মা,কেমন আছ?নিশ্চই তুমি ভালনেই। কি করে ভাল থাকবে?তুমার ভাল থাকার ওষুধটা তো সে আমি।মা,,,,তুমি ভেবনা,
আমি খুব ভাল আছি!
মা,আমার ভীষন ক্ষুধার সময় যখন আমি খাবারের জন্য তুমার কাছে চেঁচামেচি করতাম-তখন তুমি দুপুরের রান্নার কাজে ব্যাস্ত থাকতে।তার পরও যখন আমি মানতে চাইতাম না,তখন তুমি তারা হুরু করে সকালের বেঁচে যাওয়া খাবারটা এনে দিতে।আমাকে রান্না শেষ হওয়া অবধী শান্ত করার জন্য।কিন্তু তাতে আমার শস্তি তো হতোই না বরং উল্টু হয় খাবার ছুড়ে মেলতাম না হয় ঠান্ডা খাবার দেওয়ায় চেঁচাতাম।তখন মা তুমি একটু মিস্টি কষ্টে ও মিস্টি জগড়ায় বলতে-
মার সাথেই পারবি যত ফুটাং দেখাতে!
দেখি কোন্ নবাবের জ্বী ঘরে তুলিস!
৩দিনের খাবার খেতে হবে বাবা কিন্তু কিছু তো বলতেই পারবি না বরং ওটাই খেতে ভাল লাগবে!
মা তুমি তখন ঠিকই বলেছিলে(তুমি এত কিছু কি করে জানতে?)আমি কারও জ্বী আনা ছাড়াই বুঝতে পেরেছি!মা,তুমি তো বলেছিলে ৩ দিনের খাবার!আমি এখন ৭দিনের খাবারও খাই, তারপরও খুব ভাল লাগে!কাউকে কিছুই বলিনা।কারন,
বললে আমাকে আর খাবারই দিবেনা।
মা,অনেক রাত করে যখন আমি ঘরে আসতাম তখন তুমি শুয়ে থাকতে ঠিকই কিন্তু আমার অপেক্ষায় থাকতে।দরজা খুলার শব্দ আমি নিজেই পাইনি তার পরও তুমি কি করে যেনো আওয়াজ পেয়ে যেতে,আর বলতে খোকা এসেছিস?
এত রাত পরে যে আসিস,তুই কি করে খাবি? এই বেলা দুপুর করে যখন উঠবি,
তখন তুকে কে কাজ দিবে হা?
মা,তুমি সব জানলেও এটা জানতে না।
জানো মা?
আমি এখনও আগের মত করেই অনেক রাতে বাসায় আসি কিন্তু আড্ডা হতে নই!কাজ হতে।তারপরও পাখিরা জাগার আগেই আমি জেগে উঠি! নইলে ওরা আমাকে আর রাখবে না।
মা,রান্না তো দূরের কথা রান্না ঘরেই তুমি আমাকে কখনো নিতে পারুনি কিন্তু এখন রান্না করা ছাড়া খাওয়ার কোন উপায় নাই।ছোট বোনটিকে কানে ধরতাম কাপড় গুলি না ধূলে।আজ নিয়মিত আমাকে কাপড়ও ধূতে হয়।
হাঁছি দিলেই দৌড়ে এসে কান্নায় ভেঙে পড়তে মা তুমি। কিন্তু আজ ১৫ দিন ধরে জর।
কিছুই খেতে পারিনা,সব তিতা লাগে।
তারপও কেউ বলে না একটু লেবু খেতে।
কেউ এসে বলেনা একটু মাথাটা বুলাতে।
কেউ বলেনা গাটা পুড়ে যাচ্ছে একটু জলপটি দিতে।
মা,পুরুটা শরীর থর থর করে কাঁপছে। উঠে বসতে পারছিনা।তারপরও আমাকে বেঁচে থাকার তাগিদে যা জরুরী তা করতেই হচ্ছে।আর তখনই তুমাকে কাঁপা কাঁপা হাতটি দিয়ে লিখতে বসছি-
মা,,,,আমার চলার সব পথটিতে তুমি থাকতে পারোনা?

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



