somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রমজানের গুরুত্ব।

৩০ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রমজান সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।"
[সূরা বাকারা : ১৮৩]

অর্থাৎ সিয়ামের মূল লক্ষ্য হল তাকওয়া অর্জন। তাকওয়া শব্দের অর্থ আল্লাহভীতি। মুমিন তার সকল কথা, কাজ এবং চিন্তায় আল্লাহকে ভয় করবে-এর নাম তাকওয়া। আর তাকওয়ার প্রায়োগিক দাবী হল মুমিন আল্লাহর যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং সাধ্যানুযায়ী ভালোকাজ করবে। রমযান মাসের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো যে, এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন- "রমযান মাস, ইহাতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হইয়াছে।"
[সূরা বাকারা : ১৮৫]

কুরআন হচ্ছে মানুষের দিশারী, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী। আর এটা নাযিল হয়েছে রমযান মাসে। কাজেই এ মাসের একটা স্বাভাবিক দাবী হল এই 'সৎপথের দিশারী' বেশি বেশি অধ্যয়ন করা, চিন্তা করা গবেষণা করা। অনেকে আছেন যারা মানুষকে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে নিরুৎসাহিত করে। অথচ আল্লাহ বলেন- "তারা কি কুরআন অনুধাবনের চেষ্টা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?" [সূরা মুহাম্মদ : ২৪]
এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে কাফির মুশরিকদের লক্ষ্য করে। অর্থাৎ আল্লাহ কাফির মুশরিকদের কে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলেছেন। আর আমরা মুসলিমদের কে কুরআন পাঠে নিরুৎসাহিত করছি, নিজেদের অন্তরে তালা লাগালে চাচ্ছি।
আফসোস! অথচ আল্লাহ বলেন- "আর আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি??"
এই আয়াতটি সূরা ক্বমারে ৪বার উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭, ২২, ৩২ এবং ৪০ নং আয়াতে। আসলে কুরআন হচ্ছে পাঠ করার, অনুধাবন করার, অনুসরণ করার একটি কিতাব। কুরআন শুধুমাত্র চুমু খেয়ে আকর্ষণীয় গিলাফ জড়িয়ে উচুঁ তাকে রেখে দেওয়ার কিতাব নয়।
সর্বোপরি রমযান হল প্রশিক্ষণের মাস এবং তওবার মাস। দীর্ঘ একমাস মুমিন এসময়ে ভালো ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার এবং খারাপ অভ্যাস বর্জন করার প্রশিক্ষণ পাবে। আর এই প্রশিক্ষণ তার বাকি মাসগুলোতে তাকওয়ার উপর টিকে থাকতে সাহায্য করবে। সেইসাথে পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করিয়ে নেওয়ার উত্তম সময় হল এই রমযান মাস। তাই চলুন আমরা তওবা করি, বিশুদ্ধ তওবা যেমনটি আল্লাহ বলেছেন-
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর- বিশুদ্ধ তওবা..।"
[সূরা তাহরীম : ৮]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×