
যেদিন শীতের পাখিরা রোদ পোহাতে নেমে আসবে
নীলকুঠির অলিন্দে
গয়ামেম যেদিন সত্যিকারেই প্রসন্ন চক্কতির দুয়ারে হাঁক দিয়ে বলবে-
ও গো তোমার জন্যে আজ ব্রাহ্মণের ফলার করেছি
নালুপাল বজড়া মাথায় সুপারি বেঁচবে নিশ্চিন্দিপুরের হাঁটে
বড়লাট চাবুক শানিয়ে যাবে মেঠোপথের আল ভাঙতে ভাঙতে
আমি সেদিন আবার আসবো, দেখো
তুমি আমায় কী দিয়ে সেবা করবে, বলো
শোনো, তিলু নিলু আর বিলুকে ডেকো না কিন্তু
ইছামতির পারে আমি শুধু তোমার সাথেই দুটো কথা কইবো
খোকনকেও বলো না- কী যে কাণ্ড হবে তখন
রাজারাম, হলা পেকে, খুন ঝরানি তিতু,
কেউ যেনো না জানে
আমি শুধু শিপটন সাহেবের কবরে দুটো বেলি ফেলে যাবো
দুটো নীলের বীজ আমায় জুগিয়ে দিতে পারবে তুমি ?
আমি শুধু পূবালি বাতাসের দোল খেয়ে যাবো
আমি আবার আসবো সেদিন
যেদিন কোম্পানি শাসন থেকে ভাইসরয়ের হাতে ঘুরবে এ রাজ
যে দিন বিভূতি জেগে উঠবে ছাইচাপা শ্মশান ফুঁড়ে
নিজের সংলাপ থেকে খুটে খুটে তুলে আনবে সব কলঙ্কিত উপমা
না, বিদ্রোহের বোকামি করবো না আমি
লাঠিয়ালের আাঁতাতে তা দেবো আমি
জিহাদ জিহাদ বলে চিৎকার করবো না আমি
দালাল খেদানোর কলে কদম সেঁধোবো না আমি
আমি কেবল জর্মন বণিক হয়ে কেমিক্যাল নীল ছড়িয়ে যাবো
মাঠে মাঠে, হাঁটে হাঁটে, পসরা সাজিয়ে বলবো, শোনো-
বেদনার নয়; আজ আনন্দের নতুন রঙ- নীল
আাঁধার তাড়াতে লৌহশলাকা, বারুদ আর অস্ত্রের ব্যবধান
আমি ঘোচাবো একমুঠো নীল আলো দিয়ে।
সেই আলোতেই আমি দেখবো তোমায়
আবার দেখা হবে আমাদের
মনে রেখো
----------------------------------------
বি.দ্র. যারা ‘বিভূতিভূষণ’-এর ‘ইছামতি’ পড়েন নি, এই কবিতা শুধু তাদের জন্যে ।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


