somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ খুরশীদ আলম
যারা ইমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ ( আল কুরআন)“সত্য ও সুন্দরকে ভালবাসি, অন্যায়- অবহেলা দেখলে খারাপ লাগে, তাই ক্ষদ্র এ প্রয়াস “

জুমু’আর ফজিলত ও জুমু’আর দিনে করণীয় কাজ

১৮ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুমু’আর ফজিলত ও জুমু’আর দিনে করণীয় কাজ

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের এবং দুরুদ ও সালাম প্রিয় নবি (সঃ) ও তার সকল অনুসারীগণের উপর। সুস্থ থেকে মহান রাব্বুল আলামিনের জিকর করার সামর্থ্যদানকারী মহান আল্লার হাজার শোকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ। জনাবে রাসূল (সঃ) এর পবিত্র হাদিস “সকল কাজের ফলাফল নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল” যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক চাই। আল্লাহ কবুল করুন।

“ নিশ্চই নেক আমল দূর করে দেয় পাপসমূহকে।” – (হুদ : একশত চৌদ্দ) আল্লাহর দ্বীনের আওয়াজ ছড়িয়ে দিতে লেখালেখি ও মেধার চিন্তাশক্তি ব্যয় করা এবাদতেরই অংশ, আলহামদুলিল্লাহ।

‘জামউন’ শব্দ হতে উদ্ভুত ‘জুমা’ শব্দটির অর্থ হলো একত্রিত বা সম্মিলিত হওয়া। বিগত সাপ্তাহের যাবতীয় ভুল-ত্রুটি সংশোধন ও পরবর্তী করনীয় (আমল সংশোধনের লক্ষে) কর্মসূচী গ্রহণে পরিকল্পনা প্রণয়ন, খোতবা শ্রবণ ও সম্মিলিতভাবে সালাত আদায় করা হয় বলে দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ইয়াওমুল জুমআ।’ জুমা আরবি সাপ্তাহের একটি দিন যাকে বাংলা বার হিসাবে শুক্রবার বলা হয়। শুক্রবার দিনটি পৃথিবীব্যপি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। যোহরের ওয়াক্তে জুমার সালাত আদায় করা হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনে আঠাশতম পারায় সূরা আল-জুমুআহ নামক একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা রয়েছে। এটি মদীনায় অবতীর্র্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা এগারো।
হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে-ইহূদী নাসারাদেরকে জুমু’আর এই দিনটি দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তারা এতে মতোবিরোধ করেছে। ফলে, এ থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে। আর আমাদেরকে আল্লাহ্ তায়ালা জুমা’র দিনের প্রতি পথ প্রদর্শন করেছেন, আমরা তা লাভ করেছি এবং পূর্ব থেকেই এ দিনটি এই উম্মতের জন্য রাখা হয়েছিল। এ উম্মতের জন্য এ দিনটি ঈদের দিন। সুতরাং এই উম্মত সকলের অগ্রবর্তী হয়ে গেল আর ইহূদী-নাসারাগণ পিছনে পড়ে গেল। (মুকাশাফাতুল-ক্বুলুব-2য় খণ্ড-316 নং পৃষ্ঠা, তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন)


ছবি : ইন্টারনেট হতে

‘ইয়াওমুল জুমআ’র বৈশিষ্ট্য :
এক) হাদিসে বর্ণিত আছে, আদি মানব হযরত আদম (আঃ)-কে তৈরী করার কাদামাটি এদিনে জুমা করা হয়েছিল বলে এ দিনের নাম হয়েছে ‘জুমা’;
দুই) হযরত আদম (আঃ)-এর পাঁজর হতে আদি মাতা হাওয়া (আঃ)- কে সৃষ্টির পর এই শুক্রবারেই তাঁদের মধ্যে প্রথম মিলন ঘটেছিল;
তিন) বেহেশত হতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন থাকার পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পুনরায় যে মিলন ঘটেছিল তা এই জুমার দিনেই;
চার) এ দিনটিতে কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং সকলকে হাশরের মাঠে বিচারের জন্য জমায়েত করা হবে-এজন্য জুমা নামকরণ করা হয়েছে। (বেহেশতী জেওর-প্রথম ভলিউম, দ্বিতীয় খন্ড, 192 নং পৃষ্ঠা, এক নং হাদীস এবং ইসলাম জীবনের আলো-পৃষ্ঠা নং-121)


