somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম গ্রহন

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেক্সিকোয় দ্রুত বাড়ছে মুসলমানদের সংখ্যা
ইনকিলাব ডেস্ক : মেক্সিকোতে ইসলামের দ্রুত প্রসার ঘটছে। ১৯৯৪ সালে মেক্সিকো সিটিতে মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ জন। তবে এখন অবস্থা বদলে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালে মেক্সিকোতে মুসলামানদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার। ১৩ ফেব্রুয়ারি ডেনভার পোস্টে প্রকাশিত ঝড়সব গবীরপধহ ঈধঃযড়ষরপং হড়ি ভরহফ এড়ফ রহ ওংষধস অবলম্বনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো-
১৯৯৪ সালে মরক্কো থেকে মেক্সিকো সিটিতে এসেছিলেন সৈয়দ লুয়াহাবি। তখন এই শহরে মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০ জন। এদের বেশিরভাগই ছিল কূটনীতিক ও ব্যবসায়িক। সে সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, তখন মেক্সিকোতে মুসলিম সম্প্রদায় ছিল খুবই ছোট। এদের বেশিরভাগই ছিল বিদেশি। মেক্সিকানরা ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানত না। সে সময়ে একটি মসজিদ খুঁজে পেতে তাকে হয়রান হতে হয়েছিল। লুয়াহাবি বলেন, ‘অনেক সময় ২-৩ মাসেও একজন মুসলমানের দেখা মিলত না।
তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোতে মুসলমানদের জন্য তৈরি হয়েছে একটি ভিন্নতর পরিবেশ। মেক্সিকোতে মুসলমানের সংখ্যা অনেক। তাদের বেশিরভাগই মেক্সিকান। এখন প্রতি শুক্রবারই ইসলাম গ্রহণ করছেন মেক্সিকানরা। কোনো কোনো শুক্রবার ৫ জনও ইসলাম গ্রহণ করেন। লুয়াহাবি জানান, নবদীক্ষিতদের বেশিরভাগই নারী।
‘হোয়াই ইসলাম’ নামের একটি সংগঠনের ২০১২ সালের জরিপে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে মেক্সিকোতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ৩ হাজার লোক। এদের ১৯ শতাংশ ছিলেন ল্যাটিনো এবং অর্ধেকেরও বেশি নারী। ২০১১ সালের ৫২৪টি মসজিদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে নারীদের ইসলাম গ্রহণের হার ৮ শতাংশ বেড়েছে। দুই দশক আগে মেক্সিকোতে একটি মসজিদ খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। তখন পাকিস্তানী দূতাবাসের মসজিদে অনেকে নামাজ পড়তেন। তবে এখন অবস্থা বদলে যাচ্ছে।
পিউ রিসার্চের গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ৯৬.৭ শতাংশ। ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২.৭ শতাংশে। এখন ক্যাথলিকদের একটি অংশ ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় আরো বলা হয়, ২০১০ সালে মেক্সিকোতে মুসলামানদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার। তবে ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ২৬ হাজারে।
মেক্সিকোর খ্রিস্টানরা কেন ইসলাম গ্রহণ করছেন?
কেউ কেউ বলছেন, ক্যাথলিকদের ঈশ্বরের তিন রূপ মতবাদ, যাকে বলা হয় ‘দা ট্রিনিটি ডকট্রিন’ (পিতা, সন্তান ও পবিত্র সত্তা)-এর বিপরীতে ইসলামে এক আল্লাহতে বিশ্বাস অনেককে আকৃষ্ট করেছে। এছাড়া খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর সীমাহীন অভিযোগেও অনেক খ্রিস্টান বিরক্ত। তারা ইসলামে এর সমাধান পাচ্ছেন।
এদেরই একজন মার্থা আলামিলা, বয়স ২৩। তিনি একটি ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি সব সময় উচ্চতর শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু গির্জায় এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তার সন্তোষজনক জবাব পাননি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদে বসেই আলামিলা বলেন, ‘আমার মনে কোনো সংশয় ছিল না যে ঈশ্বর আছেন। কিন্তু আমার ধর্মের কাছে অনেক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে আমি অর্থপূর্ণ জবাব পাইনি। আমাকে বলা হতো- ঈশ্বর এভাবে বলেছেন তাই, ঈশ্বর এরকম... ইত্যাদি ইত্যাদি।’
এভাবে চলার পর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রিধারী আলামিলা এক সময় উন্নত জবাব খোঁজার চেষ্টা করেন। আলামিলা বলেন, ইসলাম সম্পর্কে তার প্রাথমিক ধারণা ছিল যে, এটি সন্ত্রাসবাদ ও নিপীড়নের ধর্ম। কিন্তু পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করার পর এবং মুসলমানদের সঙ্গে বৈঠকের পর তার ধারণা পাল্টে যায়। তিনি যেসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছিলেন তাও পেয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা একটা সুন্দর ধর্ম। এখানে প্রত্যেকটা জিনিসের অর্থ আছে। কুরআন ও হাদীসে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব আছে।’
প্রায় ছয় মাস ইসলামের ওপর অধ্যয়ন শেষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন আলামিলা। তিনি আরো বলেন, ইসলাম সম্পর্কে তার সবচেয়ে সাধারণ যে ভুল ধারণাটি ছিল তা হলো এই ধর্ম নারীদের অধিকার হরণ করে, তাদের মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া হয় না এবং নারীদের হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু ইসলামের ওপর অধ্যয়ন শেষে তার এই ভুল ধারণা ভেঙে যায়।
- See more at: Click This Link












১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×