somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ খুরশীদ আলম
যারা ইমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ ( আল কুরআন)“সত্য ও সুন্দরকে ভালবাসি, অন্যায়- অবহেলা দেখলে খারাপ লাগে, তাই ক্ষদ্র এ প্রয়াস “

সফল অভিভাবক ও সন্তানের সুখী জীবন

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সফল অভিভাবক ও সন্তানের সুখী জীবন
মোঃ খুরশীদ আলম



মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের মূলে একটা উদ্দেশ্যে কাজ করে। সেটা হলো- সুখী হওয়া। সুখ নামের কাঙ্খিত বস্তুটি পাওয়ার জন্য মানুষ কত কিই না করে। অথচ সিংহভাগ মানুষের জীবনে সে অধরাই থেকে যায়।
মানুষ পরিবার গঠন করে। সুখী হওয়ার জন্য কাজ করে, আয় করে ও খরচ করে। সংসারি জীবনে একজন অভিভাবক খরচ করে তার আয় অনুপাতে। খরচের মাত্রা তার আয়ের সীমাতিক্রম করা চলে না। খরচের ক্ষেত্রে আবেগকে প্রশয় দিয়ে বিবেকের কাছে হেয় হওয়া চলে না। সংসার যুদ্ধের এই মহাপবিত্র ময়দানে সচেতন অভিভাবকের কৌশলী আচরণ ও বুদ্ধিদিপ্ত সিদ্ধান্তই তার পরবর্তী প্রজন্মের সুখের আশ্রয় তৈরী করে। যে অভিভাবক সৎ, বিনয়ী, ধৈয্যশীল, কৌশলী ও মিষ্টভাষী, একই সাথে পরিবারের অন্যান্যদের মতামতের প্রতি সমানভাবে শ্রদ্ধাশীল তিনি একজন আদর্শ অভিভাবক। তিনি একজন আদর্শ পিতা, আদর্শ প্রেমময় স্বামী, সুযোগ্য সন্তান। তিনিই সংসার যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়ী সিপাহসালার।
এই সিপাহসালারের কাছে সবার প্রত্যাশা ও আকাঙ্খা অফুরান। কারো কাছে তার চাওয়ার নাই। কেননা তিনি জানেন, যুদ্ধের এই ময়দানে শক্তি নয়, ছবর আর হাসি দিয়েই নিজেকে সুখী রাখতে হয়। সুখের মন্ত্র তার অজানা নয়। তিনি জানেন –
“ কায্যক্ষেত্র ঐ প্রশস্ত পড়িয়া
সমরঙ্গণ সংসার এই
যাও বীর বেশে কর গিয়া রণ
যে জিনিবে সুখ, লভিবে সেই।
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এজীবন প্রাণ সকলই দাও
পরের কারণে মরেণেও সুখ
আপনার কথা ভুলিয়া যাও। “

তিনি সুখী হন অন্যের হাসিতে, অন্যের খুশীতে, অন্যের প্রাপ্তিতে। তিনি নিজের জীবনের সকল সুখ-আহ্লাদ বিলিন করেছেন বলেই তিনি সুখী, সুখী মানুষ। এই সুখ স্পষ্ট করা যায় না, হৃদয়ে অনুভব করা যায়। এই মানুষটিই সকলের কাম্য বিভিন্ন অবয়বে। তাকেই একজন নারী চায় সংসারী ও পূর্ণ ভালবাসার পথিকৃত হিসাবে, পিতা মাতা চায় বৃদ্ধ বয়সের শেষ আশ্রয়স্থল ও ছায়াদানকারী বৃক্ষ ও মায়া-মমতার প্রতীক হিসাবে।
কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন একজন অভিভাবকের জীবনে সেরা প্রাপ্তি তেমনি ছোট খাট ভুল ত্রটির কারণে সফলতা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, জীবন হতে পারে নরকসম। সন্তানদের অবাধ মেলামেশা, অযাচিত খরচ, অতিরিক্ত ব্যয় ইত্যাদি পরিণত বয়সে সন্তানের জীবনে নেতীবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে। নষ্ট করতে পারে একজন সফল অভিভাবকের সারাজীবনের অর্জন। অভিভাবকের সংসার জীবনে সন্তানরা যেমনটি অনুশীলন প্রত্যক্ষ করে পরবর্তীতে নিজেদের জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটানোর আশংকা থাকে। নিজেদের সাংসারিক জীবনে আকাঙ্খা ও প্রাপ্তির সমন্বয় না হলে বৈবাহিক জীবনে সংসার ভাঙ্গাসহ অনাকাঙ্খিত নানান নেতীবাচক পতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে, এবং হয়ও।
সফল অভিভাবক তার সন্তানকে শিক্ষা দেন কিভাবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হয়। সন্তান চাওয়া মাত্র তার সকল চাহিদা পূরণ করে দেন না। তিনি গরিমসি করেন কখনো কখনো, সন্তানের ‰ah© বৃদ্ধির জন্য। তিনি ধর্মীয় অনুশীলনে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখেন, সন্তানকে কোমলে কঠোরে বড় করতে থাকেন। তিনি কখনো অন্যের সফলতাকে নিজের সন্তানের জন্য দৃষ্টান্তের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করেন না। বরং ধীরে ধীরে তার মানসিকতাকে ইতিবাচক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সফলতার দিকে নিয়ে যান। তার ট্রেনিংয়েই বড় হয় একটি পরিবারের স্বপ্ন, তার ট্রেনিংয়েই দৃষ্টান্ত হয় পৃথিবীব্যাপি আলোর বিচ্যুরনকারী নক্ষত্রের।
পরম করুণাময় সকল অভিভাবকদের রুহানী প্রশান্তি দান করুন। আমিন।


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:১৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×