ছবি : ইন্টারনেট হতে

উল্লেখিত 4টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার পাশাপাশি তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন 173 পৃষ্ঠায় বর্ণনা করা হয়েছে যে, এই দিন এমন একটি মুহুর্ত আসে, যাতে মানুষ যে দোয়াই করে, তাই কবুল হয়।
পবিত্র কুরআনে জুমার সালাত আদায়ের প্রতি গভীর তাগিদ দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ্ বলেন, “যখন জুমু’আর দিনে নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর।” – (জুমু’আহ্-9) জুমার দিনে যাবতীয় দুনীয়াবি কাজ হতে বিরত থেকে মহান আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা ঈমানেরই দাবী। এই আয়াত দ্বারা জুমার নামাযের আযানের পর মসজিদে যাওয়ার পরিপন্থি সর্বরকম কাজকর্ম এবং ব্যবসা বাণিজ্যকে হারাম তথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (এহ্ইয়াউ উলূমিদ্দীন-প্রথম খন্ড, জুমার বিবরণ পরিচ্ছেদ-পৃষ্ঠা নং-251)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, উক্ত সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা হারাম। আ’তা (রাঃ) বলেন, জুমার আযানের পর শিল্পকর্মও হারাম। ইমাম যুহরী বলেন, জুমার আযান হলে (অবস্থান-রত) মুসাফিরও জুমার নামাযে উপস্থিত হবে। (হামিদিয়া লাইব্রেরী লিঃ কর্তৃক প্রকাশিত বোখারী শরীফ প্রথম খন্ড, -264 নং পৃষ্ঠা-জুমার দিন ও নামাযের আহকাম অংশ)

জুমার সালাত আদায় না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। জৈনক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলো, “ওমুক ব্যক্তি মারা গেছে। সে জুমআ ও জামাতে হাজির হতো না। বলুনতো, এখন তার অবস্থা কি হবে? তিনি জবাব দিলেন, লোকটি দোযখী হবে। প্রশ্নকারী লোকটি একমাস পর্যন্ত একই প্রশ্ন করতে থাকলো এবং ইবনে আব্বাস (রাঃ) তাকে একই জবাব দিলেন যে, সে দোযখে যাবে। ”
জুমার নামায অত্যন্ত তাৎপর্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ বিধায় শরয়ি ওজর ব্যতিত না পড়া খুবই অন্যায়। হাদীসে এসেছে- “ যে ব্যক্তি অলস্য করিয়া তিন জুমু’আ তরক করে, আল্লাহ তায়ালা তার উপর নারায় হয়ে যান। অন্য রেওয়ায়তে আছে, আল্লাহ তায়ালা তার দিলের উপর মোহর মেরে দেন।”- বেহেশতি জেওর।
সুতরাং বুঝা গেল যে, জুমু’য়ার নামায আমাদের জন্য কতটা গরুত্ববহ।

জুমু’য়ার নামাযের ফজিলত :
পাক সাফ হয়ে চুলে তৈল দিয়ে, খুশবু লাগিয়ে জুমার মসজিদে যাবে এবং কাউকে তার জায়গা হতে না উঠিয়ে যেখানে জায়াগা পায় সেখানে বসে যেতে হবে, ইমামের খুতবা শুনবে- এরুপ করলে উক্ত ব্যক্তির গত জুমু’আ অবধি সকল সগিরা গুণাহ মাফ হয়ে যাবে।
জুমার দিনে দুরুদ শরীফ পড়লে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশী সাওয়াব পাওয়া যায় বলে এই দিন বেশী বেশী দুরুদ শরীফ পাঠ করার তাগিদ হাদীস শরিফে এসেছে।
জুমু’য়ার নামাযে হেঁটে মসজিদে গেলে প্রত্যেক প্রত্যেক কদমে এক বৎসরের নফল রোযা রাখার সাওয়াব হাসিল হয়।
জুম’য়ার রাত নূরে ভরা রাত এবং জুমার দিন নূরে ভরা দিন। জুমার দিন সর্বাপেক্ষা অধিক ফজিলতের দিন।
জুমার দিন সমস্ত দিনের সর্দার এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দিন।

