somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ মন খারাপের দিন...

০৭ ই জুন, ২০১৩ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুকের ভেতর পুরানো সেই কষ্টটা ভীষনভাবে তার অস্থিত্ব জানান দিচ্ছে। কোনভাবেই স্থির হতে পারছি না। না বসতে পারছি, না শোতে পারছি। ইতিমধ্যেই ঘামতে শুরু করেছি। আর কিছুক্ষন এইভাবে থাকলে আম্মু টের পেয়ে যাবে। আর একবার টের পেলেই জায়নামাজ বিছিয়ে দুহাত তুলে কাদতে শুরু করবে। আর কিছুক্ষন পর পর এসে মাথায় হাত ভুলিয়ে দিবে। থাক না বেচারি একটু তার মত। কোন একটা টিভি চ্যনেলের কোন এক বাংলা সিনেমা দেখতে দেখতে একটু আগে হেসে উঠেছিল।
এই অবস্থায় তাকে কোনভাবে জানাতে চাইছি না, আমার অবস্থার কথা। আলমিরা থেকে কোনভাবে সাদা শার্টটা বের করে, গায়ে চড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম।
এই শার্টটা আমার মোটেও ভালো লাগে না। পাগলিটা যেদিন মরল সেদিনও এই শার্টটা পড়েছিলাম। বড্ড এলোমেলো আর চটপটে ছিল ফাজিলটা। ও হ্যা আইসক্রিমের খুব পাগল ছিল। এই শার্টটা তারই দেয়া। ইচ্ছা করেই সাদা রঙের শার্ট দিয়েছিল। খুব ভালো করেই জানে সাদা রঙটা আমার একদমই পছন্দ না। অসহ্য লাগে। যেমন অসহ্য লাগে তার চটপটানি স্বভাবটা।
এত তাড়াতাড়ি মরবে বলেই কি চঞ্চল আর চটপটে ছিল নাকি চটপটে ছিল বলেই এত তাড়াতাড়ি চলে গেল? জানি না, জানতে ইচ্ছা করে না।
- "ঐ চান্দু কার কথা ভাবিস?"
এই মেয়ে আবার হঠাৎ করে কোত্থেকে আসল।
- "তোর কথা।"
মেজাজ বিগড়ে গেল আমার।
- "সারাক্ষন আমার কথা ভাবলে তো আর হবে না। একটু দেখে শুনে চল।"
হঠাৎ মুরব্বি মুরব্বি ভাব নিয়ে বলল চাঁদনী। তারপরেই খিলখিল করে হেসে উঠল।
- "এইভাবে হাসিস না। থাপ্পড় খাবি। তুই নিজে কখনো সাবধানে চলেছিস?"
তার এই খিলখিল হাসি শুনলেই সত্যি সত্যিই থাপড়াতে মন চায়।
- "আরে আমার জন্য তো তুইই সারাক্ষন ভাবিস। আবার আমি ভাবব কেন।"
হাতের ভ্যানিলা আইচক্রিম খেতে খেতে বলল সে।
- "আমি আর ভাবতে পারব না। নিজের জ্বালায় আমি মরে যাচ্ছি। আবার তোর কথা ভাবব। অত সময় নেই আমার।"
কথাগুলো বলতে বলতে হঠাৎ করেই যেন চোখ দুটো ভিজে উঠল। কি হত সেদিন যদি আমি তার হাতটা ধরে ফেলতাম। আমি কেন ধরব, আমি তো আর সিনেমার নায়ক না। এক রাস্তা জুড়ে মানুষের সামনে আমি কিভাবে ওর হাত ধরব। আমার কি ভদ্রতার সামান্য জ্ঞানটুকুও নেই নাকি।
-" ঐ চান্দু কি হয়ছে তোর। কোথায় হারায় যাস কিছুক্ষন পর পর। এত কি ভাবিস সারাক্ষন। তোর পাশের বাসার তমার কথা মনে পড়ছে? নাকি সেই ক্লাসমেট সান্তার কথা?"
- "তোর নিজের চড়কায় তেল দেয়। আমি ওদের কথা ভাবতে যাব কেন। আর ভাবলেই বা তোর কি?"
-"আরে বাবা, রেগে যাচ্ছিস কেন। হাজার হলেও আমি তোর একমাত্র বউ। আমার উপর রাগ করলে তোকে কে ভালবাসবে বল, কে আদর করবে। হুহ।"
-"ফাজলামো বন্ধ কর। অসহ্য লাগছে তোকে। আর সারাক্ষন এইভাবে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত লাফিয়ে হাটিস কেন। এত শক্তি পাস কই? এত চপলতা ভালো না।"
- " জ্ঞান দিস না তো। নদী দেখ। কি শান্ত। এখনই ঝাপ দিতে ইচ্ছা করছে।"
- হাটতে হাটতে কখন যে সেতুর উপর উঠে এসেছি, খেয়ালই করি নাই।
-" ঐ তুই একটু দাড়া, আমি একটা ঝাপ দিয়েই আসছি।"
এরপর সেদিনের মত তার হাত ধরার জন্য বাড়িয়ে দেওয়া আমার হাত ফসকে পানিতে পড়ে গেল।
ফাজিল একটা, মরার পর থেকে চাঞ্চল্য আরো বেড়েছে। ভেজা শরীর নিয়ে কাপতে কাপতে চাঁদনী আসছে। একেবারে বাচ্চাদের মত করে এক পা দু পা করে। ওকে দেখতে কি যে ভালো লাগছে। হঠাৎ করেই মনটা ভালো হয়ে গেল। আর বুঝতে পারছি বুকের ব্যাথাটা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। হাত বাড়িয়ে চাঁদনীর ভেজা মুখটা ধরলাম, আজ দেখুক পুরো বিশ্ব। আজ চাদনীকে ধরতে আমার হাত একটুও কাপবে না। আজ যে আমার মন খারাপের দিন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১২:১৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×