somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আটক তিন ব্লগারের মুক্তি চাই না

০২ রা এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় সরকার বাহাদুর,
সারাদেশ জুড়ে কয়েক মাস ধরে চলমান নাশকতার পরিকল্পনাকারী জামাত-শিবিরের ফেসবুক প্রোপাগাণ্ডা পেজ "বাঁশের কেল্লা" ও "ইসলামী ছাত্রী সংস্থা" বহাল তবিয়তে আছে। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা পুলিশ ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী কমিশন তাদের কিছুই করেনি, করতে পারেওনি।
পরিষ্কার ভাষায় রেললাইন উপড়ে ফেলার বা পুলিশ হত্যার আহ্বান জানানো এই পেজগুলোর সফলতা আজকের খবরের কাগজের অনলাইন সংস্করণে দেখতে পাবেন। রেল বিচ্যুত হয়ে হতাহত যাত্রী নিয়ে ধানক্ষেতে পড়ে আছে তূর্ণা নিশীথা, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় আছেন রাজশাহীতে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার।এই পেজ যারা চালায়, আপনারা তাদের গুপ্তকেশটাও ছিঁড়তে পারেন নাই।
আপনারা ধরেছেন তিনজন ব্লগারকে। তাদের অপরাধ, তারা একটি ধর্ম সম্পর্কে নিজেদের মত প্রকাশ করেছে। তাদের এই মত প্রকাশের জন্য কোনো ট্রেন লাইনচ্যুত হয়নি, কোনো মানুষও আহত বা নিহত হননি। তারা কোনো ধরনের নাশকতার ডাকও দেননি। আপনারা যদি এতই ধর্মবিশ্বাসী হবেন, তাহলে ধর্মের ঈশ্বরের হাতে পরকালে এদের বিচারের ভার কেন ন্যস্ত করেন না?
জামাতশিবির নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে যখন শান্তিপূর্ণ অনশন পালিত হয়, আপনারা সাড়া দেন না, আর যখন অশান্তির হুমকি আসে হেফাজতে ইসলামের পাণ্ডাদের কাছ থেকে, তখন আপনারা নিরীহ তিনজন লোককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে তাদের ছবি ছাপিয়ে দেন মোল্লাদের আশ্বস্ত করার জন্য।ভোটের জন্য? মোল্লাদের ভোট আপনারা পাবেন না। তাদের জুতা জিহ্বা দিয়ে চেটে সাফ করলেও পাবেন না।
বরং যারা জামাতশিবিরের রাজনীতির মোকাবেলা করার জন্য আপনাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে, তাদের ভোট হারানো শুরু করবেন। তিনটা ভোট এর মধ্যেই হারিয়েছেন, হয়তো কয়েকদিনের মধ্যে তিন মিলিয়ন ভোটের সংকল্পের গন্তব্য পাল্টে যাবে।
যে তিনজন ব্লগারকে আটক করেছেন, তাদের মুক্তি চাই না। তাদের আপনারা আটকে রাখুন। কারণ আপনারা তাদের নামধামছবি সব প্রকাশ করে দিয়েছেন। মুক্ত বাংলাদেশে এখন তাদের পিছু নেবে আততায়ীরা, যারা আপনাদের কল্যাণেই এদের চিনে নিয়েছে এবং যাদের দমন করার ব্যাপারে আপনাদের কোনো সদিচ্ছা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
এই তিন ব্লগারকে আটকে রাখুন। যে দেশে ঈশ্বরের প্রতি অনাস্থার শাস্তি ঘাতকেরা বাড়ি এসে বুঝিয়ে দিয়ে যায়, সে দেশে পুলিশের হাত থেকে "মুক্তি"র কোনো অর্থ নাই। এদের আটকে রাখুন, বাঁচিয়ে রাখুন। আর মোল্লাদের স্যান্ডেল আইসক্রিম জ্ঞান করে লেহন করে যান।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×