কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জেহাদুল করিমের হাতে লাঞ্চিত হলেন এক শিক্ষক। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজন বিরাজ করছে। আগামীকাল মানববন্ধন কর্মসূচীর ঘোষনা করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা আজ ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে। তারা অবিলম্বে ভিসিকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানায়। বিষয়টি এখনই সমাধান না হলে তাতে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। একজন ভিসি একজন শিক্ষককে তার রুমে দৌড়ে ধরে কিল ঘুষি মারবে বিষয়টি কত লজ্জাস্কর জাতির জন্য......। ধিক এমন ভিসিকে
আজকের মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদটি.............বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. জেহাদুল করিমের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে ভিসি'র কক্ষে সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান লাঞ্ছিত হওয়ার পর সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, কম্পিউটার সায়েন্স কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের কিছু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি'র কার্যালয়ে যান। তিনি ভিসিকে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে একাডেমী কাউন্সিলের সভায় বিভাগের নাম পরিবর্তন হয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং হয়ে যাওয়ার পরও বিষয়টি নোটিশ আকারে জারি হয়নি। তখন ভিসি নোটিশ জারি না হওয়ার বিষয়টি বিভাগের ব্যর্থতা বলে সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমানকে তিরস্কার করেন। এ সময় বিষয়টি রেজিস্ট্রারের দপ্তরের ব্যর্থতা দাবি করায় ভিসি প্রফেসর ড. জেহাদুল করিম তার উপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন। এ সময়ে সহকারী অধ্যাপক জাহিদুর রহমান ভিসি'র কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে পেছন থেকে দৌড়ে এসে ভিসি তার জামায় টেনে ধরে কিলঘুষি মারেন। সেই সঙ্গে তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
সূত্র: http://www.manabzamin.net/othernews.htm
প্রফেসর জেহাদুল করিমের ব্যাক প্রোফাইল; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ভিসি হওয়ার জন্য প্রফেসর জেহাদুল করিম সরকারের দোরগোরায় অনেক ঘুরেছেন। রাবি ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি করলেও তিনি নিজেকে যোগ্য ও নিরপে বলেও সরকারের নিকট তথ্য সরবরাহ করেন। নিকট আত্মীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে থাকায় তিনি সরকারের বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেন। কিন্তু বাংলাদেশের বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে নিয়োগ দিলে বড় ধরণের আন্দোলন হতে পারে এমন আশঙ্কায় কুমিল্লার এ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রফেসর এএইচএম জেহাদুল করিম প্রকাশ্য দলীয় ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী প্যানেল থেকে সিন্ডিকেট ও সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক হিসেবে যোগদানের আগে ও পরে তিনি প্রকাশ্য রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ক্যাম্পাসের 'বঙ্গবন্ধু এত জনপ্রিয় কেন?' শীর্ষক সেমিনারের প্রবন্ধকার ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রফেসর জেহাদুল করিম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এসময় তিনি দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম তদন্তে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্তে গঠিত চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহবায়ক ছিলেন। ইউজিসি কর্তৃপক্ষ তদন্তের সব বিষয় পুরোপুরি গোপন রাখার কথা বললেও তা তিনি রক্ষা করেন নি। রাবি সাংবাদিকদের ডেকে তিনি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তবে রাবি কর্তৃপ এসব বক্তব্য সম্পর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এঘটনায় প্রফেসর জেহাদুল করিমকে ইউজিসি চেয়ারম্যান শোকজ করে বলে একটি সূত্র জানায়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


