
শুধু এইটুকু জানি— আমি ঢুকছি, তখন সে যাচ্ছে বের হয়ে।
ঈশ্বরের কী লীলা, ফিরে দেখি, সে এসেছে আমার ঘরে
আমি একবার দেখি ঘরের দিকে, একবার দেখি তারে।
কিন্তু ঈশ্বর, সে তো বোঝে নি, বুঝবেও না আমার কথা;
আমাকে না দাও অন্য ভাষা ; অন্য হৃদয় দাও তাকে ।
তোমায় বলবো কী আর, এদিকে আমি— শত সহস্র আর্তনাদ;
তবু, ওদিকে তুমি— সেই এক পরমাশ্চর্য বধির চিরকাল।
পাপ করে যে সুখ পেয়েছি, তাতে যদি শাস্তিই হবে, তবে হে ঈশ্বর,
যে পাপ করি নি আজো, তার হাহাকার রেখো তোমার কাছে।
জানোই তো, কিছু প্রেমিকার রঙিন ছবি, কিছু সুন্দরীর পত্রলিপি—
এই তো; — এ-ই উদ্ধারিত হবে মৃত্যুর পর আমার ঘর থেকে।
মূল — মির্জা গালিব
অনুবাদ — মনযূরুল হক
লেখক পরিচিতি : মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব জন্ম গ্রহণ করেন ১৭৯৭ সালে আগ্রায়। তবে দিল্লিতে তার স্থায়ী বসবাস হয়েছে। তার প্রকৃত নাম আসাদুল্লাহ বেগ খান। প্রথমে আসাদ নামে কবিতা লেখা শুরু করেন, পরে গালিব নাম ধারণ করেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি ফার্সি ও উর্দু ভাষায় গজল লিখে চমকে দেন। তাকে ভারতের উর্দু কবিদের শিরোমণি গণ্য করা হয়। জীবনের শেষদিকে তিনি বাহাদুর শাহ জাফরের সভাকবি হয়েছিলেন। ১৮৬৯ সালে দিল্লিতে বড় নিঃসঙ্গ করুণভাবে তার মৃত্যু হয়।
‘দিওয়ানে গালিব’ তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া ‘দাস্তাম্বু’ তার সিপাহি বিপ্লবের ওপর লেখা রোজনামচানির্ভর একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ। প্রেম, বিশ্বাস, সুর, সুরা, অবক্ষয়, হাহাকার, জরা প্রভৃতি তার কবিতায় সার্থক রূপ লাভ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


