somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেকড়ে মানব !!!

১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অ্যান্দ্রনিকা ঝর্নার নিচে গোসল করছে । অ্যারন একটা বিশাল গাছের ডালে বসে দূরের পাহাড়ে কুয়াশা দেখছে । তার হাতে একটা পিনাশা ফল ।এই ফলগুলো খেতে অনেক মিষ্টি কিন্তু মাঝে মাঝে একটা ঝাঁঝালো আঁশ
থাকে।
আঁশগুলো ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে নিচে ফেলছে । সেগুলো একটু পর পর অ্যান্দ্রনিকার সামনে এসে পড়ছে । মেয়েটা যতটুকু না বিরক্ত হলো তার চেয়ে বেশি ভয় পেলো । বুকের উপর কাপর টা উঠিয়ে চিৎকার জুড়ে দিল
" কে আঁশ ফেলছে ? " ছেলেটা মনের আনন্দে কুয়াশা দেখছিল । কিন্তু এমন বাজখাই ঝাড়ি খেয়ে হাত থেকে ফলটা পড়ে গেলো । সে একটু নিচু হয়ে ফলটা ধরতে গেলে ফলের আগেই সে পানিতে পড়ে গেলো ।
কিছুক্ষন পর পানি থেকে মাথাটা উঠিয়ে দেখলো অ্যান্দ্রনিকা চোখ লাল করে অ্যারন এর দিকে তাকিয়ে আছে । অ্যারন একটা হাসি দিয়ে বলল " শুভ সকাল " । একটু পর তাদের মাঝখানে ফলটা এসে পড়লো ।
ফলটা হাতে নিয়ে দ্রুত বেগে পাড়ে উঠে এক দৌড় লাগালো । সন্ধ্যা বেলা অ্যারন এর বিচার বসলো । গোত্র প্রধান আব্রাক্স তার মেয়ের কাছে সব শুনেছে । কোন মেয়ের সাথে কোন ছেলে যেকোনো ধরনের অপরাধ
করলে
সেই ছেলেটাকে সারা রাত মা বৃক্ষের ( অনেক পুরাতন একটা বৃক্ষ , এই বৃক্ষকে এই গোত্র দেবতা মানে ) ডালের সাথে উলটো করে ঝুলে রাখা হয় আর চিৎকার করে করে সেই মেয়েটার কাছে ক্ষমা চাইতে হয় ।
মেয়েটা যদি ক্ষমা না করে তবে পরের দিন একই ভাবে ঝুলিয়ে রাখা হবে । অ্যারনকে খুব শক্ত করে বেধে রাখা হয়েছে । তার ছুড়িটা আপাতত গোত্র প্রধানের কাছে জমা আছে । মেয়েটা তাকে ক্ষমা করে দিলে নিজের
ছুড়িটা ফেরত পাবে । গোত্রের প্রবীণ পুরুষরা অ্যারনকে মোটেই দেখতে পারেনা । কারন জুদ্ধবিদ্দায় গোত্রের সবচেয়ে বাজে যোদ্ধা সে । গতবছর তান গোত্রের সাথে জুদ্ধেও সে অংশ না নিয়ে দূর পাহাড়ে পালিয়ে গেছিল ।
যুদ্ধ শেষে তার আবার আবির্ভাব । অ্যারনের বাবা গোত্রের সবচেয়ে বড় বীর ছিল । গোত্রের অনেক যুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন । আর তার ছেলে কি করে একটা অপদার্থ হয়েছে সেটা নিয়ে তারা খুব
বিস্মিত । এজন্য অবশ্য অনেকেই অ্যারনের মায়ের দোষ দিয়ে থাকেন । অ্যারনের মা নাশুকা গোত্রের গোত্র প্রধানের মেয়ে ছিল । নাশুকা গোত্র কখনো যুদ্ধ বিগ্রহ করতো না । সবচেয়ে শান্তি প্রিয় গোত্র ছিল ।
অ্যারনের বাবার গোত্র আয়লাক্স জখন নাশুকা গোত্রকে আক্রমন করে তখন অ্যারনের মা নিশিতান কে দেখে অ্যারনের বাবা অ্যালবা প্রেমে পরে যায় । তারপর অ্যারনের মাকে বিয়ে করে দুই গোত্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয় ।
