিকার ঘরে দুই-তিনটি সন্তান চলে এসেছে... এরমধ্যে হয়তো একজন প্রাইমারী পাঠ'ও শেষ করে ফেলেছে।
ছেলেটা এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি করে অল্পবয়সী একটি মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে....( সেই মেয়েটি আবার অন্য ছেলের প্রেমিকা) এক কথায় ছেলেটি বিয়ে করে অন্য একটি ছেলেকে ঠিক তার পূর্বজীবনের অবস্থায় ফেলে।

নতুন বিবাহিত মেয়েটির বয়স অল্প... সে জগতের ছোট-বড় সমস্ত কিছুতেই মুগ্ধ হয়... আর ছেলেটি জগতের সত্যিকারের কুৎসিত রূপ অলরেডি দেখে ফেলেছে। তার জীবনভর্তি বিরক্তিতে... ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি কমিউনিকেশন গ্যাপ সৃষ্টি হয়... ভালোবাসা'র স্থান হয় না সেই গ্যাপে। কিন্তু বাংলাদেশ বলে কথা... ভালোবাসা থাকুক আর না থাকুক, সংসার করে যেতে হবে।

অথচ ২২-২৩ বছর বয়সে সেই প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে করতে পারলে তাঁরা একসাথে হাত হাত রেখে নীলগিরিতে মেঘের খেলা দেখে মুগ্ধ হতে পারতো.

বারবার খিলখিল করে হাসতে পারতো পুরোনো কোন কথা মনে করে।
খুব অদ্ভূত একটা অবস্থায় আছি আমরা.... প্রেমিক-প্রেমিকার কেউ একজন ডাক্তার হলে অন্যজনকে অন্তত পাল্লা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়। নয়তো বাইরের কোন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার ঈগলের মতো এসে ছোঁ মেরে ভালোবাসাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

ভালবাসতে অথবা ভালবাসা পেতে কি একজনকে ডাক্তার অথবা ইনঙ্গিনিয়া হতেই হবে । এটাই কি বাস্তবতা । এই জন্যেই দেশে একজন ভাল সাহিত্যিক নাই । কারন এখানে প্রতিযোগিতা চলে কে আগে ডাক্তার অথবা ইনঙ্গিনিয়ার হতে পারবে ।
দুঃখ করে লাভ নাই । সবাই ফরমালিনযুক্ত মুরগী হয়ে যাচ্ছে ।

এখন কেউ কাজী নজরুল অথবা রবীন্দ্রনাথ হতে চাই না ।
আবসোস আহরে দুনিয়া , হয়রে প্রেম । পরের জীবনে যেন এইসব না দেখতে হয় সৃষ্টিকর্তা ।................................

বিঃদ্র = কারো জীবনের সাথে কিঞ্চিত মিলে গেল আর এরকম পরিস্থিতিতে পরে থাকলে কষ্ট পাবেন না । এ সবই ভাগ্যের লিলাখেলা । হয়তো অনেকেই ভাগ্যকে বিলিভ করেন না কিন্তু সত্যি ভাগ্য বলে অনেক কিছু আছে একটু চিন্তা করে দেখেন ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৩৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×