somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কাপুরুষত্ব"

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"কাপুরুষত্ব"
--- ফখরুল আমান ফয়সাল

আমি বাড়িতে, অফিসে বা কোন কর্মস্থলে নারীদের নাজেহালের কথা লিখতে বসিনি, যেটা নিয়ে বলতে এসেছি সেটা আরোও জঘন্য।

কখনো স্বামীর সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে, কখনোবা ভাইবিহীন অসুস্থ মা-বাবার সংসার একা চালিয়ে যেতে, আবার কখনো পড়াশুনার খরচের জন্যেও আমাদের সমাজের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মেয়েদেরকে কাজে নামতে হয়। অনেক খোঁজার পর তাদের জোটে ছোটখাট কিংবা পার্টটাইম চাকরী, যেখানে সন্মান বা বেতন নিতান্তই ক্ষুদ্র! কষ্ট, হয়রানি বা অবমূল্যায়ন জেনেও এক প্রকার বাধ্য হয়ে আমাদের এই বোনদেরকে নেমে যেতে হয় জীবনযুদ্ধে।

কাজ শেষে তারা যখন বাড়িতে ফেরে, তখন সারাদিনের পরিশ্রমটার বেদনা হয়ত ভুলে যেত; কিন্তু না, শারীরিক পরিশ্রমটার কথা ভুলে গেলেও আমাদের দেয়া সম্ভ্রমহানির কষ্ট ভুলার মত না । এই সমাজ থেকে তাদেরকে সম্মান দেয়াটা দূরে থাক, আমরা প্রতিনিয়ত লজ্জায় ফেলছি, বুঝিয়ে দিচ্ছি, ওহে তুই পাবি না শান্তি কোথাও, কারন তুইতো নারী, তোর দূর্বলতার সুযোগ নেয়াই আমাদের পুরুষদের কাজ!

একটা অফিসে একটা নারীকে কত জনের থেকে বাঁচাতে হয় নিজেকে? কিন্তু রাস্তায়, পার্কে, ফুটপাতে, শপিং মলে, ভিড়ের মাঝে পাবলিক প্লেসে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নারীদেরকে অসম্মান করে বা অসন্মানের দ্ৃষ্টিতে তাকায়,অসংখ্য অমানুষ ওত পেতে থাকে একটু পরিস্থিতির সুযোগ নিতে, একটু অসতর্ক অবস্থায় যে কোন নারীকে ছুঁয়ে দিতে! শুধু কি স্পর্শ করা? তাদের উদ্দেশ্যটা জানোয়ারের চেয়েও খারাপ, কোন পশুও হয়ত এমন কাজ করতে পারে না!

রাস্তায় চলার পথে প্রায়ই দেখবেন কোন এক বোনকে ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত হেটে চলে গেছে কেউ একজন, এমন ভাব করে হেঁটে চলে যাবে যেন কি তাড়া তার, আর কিছু দেখেননি। অথচ ধাক্কাটা দেয়ার আগ পযর্ন্ত স্বাভাবিক গতিতেই ছিল এই লম্পট!কখনো ইচ্ছে করে বাসে মেয়েদের গা ঘেষে দাড়ানো, কখনো লিফটে বা কোন বসার স্থানে ইচ্ছে করে চাপ দেওয়া, কখনো ভীড়ের মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়া, আসলে পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন, এই অমানুষগুলা সুযোগ তৈরি করে নেয়, আর আমাদের বোনদের শরীরে হাত দেয়! আর আমরা ঘুমাই দু'চোখ খুলে।

দুশ্চরিত্র মানুষের বয়স লাগেনা, কখনো বাবার বয়সি, কখনোবা নিজের ভাই বা ছেলের বয়সিদের থেকেও এমন অশোভন আচরনের শিকার হতে হয় আমাদের বোনগুলোকে। একটু কি ভেবে দেখেছি কি তার পর মূহুর্তে কি অনুভূতি হয়, কি ঘ্ৃণা হয়! কি দোষে তাদের, কি দোষ?? পরিবারের বোঝা কমাতে এসেছে বলে? নাকি বাবা নেই মায়ের ঔষুধের খরচ একা বহনের দায়িত্ব নিতে হয়েছে বলে, নাকি স্বামীর একার পক্ষে সংসারটা চালানো, বাচ্চাকে মানুষ করানো সম্ভব হচ্ছেনা বলে কাজে নেমেছে, কোনটা দোষের হয়েছে এই বোনদের??

প্রতিদিন, প্রতিটা জনবহুল রাস্তায়, বাসের ভিড়ে, ওভারব্রিজের সিঁড়ির ধাক্কাধাক্কির মাঝে এই বোনদেরকে সহ্য করতে হয় অসংখ্য বিরম্বনা। আমরা পুরুষরা চাইলে এদেরকে ঠিকই ধরতে পারি, ধরে জন্মের শিক্ষাটা দিতে পারি আর যেন জীবনেও কাউকে এইভাবে অসম্মান করতে না পারে। কিন্তু আমরা করি না, একটু তাকিয়ে থেকে আবার নিজের মত চলতে শুরু করি। কারন আমরা ভাবতে পারিনা ঐ মেয়েটার কতটা কষ্ট হচ্ছে, আমরা একটুও উপলব্ধি করতে পারিনা তার লজ্জা, তার ঘামে ভেজা শরীরটার পবিত্রতার কথা।

একটা চাপা কষ্ট এটা, কাউকে বলা যায় না, কারো থেকে বিচার চাওয়া যায় না। হায়রে পুরুষ, পারবি তোর নিজের মা, তোর বউকে, তোর বোনকে কাউকে স্পশর্ করতে দিতে?? কিভাবে পারি আমরা কারো আত্নাটাকে এইভাবে পোড়াতে! জানেন কোন মানুষকে একবার ব্যাথা দিলে, শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে কতক্ষন থাকে তার কষ্ট? থাকেনা, ঘা শুকানোর সাথে সাথেই তা ভুলে যাওয়া যায়। কিন্তুু এই বেদনাটা, এটা লজ্জাটা, এটা শুকায় না।

বোনরে, মাফ করে দিস আমরা চুপ ছিলাম বলে, মাফ করে দিস তোর কান্না দেখিনি বলে, তুইতো চোখের পানি ফেলিসনি, তুইতো অাড়াল করে কেঁদেছিলি, দেখেছি তোর চোখ ছলছল করছিল, অভিনয় ভেবে আমরা না দেখার ভান করেছি, আমরা শুনিনি তোর ওড়নার পেছনের আর্তনাদ, কখনো খেয়াল করিনি তোর ওড়নাটা ভিজে গিয়েছিল তোর চোখের পানিতে, মাফ করিস আমাদের। আমরা কাপুরুষ, আমাদের মাফ করে দিস তা ভেবে। ধিক্কার আমাদের পুরুষত্বের!
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×