somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষ

০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, পৃথিবী প্রকাশকদের মনে রাখে নি । পৃথিবী শুধু মনে রেখেছে লেখকদের এবং লেখকরা যাদের মনে রেখেছে তাদের । এমনকি যেসব লেখক প্রকাশকদের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজেরাই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন, ইতিহাস তাদের প্রতিও চরম বিরক্ত ।

এর কারণ কি? এর কারণ কোনোমতেই কি এটা বলা যায় যে, লেখকদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিলো না বলেই তাদের এই হাল? যেহেতু লেখকরাই ইতিহাস রচনা করেন এবং তাদের লিখিত ইতিহাসই ইতিহাস হয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে । কেননা, ইতিহাস হলো মানুষের প্রতিবিম্ব, মানে শক্ত মাটির ছায়া, কিংবা বলুন ভেজা পায়ের ছাপ— আঁচড়ে আঁচড়ে খুঁচিয়ে খোদাই করে না রাখলে প্রকৃতির নিয়মেই তা সরে যাবে, মুছে যাবে, বিলীন হয়ে যাবে বেলাভূমির আল্পনার মতো ।

অথচ পৃথিবীতে যতো রথী-মহারথী লেখকের জন্ম, সব তো প্রকাশকের হাত ধরেই লাইম লাইটে এসেছে, আসতে হয়েছে; কেননা, লেখকের পকেটে পয়সা নেই । পয়সা আছে প্রকাশকের পকেটে । তাহলে প্রকাশককে অবহেলা কেনো ? তার চেয়েও জঘন্য ব্যাপার হলো, এই দুঃখে যেসব প্রকাশক ইতিহাসে জায়গা পাবার উদ্যোগ নিয়েছেন, লেখকের কাতারে এসেই তাদের তা করতে হয়েছে !

অলি ভাই সেদিন অফিসে এসে চরম এক ঘটনা শোনালেন ।—
লেখালেখির প্রথম দিকে হুমায়ূন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলন দুজনে কোনো এক দুপুরে এক প্রকাশকের বাসায় হাজির হলেন । এর আগে প্রকাশক মহোদয় বহুবার তাদের টাকা দেয়ার কথা বলেও দিতে পারেন নি । যেহেতু টাকার প্রোসেসটা আদতেই একটা চেইন প্রোসেস । প্রকাশকও হয়তো যথাস্থান থেকে টাকা পাচ্ছিলেন না, হয়তো তার সদিচ্ছার অভাব ছিলো না । যা-হোক, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে আজ তারা প্রকাশকের অ্যাপয়েন পেতে সমর্থ হলেন । প্রকাশক তাদের বললেন— ভাই, আপনাদের কী করে টাকা দেবো বলুন, আমার ঘরে বাজার করার পয়সাটাও নেই।

তারা দুজনেই বেরিয়ে এলেন । হুমায়ূন নিজের পকেটের শেষ পেনিটা খরচ করে দুজনের দ্বিপ্রাহরিক সিঙারার ব্যবস্থা করলেন । তারপর ইমদাদুলকে বললেন— তোমার পকেটে কতো আছে? তিনি জবাব দিলেন— পাঁচ টাকার মতো । হুমায়ূন বললেন— চলো ।

দুজনেই প্রকাশকের বাসায় ফিরে এলেন এবং তার হাতে তাদের পকেটের সমুদয় অর্থ তুলে দিয়ে বললেন— ভাই, আমরাও অর্থ-সঙ্কটে আছি বটে, তবে এতোটা নয় যে, ঘরে থাকলে দুটো ডাল-ভাত খেতে পারবো না। যেমনই হোক আমরা তো খেতে পারছি । কিন্তু আপনার বাসায় বাজারের পয়সা নেই শুনে আমাদের যথাসাধ্য অর্থ আপনাকে দিতে এলাম । প্রকাশক হতভম্ব হওয়ার আগেই দুজনে সমস্বরে বললেন— না না ভাই, টাকার জন্যে আর ব্যস্ত হতে হবে না আপনাকে । বইটা একটু যত্ন করে করবেন ।...

গল্পের সত্য-মিথ্যা আমার জানা নেই; যেহেতু কথক কোনো সোর্স উল্লেখ করেন নি । এটাও বুঝতে পারি নি, তাদের দুজনের কথা কি স্যাটায়ার ছিলো, নাকি সিরিয়াস । তা ছাড়া সামান্য কটা টাকার জন্যেই শুধু লেখকরা প্রকাশককে দুষে যাবেন— এটা কেমন কথা?

এটা তো হতেই পারে না যে, সবযুগেই লেখকদের সঙ্গে প্রকাশকদের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ছিলো । যদি হয়েও থাকে, তবু সেটা এমন চিরায়ত জগদ্দল পাথর হতে পারে না যে, কেউ সেটা ভাঙতে পারবে না । চাইলে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে ।

আমার কথা হলো, লেখক যদি কোনো গ্রন্থের পিতা হয়ে থাকেন, তবে প্রকাশক মা না হলেও দাইমা তো অবশ্যই হবেন; জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যার হাতে পিতা তার সন্তান ও সন্তানের মায়ের ভার ছেড়ে দিয়ে বারান্দায় অস্থির পায়চারি করে বেড়ান । তারপর দাইমার হাত গলিয়ে একটা ফুটফুটে নবজাতক গ্রন্থের মলাটে পৃথিবীর আলো এসে পড়ে।

তাহলে দাইমাকে পিতা অবহেলা করেন কী করে? এটা কি কোনো অবদমিত ক্ষোভ, নিজেই বাচ্চাটা খালাস করতে পারছেন না বলে? কেনো তার কাছে সন্তান ও মাকে ছেড়ে দিয়ে নিরুপায় ছটফট করতে হয়— এখান থেকেই কি ক্ষুদ্ধতার জন্ম? নাকি পিতৃত্বের বড়াই? বাবা কি সন্তান গ্রন্থকে ভালোবাসেন, তাহলে প্রকাশক ধাত্রীকে কেনো নয়? নাকি অর্থই অনর্থের মূল? নাকি...

আরও আশ্চর্যের কথা হলো, কবি বলেছেন—
ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সয়ে যাও
ভিতরে বিষের বালি মুখ বুজে মুক্তা ফলাও

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৩৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×