অ্যারনের বাবা দক্ষিণের জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি । কথিত আছে সেখানে অনেক ভয়ঙ্কর জানোয়ার আছে । এগুলোর মধ্যে নেকড়ে মানব সবচেয়ে ভয়ঙ্কর । এদের মাথা নেকড়ের মত আর শরীর
মানুষের মত । নেকড়ে মানব রা মাঝে মাঝেই মানব গোত্রদের আক্রমন করে । আরনের বাবা তখন একটা গোত্রের দেবতা বিসর্জন পরবর্তী ভোজে অংশ নিয়েছিল । ঠিক রাতের বেলা নেকড়ে মানবেরা ওদের গোত্র আক্রমন
করে ।
ওরা গোত্রের সব খাবার দাবার লুট করে নিয়ে যায় ।আর মেয়েদের ধরে নিয়ে যায় । মেয়েদেরকে আটকে রেখে ওরা ধর্ষণ করে । এরপর ওদের গর্ভে আসে নেকড়ে মানব । মাঝে মাঝে অনেক গোত্র
নেকড়ে মানবদের আস্তানায় আক্রমন করতে গিয়ে একদম নিশ্চিহ্ন হয়ে এসেছে । তাই আর কোন গোত্র নেকড়ে মানবদের আক্রমন করা তো দূরের কথা ওদের থেকে কোনমতে নিজেদের গোত্রকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করে
এসেছে ।
অ্যারনকে উলটো করে ঝুলিয়ে রাখার পর অ্যারনের বিধবা মা নিশিতান গোত্র প্রধান আব্রাক্সের কাছে অনেকবার গিয়েছে । কিন্তু তিনি বলেছেন তার মেয়ে অ্যান্দ্রনিকা যতক্ষণ পর্যন্ত ছেলেটাকে ক্ষমা না করবে ততক্ষন
পর্যন্ত তিনি কিছু করতে পারবেনা । নিশিতান অ্যান্দ্রনিকার ঘরে গিয়ে তার হাত ধরে কান্না শুরু করলো । অ্যান্দ্রনিকার মন কিছুটা নরম হলো । সে মা বৃক্ষের কাছে গেলো । অ্যারন উলটো হয়ে ঝুলে আছে সেখানে ।
অ্যান্দ্রনিকা আরনের সামনে গিয়ে বলল ,
"কেমন লাগছে ? "
"ফিলিং অসাম "
"এখনো বাঁদরামি যায়নি ? "
"জী না । গাছে ঝুললে বাঁদরামি অনেক বেড়ে যায় । তোমাকে খামচি দিতে মন চাচ্ছে । "
"তোমার মত বাদরকে আর ও সাতদিন ঝুলিয়ে রাখা উচিত "
"মানা করছে কে ? যাই হোক রাতের খাবার টা ভালো ছিল । উলটো হয়ে খেতে ভালই লাগে । শুধু পানিটা গলা দিয়ে ভেতরে না গিয়ে রিভার্স হয়ে যায় । "
"ফাজলামি বন্ধ করো । তোমার আম্মুর কারনে তোমাকে ছেড়ে দেয়া হলো । কিন্তু পরের বার কোন অপরাধ করলে আর ছাড়বো না । "
দুজন গার্ড অ্যারনকে গাছ থেকে নামালো । অ্যারন একটা হাসি দিয়ে পকেট থেকে একটা পিনাশা ফল বের করে মেয়েটার হাতে দিল । খেয়ে দেখো । মজা আছে । অ্যান্দ্রনিকার হাতে পিনাশা ফল । সে অবাক
হয়ে তাকিয়ে অ্যারন হেলে দুলে যাওয়া দেখছে ।

অ্যান্দ্রনিকা পাশের গোত্রের নাচ উৎসব দেখতে যেয়ে আসতে আসতে পথে সন্ধ্যা হয়ে যায় । ছয়জন গার্ড অ্যান্দ্রনিকা আর গোত্রের ছয় সাতজন মেয়ে । সমস্যা টা হলো তারা যেপথ দিয়ে এসেছিল সেই পথে জোয়ারে
অনেক পানি উঠে গেছে । তাই বাধ্য হয়ে অন্যপথ দিয়ে আসতে হচ্ছে । নতুন পথ অনেক ঘন গাছপালা দিয়ে ঘেরা । জখন তখন আশে পাশে বুনো জন্তুর চিৎকার । গাছের পাতার হঠাৎ হঠাৎ শব্দ । হঠাৎ করে দূরে
