somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গত বিশ্বকাপের কিছু সুখকর স্মতি ও আজকের কোয়াটার ফাইনাল

০৫ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফুটবল খেলায় বা যে কোন খেলায় আমাদের প্রিয় দল জয়লাভ করলে আমরা আনন্দিত হই আর পরাজয়ে আমরা ভীষণ কষ্ট পাই। আমার কাছে এখানে কেন জানি মনে হয় ব্যাপারটা ঠিক মানব-মানবির প্রেমের মত। এক জন যেমন অন্য এক জনের প্রেমে পড়ে যায় কোন কারন ছাড়াই। আর তা থেকে আমি বাদ যাই কিভাবে? আমারও ভাল লাগা থাকতে পারে। থাকতে পারে কোন পছন্দের দল। ফুটবলে আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা আর স্পেন।

প্রতি ৪ বছর পর পর বিশ্বকাপ ঘুরে ফিরে আসে এবং অনেকেরেই হাঁসিয়ে আবার কাউকে না কাউকে কাঁদিয়ে চলে যায়। এই বিশ্বকাপকে ঘিরে অনেকেরেই ফেলে আসা জীবনে কত না সুখ স্মৃতি আবার কতনা দুঃখ স্মৃতি জড়িয়ে আছে? আমার খুব মনে পড়ে গত ২০১০ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের স্মৃতি। তখন আমি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের(২০০৯-১০) হায়ার-সেকেন্ডারির ছাত্র। আমি নিজেই ৩টা প্ল্যাগ লাগাই হলের(নিউ হোষ্টেল) ছাদে। প্রত্যেক বারের মত তখনও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল নিয়ে খুব মাতামাতি আর যুক্তি খন্ডের পর্ব চলে ডাইনিং রুম, পুকুর ঘাট, পেপার রুম, ছাদে আর প্রত্যেক রুমে। ভুলে না গেলে খুব সম্ভবত ২ জুলাই, ও ২০১০ রোজ শুক্রবার ছিল নেদারল্যান্ডস vs. ব্রাজিলের খেলা। যুমার পর থেকে হলে টানটান উত্তেজনা। আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল ব্রাজিল হারবে সে প্রেডিক্ট থেকে বাজিও ধরতে পেললাম কিছু বন্ধুর সাথে। এক পর্যায়ে সুরমা হোটেল(টমছম ব্রীজ, কুমিল্লা) যা ইচ্ছা তা খাওয়া আর মামুন ভাইয়ের দোকানে(কাশ্মীর সুইটস, টমছম ব্রীজ, কুমিল্লা) ১০০ টাকার নাস্তা। আর পুকুরের পানিতে দলবেঁধে চুবানো তো আছেই!!! শেষ পর্যন্ত দেখা গেল আমার প্রেডিক্ট মিলে গেছে। এতে কোন ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের রুমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। চোখে টর্চলাইট লাগিয়ে ৮ নাম্বার রুম থেকে ৪০৮ নাম্বার রুম পর্যন্ত যাকে(ব্রাজিলিয়ান সমর্থক) পাওয়া গিয়েছিল তাকে ৫-৬ জন কোলে করে নিয়ে পুকুরে ফেলে দিই। এই অভিযান চলে রাত প্রায় ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত হটাৎ নিউজ আসে কিছু কাপুরুষ ব্রাজিলিয়ান সমর্থক আশ্রয় নিয়েছে্ রবীন্দ্রনাথ হলে(হিন্দু ব্লকে) হাটি হাটি পা পা করে উৎ পেতে বসে থাকি ৪২ নাম্বার রুমের কোনায় আর ৮ নাম্বার রুমের দেয়ালের ছায়ায়। শেষ পর্যন্ত রাত যখন ১টা থলের বিড়াল বের হয়ে মিউ বলতেই কাউন্টার এট্যাকে ফেলে দেই পানিতে। এতে সাময়িক কষ্ট ছিল ভুক্তভোগিদের। কিন্তু ছিল অফুরন্ত সুখ।
ঠিক এরপর দিনই(৩ জুলাই,২০১০) ছিল আমার আমার পছন্দের টিম আর্জেন্টিনার ম্যাচ। হলে খেলা দেখার সাহস হারিয়ে ফেলছিলাম প্রথম ৩ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে। অতঃপর ডাইনিং রুমের পেছনের দরজা দিয়ে সাইকেল নিয়ে চলে গেলাম টাউন হল মাঠে। উদ্দেশ্য বড় পর্দায় খেলা দেখবো আর জয়ের আনন্দে একসাথে বীরের মত হলে ঢুকবো। কিন্তু হায় ক্লোজার গোল ৬৮', ৮৯' আর ফ্রিডরিকের ৭৪' মিনিটের সব আশা ছেড়ে দিয়ে পরাস্থ হলাম গতরাতের সাথে। খুব খারাপ লাগছিল রেফারি(রাভশান ইরমাতভ) ইনজাজ করায় । চরম টেনশন আর ব্রাজিলিয়ান বন্ধুদের ফোন কলে বিরক্ত হয়ে সেল ফোনটা বন্ধ করে দিলাম সেই টাউন হলেই। আর চৌরঙ্গী মার্কেটের সামনে থেকে একটা পলিথিন নিয়ে সেলটা ঢুকিয়ে চললাম গত রাতের খায়েশ দিতে। খারাপ লাগতে লাগতে পপুলার হাসপাতাল পার হয়ে হলের সীমান্তে পা দিলাম। এখন চিন্তা হলে ঢুকবো কিভাবে!!! যেইনা মসজিদটা পার হয়ে ঢুকলাম তবেই ঘিরেই ধরা। আমিও কোন বাঁধা না দিয়ে স্বেচ্ছায় চললাম পুকুরের ধারে। হটাৎ মোড় দিতে এক দৌড়ে পূর্ব ব্লকের পুকুর ঘাটলায়। কারণ একটাই এখানে চুবালে দল বেঁধে আর ওই ঘাটলায় স্বেচ্ছায়। ডুব দিয়েই গত রাতের দায় শেষ করি।

আজ সেই সময়ের মত ঘুরে এলো এই বিশ্বকাপের(২০১৪) কোয়াটার ফাইনাল। রাত ১০টায় জার্মানি আর ফ্রান্সের খেলায় সাপোর্ট দিয়েছিলাম ফ্রান্সকে। কিন্তু ১-০ তে জার্মানি চলে গেল সেমি-ফাইনালে। ৪৪ মনিট পরে শুরু হচ্ছে হোষ্ট ব্রাজিল vs. কলম্বিয়া'র ম্যাচ। দুটোই ল্যাটিন আমেরিকান টিম আজকে আমি সাপোর্ট দিচ্ছি ব্রাজিলকে।
কারণ কবি নজরুল বলেছেন,
উহারা চাহুক সন্কীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ,
আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×