
কিন্তু তাকে ভালোবাসা যায় কি না, সে এক বিরাট প্রশ্ন । তাকে ভালোবাসলে ইনকিলাবের আব্দুল মান্নানকেও ভালোবাসতে হয়, যদিও দু’জনের ব্যক্তিত্ব ও পরিচিতি আলাদা। তবে কর্ম ও ক্ষেত্রের বিবেচনায় তেমন তফাৎ রাখেন না।
তার ওপর যে ইনজাস্টিস হয়েছে, আমি তার প্রতিবাদ করি, নিন্দা জানাই। যেমন যুদ্ধাপরাধের নামে যে ন্যায়বহির্ভূত বিচার হচ্ছে, আমি তারও প্রতিবাদ করি। হ্যাঁ, মুসলমান হিসেবে এবং বাংলাদেশি রক্ত ধারণ করার কারণেই আমি চাই, মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতম কাণ্ডের হোতারা বিচার পাক; অবিচার নয়। যে ডাকাতি করেছে, তাকে দেশান্তর করা হোক; আর যে ব্যভিচার করেছে, তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা হোক- আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি অবিচারে।
একটা গোপন কথা বলি, আমার দেশের যেই নিউজটা নিয়ে সবচে’ বেশি বিতর্ক হয়েছে, অর্থাৎ ‘হেরেম শরিফের ইমামগণ সাইদির বিচারের বিরুদ্ধে মানব-বন্ধন করেছেন’ বলে যে ছবি ও নিউজটা প্রকাশ করা হয়েছিলো, সেটা যে সর্বৈব মিথ্যা- সেটা প্রথম আমার হাত ধরেই প্রকাশ পেয়েছিলো, নোমান বিন আরমান ভাই’র ‘সুচিন্তা’র মাধ্যমে। তিনি সে সময় এক রাতে মূল আরবি নিউজটা আমাকে মেইল করেন, এবং আমি সেটা অনুবাদ করে দিই। সুচিন্তায় প্রকাশের পরেই বিভিন্ন দৈনিকে উঠে আসে যে, ‘কাবার গিলাফ পরিবর্তনের ছবিকে ইমামদের মানব বন্ধন বলে প্রচার করা হয়েছে’।
সে যাই হোক, আজ যখন হজুর রাজনীতিকরা বিএনপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন, এ সময় মাহমুদুর রহমান মুক্ত থাকলে তার পত্রিকায় কী নিউজ করতেন আমার জানা নেই। আমার দু:খ, আমি তাকে পলিটিক্যাল ‘প্রতিরোধ’ আন্দোলনের বাইরে আদর্শের জায়গা থেকে দেখতে পারি নি।
আমি বরং আদর্শ খুঁজে পেয়েছিলাম, মাহমুদুর রহমান মান্না’র ভেতরে। তাকে বীর বলা না গেলেও ভালোবাসা যায়- আমার সবটুকু যুক্তি একত্র করে আমিেএটা বলার শক্তি রাখি। আজ যখন মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে এত হৈ চৈ, সেখানে কেনো মান্না অনুপস্থিত, তার কথা কেনো এরা একবারও বলে না- এটাই তাদের বুর্জোয়া পলিটিক্সের গোপন ভেদটা প্রকাশ করে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