ঘোড়ার খুড়ের মত শব্দ । গার্ডরা চিৎকার দিয়ে উঠলো । নেকড়ে মানব ! নেকড়ে মানব ! ওরা মেয়েদেরকে সাথে নিয়ে দৌড়াতে লাগলো বনের অন্য দিকে । অ্যান্দ্রনিকা একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গেল ।
কিন্তু অন্যরা সেটা খেয়াল করলো না । অ্যান্দ্রনিকা জ্ঞান হারালো । জ্ঞান ফিরে আসার পর সে দেখলো সে একটা গাছের সাথে ঠেস দিয়ে বসা । তার সামনে আগুন জলছে খর কুটোতে । সেটার মধ্যে একটা ডাল দিয়ে
কোন কিছুর মাংস পোড়াচ্ছে অ্যারন । অ্যান্দ্রনিকা কিছুটা ভয় পেয়ে ধমকের সুরে বলল ,
"এই তুমি কি চাও ? "
"মাংস ! "
"মানে ? "
"দেখতে পাচ্ছ না ? ফাউল টক করো ক্যান ? একটা অ্যানাকন্ডা মারলাম । সেটার মাংস পুড়াচ্ছি । "
"তোমার মত ভীতুর ডিম অ্যানাকোন্ডা মারছো ? বিশ্বাস হয়না ।
অ্যারন দাত বের করে হাসি দিয়ে বলল , নেকড়ে মানব রা ওটার গায়ে অনেক গুলো আঘাত করেছিল । তারপর পেট থেকে লেজের অংশটুকু ফেলে রেখে গেছিল । আমি সেটা নিয়ে এসেছি । "
অ্যান্দ্রনিকা অবাক হয়ে বলল ,
"তাহলে তুমি মারলে কিভাবে ? "
অ্যারন একটুকরো মাংস মুখে দিতে দিতে বলল ,
" তখন ও ওইটা লেজ নারতেছিল । আমি অনেক্ষন ওইটার উপরে উঠে বসেছিলাম । এরপর ওটা আর নড়াচড়া করেনি । তাই লজিক্যালি আমি এটাকে মেরেছি । "
অ্যান্দ্রনিকা হেসে দিল । হঠাৎ করে কেন জানি এই অপদার্থটাকে একটু একটু করে ভালো লাগতে শুরু হয়েছে তার ।
"আমাকে কিভাবে পেলে ? "
"আমি একটা খরগোশের কেটে যাওয়া পায়ে গাছের রস দিচ্ছিলাম । তুমি গড়াতে গড়াতে এসে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছো । "
"ওহ আচ্ছা ! আপনি কবিরাজ নাকি ? "
অ্যারন একটু ভাব নিয়ে বলল ,
"একটু আধতু । নিজে নিজে শিখেছি । "
ভোঁর হলে অ্যান্দ্রনিকাকে নিয়ে ওদের এলাকায় চলে আসে । সবাই খুব টেনশনে ছিল । অ্যান্দ্রনিকার বান্ধবিরা গতরাতেই চলে আসতে পেরেছিল । কারো তেমন কোন ক্ষতি হয়নি । শুধু একটা মেয়ের পা মচকে গেছিল
অন্ধকারে ।
এরপর থেকে অ্যান্দ্রনিকা আর অ্যারন অনেক ভালো বন্ধু হয়ে যায় । অ্যারন দূর পাহাড়ে সব মজার মজার জিনিস দেখাতে নিয়ে যায় অ্যান্দ্রনিকাকে । সেখানে বুনো কিছু ফুল আছে । অনেক বড় । সেটার উপর
শুয়ে
থাকা যায় । একটা পদ্ম বাগান আছে । সেখানে সন্ধ্যা বেলা পরী নেমে আসে । পরী গুলো অনেক ছোট ছোট । হাতের আঙ্গুলের সমান । পরী গুলো আস্লেই পুরো পদ্ম বাগান আলোকিত হয়ে যায় । চারপাশ
জোনাকিদের আলোর মত চিকচিক করে । তবে পার্থক্য হল জোনাকিদের সাদা আলোর বদলে পরীদের আলোগুলো বিভিন্ন রকমের । লাল ,নীল , সাদা , বেগুনী , সবুজ । মনে হয় অজস্র মনি মুক্ত আকাশে উরে বেরাচ্ছে ।
অ্যারন অনেক রকম গাছের ডাল পালা , পাতার গুনাগুন নিজে নিজে শিখেছে । বনের মধ্য দিয়ে সরু একটা নদী আছে । নদীটা কিছুদুর গিয়ে অনেক বড় হয়ে গেছে । মাঝে মাঝে ওরা
ভেলাতে চড়ে নদী পার হয় । নদীতে অনেক হিংস্র মাছ আছে । ছোট ছোট লাল একধরনের মাছ আছে । এদের খুরদাত অনেক শক্ত । এগুলো ঝাক আকারে থাকে । কেউ নদীতে পড়ে গেলে সামান্য রক্তের গন্ধ
