somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

১২৩৪
You are who you keep seeking for!

বিভ্রমণ বিভ্রান্তিতে...

০৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাতের আকাশে অসংখ্য তারার ভিড় আজ। দু-একটা এলোমেলো মেঘ অন্যদিন ভুল করে চলে আসে।আজ ওরাও ভুল করতে ভুলে গেছে হয়তো!

ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছে। আশপাশ থেকে ভেসে আসা ছিটেফোটা আলোও এবার নিরুদ্দেশ! এখন রাতের আকাশ আরও জমকালো। চারপাশের মসৃন কালোয় শুধু তারাদের আনাগোনা । এ ছাদ থেকে বাইরের কোলাহল অনেক দূরের।পাশের বাড়ির বাঁশঝাড় আমাদের ছাদে হেলান দিয়ে ঝিমুচ্ছে ! রাত্রি চুপিচুপি কখন জানি ওদের দিয়ে গেছে কালচে সবুজ পোশাক ! অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কটা ফেরারী জোঁনাকি হাজির...বাঁশপাতার ফাঁক দিয়ে ওরা উঁকি দিয়ে বুঝে নিতে চাইছে এসময়ে শহরে আসাটা ঠিক হল কিনা..!

ছাদের এপাশের কদম গাছটা একসময় আমার সমান ছিল...এখন দিব্যি দোতালা ছাদকেও হারিয়ে দিয়েছে...! তখন এ কদম গাছটার কাছে স্কুল থেকে ফিরেই ছুটে আসতাম ! স্কুলের গল্প গুলো শোনাতে...! দুপুরগুলিতে বাড়িতে রমা খালা ছাড়া আর কেউ থাকতো না..ও ব্যস্ত থাকতো কত কি কাজে..ভর দুপুরেও বাড়িটা ভিষণ খাঁ খাঁ করতো তখন...আমি আর মা মরে যাওয়া কদম গাছটা গল্প করে দুজন দুজনের নিঃসঙ্গতা দূর করে দিতাম...! শূন্যতায় ভরা দুপুরগুলি বেশ কেটে যেত কল্পপুরের সব রাজকুমারী আর দত্যি-দানোর সাথে...!
কেমন আছো...?
উত্তর যথারীতি নেই...!
একসময় নিজে বানিয়ে নিতাম জবাব...! এবার দেখে নিলাম..! ও ভিষণ ভাল আছে..।গত বর্ষার সাজ এখনো গায়ে।পাপড়ি ঝরা কমলার মত হয়ে উঠা কদম জানান দিচ্ছে ও কতটা সুখে আছে।ওর নতুন সঙ্গীকেও দেখতে পেলাম যেন...!অন্ধকারে আবছা অবয়ব।ওর কথা বাসায় পা দিয়েই শুনেছি।গাছের আম সে তার মনে করে বাড়িতে নিয়ে যায়...! কদমের ডালে বেশ ভাবুক ভঙ্গিতে দাড়িয়ে বিশাল লেজটা রাজকীয় হালে একটু একটু নাড়াচ্ছে আর খুব মনযোগ দিয়ে কি একটা জরিপ করছে..।রাতে কোন কদমটা দিয়ে খাবারের পর্ব সারা হবে সেটাই হয়তো...।
কাঠবিড়ালীকে কি ঈর্ষা করা যায়...? না..থাক! থাক ওরা বন্ধুতে মিলেমিশে...আমিওতো বদলে গেছি..!

আজ বিকেলে আকাশে অনেকগুলি সাদা ঘুড়ি দেখেছিলাম..হয়তো ওরই একটা ছাদের এ কোনটায় পড়ে আছে... না জানি কোন লক্ষী বাবুটার ঘুড়ি...কেটে গেছে তাতে কি...উড়েছে তো ওর ঘুড়ি...আমার ঘুড়ি আজ পর্যন্ত উড়েনি..!

জানতাম না একা ঘুড়ি উড়ানোই যায়না! প্রথমটায় ঘুড়ি উড়িয়ে দিতে কাউকে যে লাগে এ ছোট মাথায় আসেইনি ।বারবার চেষ্টা করছি ঘুড়িটা উড়াতে।ও উপরেই উঠছেনা..! আমি চেষ্টা করেই যাচ্ছি..আমার চেষ্টায় বিরক্ত হয়েই যেন ঘুড়ি গেল ছিড়ে ! ঝাপসা চোখে দেখেছিলাম অন্যদের ঘুড়িগুলো উড়েই চলছে...আমার হাতে লাটাই আর ছেড়া ঘুড়ি....। অনেকক্ষণ সেদিন ছাদে থাকি।আকাশের ঘুড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বহুক্ষন ধরে ভেবেছিলাম...একদিন আমার ঘুড়িও উড়বে....অনেক উচুতে উঠে ঐ মেঘদের গুঁতো দিয়ে আসবে....!

কি ভিষণ বোকা বোকা কষ্ট ছেলেবেলার..! বোকা বোকা নিঃসঙ্গতাগুলি কত বিভ্রান্তিতে আশ্রয় খুঁজেছে বারবার....! নিঃসঙ্গতা সবসময়ই কেন বিভ্রান্ত হয়...? সবসময় কেন ভুল কোথাও নিয়ে যায়?

বাঁশের পাতাগুলি তিরতির করে কাঁপছে.....কাঠবিড়ালীটা কদম গাছ থেকে অন্য গাছে ছুটে গেল, জোনাকীগুলো বাঁশপাতা ছেড়ে আম গাছটিতে ভিড় জমালো, অনেকক্ষন থেকে ছাদের অন্ধকার কোণে কিছু খুঁজে বেড়ানো ইঁদুরটাও অন্য কোথাও চলে গেল।রাত বাড়ছে, আকাশে তারাদের ভিড় বাড়ছে..আর নিঃসঙ্গতা তার ভুলের জাল বুনে চলেছে।




------------------------------



সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫৩
৩২টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×