somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার যদি সব সমই মন খারাপ থাকে তবে পড়তে পারেন এই পোস্ট(বেইজড অন ট্রু স্টোরিজ)

১১ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার পরিচিত অনেকে ২৪/৭ এবং বছরে ৩৬৫ দিনই মন খারাপ দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে। মন থাকলে সেটা ভাল বা খারাপ হওয়া স্বাভাবিক ব্যপার।তবে অনেকের ব্যপারটা কেমন যেন ন্যাকামি মনে হয়। মানছি সবার দুঃখ তার নিজের কাছে বড়। এক সময় আমি নিজেও এরকমই ছিলাম।বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর কিছু অল-ওয়েজ হাসিখুশি মানুষের দেখা পেলাম। শোনা যাক তাদের ঘটনা।

এক, হলের এক বড় ভাইয়া ছিলেন। যিনি আড্ডাতে বসলে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন।একদিন ভাইয়ার রুমে গেলাম।অদ্ভূতভাবে ভাইয়া নিরব।ঘটনা কি ভাই? আস্তে আস্তে এরকম এক ঘটনা জানলাম যেটা শুনতে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ভাইয়ার আম্মু মারা গেছেন সেদিনই। উনিছিলেন উনার সৎ মা,যিনি ভাইয়াকে ছোট বেলায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন।ভাইয়া এর-তার বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোন।প্রতি ঈদে উনি কখনো বাড়ি যেতেন না,কারণ তার তো বাড়ি থেকেও ছিল না।অথচ এই ভাইয়াই তাঁর টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে নিজের জন্য কিছু না কিনে প্রতি ঈদে তার বাবা আর মা-কে পোশাক পাঠাতেন। উনার মা তখন ধীরে ধীরে চেঞ্জ হোন। কিন্তু কোন আমাদের অভিমানী সেই ভাইয়া আর কখনো বাড়ি ফিরে যান নি। সেই ভাইয়াই তাঁর সৎ-মায়ের জন্য কাঁদছেন। আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ চলে এলাম।কি বলবো ! পরের দিন সকালে নাস্তা খেতে গিয়ে দেখি সেই পুরনো রূপে ভাইয়া। উনার সাথে যোগাযোগ নেই এখন,তবে যতটুকু জানি উনার কষ্টের দিনের অবসান হয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে উনি খুব ভাল ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন।

দুই, এবার আরেক বন্ধুর গল্প। তার একটা ছোট কথা মনে পড়লেই আমি মন খারাপ করে থাকতে পারি না-" তোমরা শুধু অযথা মন খারাপ করে থাকো। আর আমার বাবা আর মা পর পর দুই বছর মারা যান,আমার দুই ইয়ার পরীক্ষার সময়। আমার ভাইয়া-আপুয়া আমার খোঁজ নেয় কিন্তু তাদের তো নিজের পরিবার আছে।আমি যখন বাসায় যাই আমার জন্য কেউ খাবার সাজিয়ে রাখে না, আমি ঘুম থেকে দেরিতে উঠলে কেউ আমাকে ডেকে দেয় না,আমার জন্য নাশতাও রেডি থাকেনা। যখন কেউ থাকেনা তখন আমি আব্বু-আম্মুর ব্যবহার করা জিনিস গুলো বুকে জড়িয়ে ধরে নিরবে কাঁদি।"
তারপর আবার তার হাসি,"আরে বাদ দাও তো।আসো মুভি দেখি।।... "

এরকম মানুষগুলো জীবনযুদ্ধে হার মানে নি,এগিয়ে চলেছে। তাহলে আমাদের যাদের সব কিছু আছে তাদের মন খারাপ নামের বিলাসী রোগটা দূর করে ফেলাই কি উত্তম নয়?

হে পরম করুণাময়,তুমি আমাকে অনেক আনন্দে রেখেছো।শুধু মাঝের অস্থির সময়টুকু পার করার ধৈর্য আমাকে দাও। বাকিটুকু আমি লড়ে যেতে পারবো ইনশাল্লাহ। :-)
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই হচ্ছে না

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৪



কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×