somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা-বাবার প্রতি ভালবাসা .।।।

০৭ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন আগের কথা।
একটা নদীর পাড়ে একটা অনেক বড়
আপেল গাছ ছিল। একটা ছোট্ট
ছেলে প্রতিদিন
গাছটার কাছে যেতো এবং গাছটার
কাছাকাছি খেলতে পছন্দ করতো। সে গাছে চরতো, আপেল খেতো।
এবং ক্লান্ত হয়ে গেলে গাছের
ছায়ায় ঘুমিয়ে পরতো।
সে গাছটাকে ভালবাসাতো । আর গাছটাও ছেলেটাকে ভালোবাসতো।

সময় গড়িয়ে চলল . . . . .
ছোট্ট ছেলেটা বড় হতে লাগলো,
এবং তখন সে আর আগের
মতো প্রতিদিন গাছটার
চারিদিকে খেলতে যেতো না।
একদিন ছেলেটা গাছটার কাছে আসলো। তার মন খুব খারাপ
ছিলো। গাছটা ছেলেটাকে বলল
"আসো। আমার সাথে খেলো।"
ছেলেটা জবাব দিলো, আমি আর ছোট্ট বাচ্চা না। আমি এখন কোন
গাছের সাথে খেলি না। আমার এখন খেলনা দরকার।
এবং খেলনা কিনার জন্য দরকার
টাকা।" গাছটা বলল "দুঃখিত।
আমার কাছে তো টাকা নেই।
কিন্তু তুমি আমার আপেল
গুলো নিতে পারো। এগুলো বেচে তুমি টাকা পেয়ে যাবে।
ছেলেটা গাছের কথা শুনে উত্তেজিতো হয়ে উঠলো।
সে গাছের সব আপেল পেড়ে নিল এবং খুশি মনে ফিরে গেলো।
ছেলেটা আপেল গুলো পেড়ে নেবার পর আর ফিরে আসলোনা।
গাছটার মন খারাপ হয়ে গেলো।
একদিন ছেলেটা আবার গাছটার কাছে ফিরে আসলো
উত্তেজিত ভঙ্গিতে গাছটা ছেলেটাকে বলল "আসো। আমার সাথে খেলো।"
ছেলেটা বলল" আমার খেলার সময়
নেই। আমাকে আমার পরিবারের জন্য কাজ করতে হবে।
আমার এখন বসবাসের জন্য একটা ঘর লাগবে।
তুমি কি আমাকে সাহায্য করতে পারবে?"
গাছটা জবাব দিলো" দুঃখিত।
আমি তো তোমাকে ঘর দিতে পারবো না।
কিন্তু তুমি আমার ডালগুলো কেটে ঘর বানাতে পারো।"
ছেলেটা গাছটার সব ডাল কেটে নিলো এবং খুশি মনে চলে গেলো।
গাছটা ছেলেটার আনন্দ দেখে অনেক খুশি হল।
কিন্তু ছেলেটা আর ফিরে আসলো না।
গাছটা আবার একা হয়ে গেলো ।
একদিন গ্রীষ্মের একটা প্রচন্ড গরমের দিনে ছেলেটা আবার আসলো ।
গাছটা ছেলেটাকে দেখে খুব খুশি হল।
গাছটা ছেলেটাকে বলল" আসো। আমার সাথে খেলো।"
ছেলেটা বলল "আমি খুব দুঃখি । আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। আমি এখন একটু সমুদ্রে ঘুড়ে আসতে চাই।
তুমি কি আমাকে একটা নৌকা দিতে পারবে?
গাছটা জবাব দিলো "আমার গুড়ি তুমি নৌকা বানাতে কাজে লাগাতে পারো, তুমি অনেক
দূরে ঘুড়তে যেতে পারবে এবং আনন্দ পাবে ।
"তখন ছেলেটা গাছের গুড়ি কেটে নিলো এবং একটা নৌকা তৈরি করল।
সে সমুদ্র ভ্রমনে চলে গেলো এবং অনেক দিন পর্যন্ত আর ফিরলো না।
ছেলেটা অনেক অনেক বছর পর আবার ফিরে আসলো।
গাছটা ছেলেটাকে দেখে বলল "আমি খুবই দুঃখিত।
তোমাকে দেওয়ার মতো আমার আর কিছুই নেই। তোমার জন্য কোন আপেল নেই। "ছেলেটা বলল "আপেল খাওয়ার মতো দাত আমার নেই।"
গাছটা বলল "আমার পিঠে চড়ার জন্য কোন গুড়ি নেই।"
ছেলেটা বলল "আমি অনেক বুড়ো হয়ে গেছি। তাই তোমার পিঠে চড়তে পারবো না।"
গাছটা দুঃখ নিয়ে বলল" তোমার জন্য আমার কাছে আর কিছুই নেই।
যা আছে, তা হল কিছু মরমরা শিকড়।" ছেলেটা বলল "আমার এখন বেশি কিছুই চাইনা।
শুধু বিশ্রামের একটা জায়গা পেলেই আমি খুশি।"
গাছটা একটু খুশি হয়ে বলল "পুরোনো গাছের শিকড় বিশ্রামের জন্য আদর্শ জায়গা। আসো আমার সাথে এসে বসো এবং বিশ্রাম
নাও।" ছেলেটা গাছটার পাশে এসে বসলো। গাছটা অনেক খুশি হলো এবং অশ্রুমাখা হাসি হাসলো।

এই গল্পটা সবার জন্যই প্রয়োজনীয়। গল্পটা প্রতিকি ।
এখানে গাছটা দিয়ে আমাদের মা-বাবা কে বুঝানো হয়েছে।
আমরা যখন ছোট ছিলাম।
আমরা মা-বাবার সাথে খেলতে পছন্দ করতাম। যখন আমরা বড় হয়ে যাই, তখন তাদেরকে ছেড়ে চলে যাই।
আমাদের প্রয়োজনে অথবা যখন আমরা বিপদে পরলেই শুধু তাদের
কাছে ছুটে আসি। মা-বাবা সব সময় আপনার সাথেই থাকবে এবং আপনাকে খুশি করার সাধ্যমত চেষ্টা করেন। আমাদের অনেকের অবস্থাই অনেকটা গল্পের ছেলেটার মতো।
যেখানে ছেলেটা গাছটার সাথে নিষ্ঠুর ব্যাবহার করেছে, গাছটাকে সবসময় একটা বোঝা মনে করেছে।

ভুলে যাবেননা, মা-বাবা আপনার জন্য অনেক বড় সম্পদ। ্আল্লাহতালার সর্বশেষ্ঠ উপহার আপনার জন্য।
তাদেরকে বোঝা মনে করবেন না। আর তাছাড়া মা-বাবা আপনার সাথে সারাজীবন থাকবে না। তাই আসুন আজকে থেকে প্রতিজ্ঞা করি মা-বাবাকে আর কখনো কষ্ট দিবো না।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×