somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্বর ও তার চিকিৎসায় প্যারাসিটামল ?! | বিজ্ঞান পোস্ট

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্বর কেন হয় ?

আমাদের শরীরে যখন কোন জীবাণু প্রবেশ করে তখন এন্টিবডি সেটিকে ধ্বংস করে দেয় । যখন জীবাণুর সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যায় তখন এন্টিবডি কুলিয়ে উঠতে পারে না। তখন দেহের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত এরিয়া থেকে মস্তিষ্কের ভিতর সিগন্যাল যায় যে, পরিস্থিতি আউট অফ কন্ট্রোল !

এরকম জরুরি তথ্য পাওয়ার পর ব্রেনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী অংশ হাইপোথ্যালামাস অর্থাৎ শরীরের তাপ যে অংশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় সেখান থেকে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধির আদেশ দেহে পৌঁছে যায় । তাপমাত্রা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হচ্ছে যাতে দেহে বিদ্যমান জীবাণু এই তাপে মারা যায় আর বংশবৃদ্ধি করতে না পারে এবং এন্টিবডি আগত জীবাণুদের ধ্বংস করে ফেলতে পারে ।

যখন পরিস্থিতি এন্টিবডি বা দেহের নিয়ন্ত্রণে আসে তখন হাইপোথ্যালামাস দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেয় ।

এজন্য জ্বর হলে সাথে একটা না একটা রোগের লিংক থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেমন, ফ্লু(ঠান্ডা লাগা) , ইনফেকশন , ম্যালেরিয়া ইত্যাদি ।

এখানে আরেকটি জিনিস উল্লেখ্য , দেহের তাপমাত্রা যে জ্বর হলেই বেড়ে যায় তা না ; দৌড়াদৌড়ি বা টানা পরিশ্রম করলে আবার মেয়েদের মেন্সট্রুয়াল সাইকেল চলার সময় দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তবে এদেরকে জ্বর বা ফিভার নামে আখ্যায়িত করা হয় না ।

প্যারাসিটামল ?

এটা জ্বর কমানোর জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি ওষুধ । জ্বর হলে পাইরোজেন নামের একটি প্রোটিন তৈরি হয় যেটা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডানিন নামের একটি যৌগ সংশ্লেষে সাহায্য করে । এটির মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে তৈরি হয় । তো প্যারাসিটামল এন্টিপাইরেটিক হিসেবে কাজ করে
প্রোস্টাগ্ল্যান্ডানিন এর সংশ্লেষণ কমায় ফলে দেহের তাপ কমে আসে । তার মানে প্যারাসিটামল হলো সাময়িক কষ্ট নিবারক যেরকম শরীরে ব্যাথা হলে আমরা মুভ(MOOV) বা এজাতীয় ক্রিম লাগাই ।এসব ব্যাথা উপশম করে তবে কারণ দূর করে না ।

এখন কথা হচ্ছে , জ্বর তো হচ্ছে ভালোর জন্যই এটাকে প্যারাসিটামল দিয়ে কমান কি ঠিক ?

এটা নিয়ে বিপুল গবেষণা হচ্ছে বিদেশে । তবে এটুকু নিশ্চিত আমাদের দেশের মতো জ্বর হলেই মুড়ির মতো প্যারাসিটামল খায় না মানুষ ।


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ জ্বর বা যেকোনো রোগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন । ক্ষুদ্র কোন অবহেলা যেমন আপনার ফিউচারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে একই ভাবে প্রাইমারি স্টেজে রোগ ধরা পড়লে ও তার চিকিৎসা করালে ভালোভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বৃদ্ধি করে।

সবাই নিরাপদ ও সুস্থ থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:৫৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×