
এই সুন্দর পতাকার অধিকারীরা একবার এক কাণ্ড করে বসলো। কেউ জানে না, সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন। এমন সময় নিজেদেরই পূর্বদিকের একটি ভূখণ্ডের ওপর বড়ই নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। সুন্দরের ভেলকিতে চেতনাহীন মানুষ জেগে উঠতে উঠতেই নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে তাদেরকে অভিনব কৌশলে। সঙ্গে সমান তালে চলতে থাকে মানবীদের অঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইজ্জতের লুণ্ঠন। কেন? এর উত্তর পেতে সময় লেগেছে দীর্ঘ নয়টি মাস। হয়তো তারা ভেবেছিলো, তারা পশ্চিমের আর তাদের পতাকা সুন্দর বলে সবকিছুকেই সুন্দর মেনে নেবে সবাই। তাদের শোষণ, তাদের অধিকার হরণ, তাদের ভাষা, তাদের জাতীয়তা- সব।
এই অনধিকার বলপ্রয়োগ, এই অমানবিক সৌন্দর্যবোধের বিরুদ্ধে বেঁকে বসেছিলো তাদেরই অপর অংশ, পূর্বভূখণ্ড; চাঁদ-তারা খচিত সুন্দর পতাকায় যাদেরও অংশ ছিলো। তাই নিদারুণ মাশুল গুণতে হয় ‘অসুন্দর’ বলে দমিয়ে রাখা এই ভূখণ্ডের মানুষকে।
তারপর, কী হয়! তা বোধ হয় আর না বললেও চলে। অবিকল্পিত যুদ্ধ। সেই নয় মাস। যদিও সে দীর্ঘ সময়ে কেবল অন্ধকার ছেয়ে থাকা রাতই এসেছিলো। আর রাতগুলোতে অনেকবার চাঁদও উঠেছে আকাশে। তারাও ছড়িয়েছে জোছনা। তবু নয়মাস পর দেখা গেলো সে দেশের গল্পের যবনিকা হয়ে গেছে। শুরু হয়েছে অন্য এক দেশের গল্পকথা।
কেননা, রাতের দীর্ঘপথ পেরিয়ে সূর্যের উদয় হয়েছে ততদিনে। প্রভাতের রক্তরাঙা সূর্য। সেই নতুন দেশের জন্যও একটি পতাকার প্রয়োজন ছিলো। তবে না, সেই দেশের পতাকাটি আকাশ থেকে কেড়ে আনা তারায় সাজানো হয় নি। বাঁকা চাঁদ বসিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টাও করা হয়নি। সেই দেশের পতাকা তৈরি হল সবুজ ঘাসের মধ্যে রক্তলাল একটি বড় বৃত্ত দিয়ে। এই বৃত্তটা কেন? এটা হলো নয়মাস ধরে ক্ষরিত রক্তের রঙ এবং পূবাকাশের সূর্য। কেন পূবাকাশের সূর্য? কারণ, পশ্চিম দেশের লোকেরা যদি পশ্চিমাকাশের প্রথম উদিত হওয়া ক্ষীণ চাঁদ কেড়ে নিয়ে ওদের পতাকায় বসিয়ে দিতে পারে, তবে তারা কেন পূব দেশের মানুষ হয়ে ভোরের উদীয়মান পূবাকাশের সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে পারবে না? হ্যাঁ, পেরেছে তারা। তারা মানে কিন্তু আমরা। আমরা মানে কিন্তু বাংলাদেশিরা। মানে যারা পশ্চিম পাকিস্তানের চাঁদ-তারার বিরুদ্ধে লড়াই করে লাল-সবুজের পতাকার স্বত্ব পেয়েছি, তারা। তাইতো আজ আমাদের পতাকা আরো সুন্দর। আরো মর্মস্পর্শী। চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি আলোময়।...
যতবারই রাস্তায় কোনো পতাকাঅলার সঙ্গে দেখা হয়, ততবারই এই গল্পটার উদয় হয় মনে। কেউ জানে না, নিজে নিজেই মনে মনে আওড়াই। একটা পতাকা, নয়তো ছোট একটা ব্যাজ, কিংবা পতাকা আঁকা ব্যান্ড আমাকে কিনতেই হয়। আজও এড়াতে পারলাম না। বউ বলে, যত্তসব কাণ্ড তোমার। ওই কয়টা টাকা খয়রাতিরে দিলেও কাজে কামে লাগতো। আমি তো এড়াতে পারি না।
(বি.দ্র. এই গল্প দেখে আমাকে ভুলেও কিন্তু দেশপ্রেমিক ভাবা চলবে না। কারণ মনে রাখতে হবে, আমি লীগের কেউ না, এমনকি সুশীল সমাজের অংশও নই। কেননা, কারো নিজস্ব সম্পত্তিতে ভাগ বসানোর খায়েশ আমার নেই। আমি নিতান্তই আলাভোলা হুজুর মানুষ। হুজুরদের দেশপ্রেম থাকা অপরাধ। হুজুরদের অপরাধী হওয়াও অপরাধ। আমি অপরাধী হতে চাই না। সুতরাং ‘দেশপ্রেমিক হজুর’ বলে ভিন্ন কোনো জনগোষ্ঠীকে যেনো ইঙ্গিত করা না হয়, সেই জন্যে ব্র্যাকেটে অগ্রীম সংশোধনী দিলাম।)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




