somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“শুভ জন্মাষ্টমী”

১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রী কৃষ্ণা গবিন্দা হরে মুরারে , হে নাথে নারায়ণ .. হে বাসুদেবা ।
শ্রী কৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন এই তিথিতে । আজকের দিনে । মাতা দৈবক্ষি গর্ভে ও পিতা বসুদেবের ঔরসে । তিনি এসেছিলেন দাপরের যুগে, দাপরের শেষে তার মৃত্যু । তিনি মহামানব, তিনি সংহারকারী , তিনি সৃষ্টিশীল , তিনি শান্তিকামী , ধর্মের স্থাপনা, অধর্মের ধ্বংসই ছিল তার নিমিত্ব । শ্রী কৃষ্ণ জীবণে বহু যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠাতেই । যুদ্ধ মাত্র ধ্বংস হলেও তার কাছে সেই ধ্বংস ছিল অসূরের, মন্দের, অধর্মের । হিন্দু ধর্ম মতে নিতি নারায়ণ অবতার । শ্রী ভগবান নারায়ণ হলেন একজন ত্রিদেবের এক দেব । যিনি যুগে যুগে জন্মনেন মাতৃ গর্ভে , সমাজ থেকে অধর্ম নাশ করতে । শ্রী গীতায় কৃষ্ণের বানী হল ‘পরিত্রানায়ে সাধুনাং বিনাশয়েচ্ দৃশকৃতাম, সম্ভবামি যুগে যুগে ..’ অর্থাৎ, জগতে যখন দুষ্টের সংখ্যা বেড়ে যায় , আর ধার্মিকরা হয়ে পড়ে অসহায় , তখনই আমি নিজেকে মানব রূপে সৃষ্টি করি দুষ্টদের পরাস্থ করতে আর সাধুজনকে রক্ষা করতে ।
পাপাচার বৃদ্ধি পেলে আমরা এমন ত্রাণকর্তাকে বার বার জগতে পেয়েথাকি । কৃষ্ণ হলেন তাদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ ।
কৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন মথুরায়, বেড়েছেন গকুলে , রাজ্য স্থাপন করেছিলেন দ্বাড়কায় । তিনি গকুলকে করেছেন মধুময়, তিনি মথুরাকে করেছেন অধর্মমুক্ত আর দ্বাড়কা রাজ্যকে করেছেন সুখময় গণতান্ত্রিক রাজ্য । আমরা মহাভারতেই পাই গণতন্ত্রের প্রথম ছবক । শ্রীকৃষ্ণের রাজ্য দ্বারকায় কোন রাজা ছিলনা , ছিল জনগণের পূর্ণ অধিকার । সকল জনগণই ছিল সেখানকার সমান অধিকারে নাগরীক । কৃষ্ণের রাজ্যে তার বড় ভাই বলরাম শাসকের ভূমিকায় ছিল বটে কিন্তু কোন রাজা হিসেবে নয় , তিনি যাদবদের নেতা হিসেবে রাজ্য শাসন করতেন । অপরদিকে কৃষ্ণ যাবদ শ্রেষ্ট, তিনি প্রজাদের ভালমন্দের দিকে নজর দিয়ে ও রাজ্যে শত্রুদের নজর পরলে তা পরাস্থ করতেন ।
কৃষ্ণের বাণী হল শ্রীমত ভগবদ গীতা , আমি যতবার পড়ি মুগ্ধ হয়ে যাই । ছোটবেলা থেকেই আমার বিভিন্ন ধর্ম জানার আগ্রহ থেকেই আমি গ্রন্থসমূহ পড়ে থাকি । গীতার ৭০০ শ্লক, প্রতিটি শ্লকই উপদেশ বাণী । ভাল মন্দের নির্ণয়কারী ।
সেখানে যেমন আছে ধার্মীক বা দৈবগুন সমৃদ্ধ মানুষের বর্ণনা , তেমনি আছে অসূরীক গুণের মানুষের বর্ণনা ।
কি সুন্দর সেই বর্ণনা সমূহ । তার মতে শাত্র পাঠ করলেই জ্ঞানী হওয়া যায়না, জ্ঞানী হতে হলে তার সৎগুনও থাকতে হবে ।
দৈবগুনের অধীকারীদের ২৬টি গুণ থাকে তার মধ্যে শাত্রপাঠ একটি ।
গীতার ১৬ অধ্যায়ে বর্ণনা আছে , “নির্ভীকতা, চিত্তগুদ্ধি( আত্মশুদ্ধি), আত্মজ্ঞাননিষ্ঠা ও কর্মযোগে তৎপরতা , দান , বাহ্যেন্দ্রিয় সংযম (চোখ , কান, নাক, লিংগ , জিহ্বার মুখের.. ইত্যাদির সংযোম করা ) , যজ্ঞ, শাস্ত্র-অধ্যায়ণ, তপ:, সরলতা, অহিংসা , সত্য, অক্রোধ (হিংসা না করা) , ত্যাগ, শান্তি, পরনিন্দা-বর্জন, জীবে দয়, লোভহীনতা , মৃদুতা, কু কর্মে লজ্জ্বা , অচাঞ্চলতা, তেজস্বিতা, ক্ষমা, ধৃতি, শৌচ (পাকপবিত্রতা অর্জণ), দ্রোহ বা হিংসা না করা , অনভিমান ... এসকল গুণ হল দৈবী গুণ ।“
তাহলে শ্রীকৃষ্ণ শিক্ষা দিচ্ছে তাতে ২৬ টি গুণ থাকলে তাকে ধার্মিক বলা যায় । আমরা যদি কৃষ্ণের এই ২৬ গুণ ধারণ করতে পারি তবে আমাদের সমাজ থেকে অবশ্যই হিংসা হানাহানি দুর হবে । কোন ধর্মের কোন মানুষের সাথে বৈরিতা থাকবেনা , অহিংসা একটি গুণ ।
অপরদিকে একই অধ্যায়ে অসূরগুণের মানুষের পরিচিতি দেয়া আছে , যা বর্জনীয় । .. “কাম ক্রোধ আর লোভ” এই তিনটি হল অসূরের গুণ , এদের জন্য রয়েছে নরকের দ্বার উন্মুক্ত ।
তাই, আজ শুভ জন্মাষ্টমির দিনে সকলের কাছে একটাই কামনা , জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠাতে নিজেদের চরিত্র পরিবর্তন করি । তার বর্ণনা করা ২৬টি গুণ ধারণ করতে ও ৩টি অসুর গুণ ত্যাগে সম্পৃক্ত হই । জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক ...
সর্বে ভবন্তু সুখিনাহ... সর্বে সন্তু নিরামায়াহ.... সর্বে ভদ্রানিপাস্তান্তু... মা কস্যদুখভাগবেদা ......
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×