জুম’আর দিনের করণীয় কাজ :
গোসল করা, মাথার চুল এবং পুরো শরীর উত্তমরূপে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা।
মেসওয়াক করে দাঁত পরিস্কার করা।
যার কাছে যেমন পোশাক আছে তা পরিধান করে খোশবু লাগিয়ে মসজিদে গমন করা;
নখ কাটা,
জামে মসজিদে অতি পূর্বে গমন করা;
জুমার ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার হতেই তৎপরতা বৃদ্ধি করা।
বৃহস্পতিবার আছরের বাদে তাওবা-এসতেগফার ও জিকির আজগারে মত্ত হয়ে দোয়া করা।
প্রথম কাতারে বসার চেষ্টা করতে হবে। নামাযীর সামনে দিয়ে যাবে না।
জুমার নামাযের পূর্বে কোন মজলিসে যাবে না;
মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ করবে, কোন কথায় মগ্ন থাকা যাবে না।
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের আমল করার তাওফিক দিন।
তথ্য : তাফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন, বুখারী শরীফ, মুকাশাফাতুল ক্বুলুব -দ্বিতীয় খন্ড, এহইয়াউ উলুমিদ্দিন, বেহেশতী জেওর, ইসলাম জীবনের আলো ।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাটির চুলা

লিখেছেন সোহানাজোহা, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৩১


ছবি কথা বলে: আজ হাটবার আপনে দেড়ি না করে বাজারে যান গা, নাতি নাতনি ছেলে বউ শহরের বাসায় নদীর মাছ খায় কিনা আল্লাহ মাবুদ জানে! (মাটিরে চুলাতে দাদীজান পিঠা ভাজছেন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তর মেরুতে নিশি রাতে সূর্য দর্শন - পর্ব ৪

লিখেছেন জোবাইর, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

বিভিন্ন ঋতুতে ল্যাপল্যান্ড: শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ

রেন্ট-এ-কার' কোম্পানীর সেই মেয়েটি কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে আগে থেকেই পূরন করা একটা ফরমে আমার দস্তখত নিয়ে কিরুনা স্টেশনের পাশের পার্কিং এরিয়াতে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নন্দের নন্দদুলাল : স্বপ্ন রথে

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৬

স্বপ্নের অশ্বারোহী
দূরন্ত ইচ্ছেতে ঘুরে বেড়াই, নন্দ কাননে
তাম্রলিপি থেকে অহিছত্র
পুন্ড্রবর্ধন থেকে উজ্জয়িনী, স্বপ্ন সময়ের নন্দদুলাল।

আমাদের শেকড়
বাংলার আদি সাম্রাজ্যে যেন
পতপত ওড়ে পতাকা সবুজ-লাল,
মিলেনিয়াম নন্দ ডাইনাস্টির স্বপ্ন সারথীর স্বপ্নরথে

মানচিত্র: নন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় শিল্পীর কিছু গজল

লিখেছেন মিরোরডডল , ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

যদিও জগজিৎ সিং আমার সবচেয়ে প্রিয়, পাশাপাশি অনুপের গজলও খুব শোনা হয় ।
প্রিয় শিল্পী অনুপ জলোটার সেরা পাঁচ । গভীর অনুভূতির কিছু গজল ।


Dil hi nahin to dil ke, saharon... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্প শুধুমাত্র বর্ণবাদকে কাজে লাগিয়ে জয়ী হতে চায়।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:০৩



সভ্যতার এই যুগে, আমেরিকা হচ্ছে সবচেয়ে কম বর্ণবাদের দেশ; অষ্ট্রেলিয়া এই মহুর্তে সবচেয়ে বেশী বর্ণবাদের দেশ। আমেরিকার গত ভোটে বর্ণবাদীরা ট্রাম্পের পক্ষে ছিলো, ওরাই ট্রাম্পের হয়ে মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×