পেলেই ছুটে আসে । তারপর নিমিষের খুবলে খুবলে সব মাংস টেনে হিঁচড়ে খেয়ে ফেলে । তবে মাছগুলো পুড়িয়ে খেতে অনেক সুস্বাদু । অ্যারন ফাদ পেতে এসব মাছ ধরে । তারপর অ্যান্দ্রনিকার সাথে মজা করে খায় ।
অ্যারনের সাথে অ্যান্দ্রনিকার মেলামেশা অনেকেই ভালো ভাবে নিচ্ছিল না । অ্যান্দ্রনিকার চাচাতো ভাই আবাডন বর্তমানে ওদের গোত্রের সেরা বীর । সে অ্যান্দ্রনিকাকে অনেক পছন্দ করে । তাই গোত্র প্রদান আব্রাক্স
এর কাছে
ওদের নামে বিচার দেয় । আব্রাক্স রেগে আগুন হয়ে যায় । অ্যারনকে শাস্তি দেয়ার বেবস্থা করে । অ্যান্দ্রনিকা তার বাবা গোত্র প্রধান আব্রাক্সকে বলে , সে অ্যারনকে পছন্দ করে । আবাডন আব্রাক্স কে একটা যুদ্ধের
আহবান করতে বলে । যে
যুদ্ধে জিতবে সে অ্যান্দ্রনিকাকে পাবে ।অ্যান্দ্রনিকা জানে অ্যারন এই যুদ্ধে পারবেনা । তাই সে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে । কিন্তু অ্যারন যুদ্ধে রাজি হয় । বিয়ের পাত্রির জন্য যুদ্ধ করতে
হয় খালি হাতে । যুদ্ধে আবাডান আরনকে মেরে খত বিক্ষত করে ফেলে । ওইদিনই আবাডন এর সাথে অ্যান্দ্রনিকার বিয়ে হয়ে যায় ।
অ্যারন মনের দুঃখে গোত্র ছাড়ে ।

একবছর পর নেকড়ে মানবরা আবালাক্স গোত্র আক্রমন করে । ওদের সাথে তুমুল যুদ্ধ হচ্ছে গোত্রের পুরুষদের । কিন্তু ওদের ক্ষিপ্রতার সাথে কেউ পেরে উঠছে না । মেয়েরা কাছের একটা পাহাড়ি গর্তে লুকিয়ে আছে ।
মেয়েদের রক্ষনের জন্য শুধু মাত্র অ্যান্দ্রনিকার স্বামী আবাডন আছে । কিন্তু ওরা চোখের সামনে নেকড়ে দের তাণ্ডব দেখতে লাগলো । নেকড়ে রা ওদের গোত্র একদম ধ্বংস করে দিল । ওরা এখন তন্ন তন্ন করে মেয়েদের
কে খুজছে । ওদের ঘ্রান শক্তি এত প্রখর যে ওরা সেই গর্ত খুজে বের করলো । মেয়েরা সবাই সেই গর্তের অন্নপাশে নদীর সাইডে যেতে লাগলো আর অন্য পাশ দিয়ে দরজা ভেঙ্গে নেকড়ে রা প্রবেশ করতে লাগলো । জখন
ওরা
নদীর সাইডে আসলো ঠিক সেই মুহূর্তে আবাডনকে ওরা ধরে ফেললো । আবাডনকে নখ দিয়ে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললো এক মুহুরতেই । মেয়েরা সবাই নদীর কিনারে আর নেকড়েরা তাদের থেকে মাত্র দশ হাত
দূরে । যখন প্রথম নেকড়ে টা অ্যান্দ্রনিকাকে ধরার জন্য শুন্নে লাফ দিল ঠিক সেই মুহূর্তে উপরের ডাল থেকে অ্যারন এসে নেকড়েটার উপর পড়লো । নেকড়ে টা সেখানেই মারা গেলো । অ্যারনের হাত থেকে একটা
পিনাশা ফল নিচে গড়িয়ে পড়লো । অ্যান্দ্রনিকা আরনের দিকে তাকিয়ে বলল , অ্যারন ! অ্যারন একটা মুচকি হাসি দিয়ে নেকড়েদের দিকে তাকালো । নদীর সাইডে প্রবল বাতাস শুরু হয়েছে । গাছের শুকনো
পাতা গুলো শো শো করে এদিক ওদিক উড়ছে । একসাইডে মেয়েরা । তাদের সামনে ধারালো ছুড়ি হাতে অ্যারন । আর অন্য পাশে প্রায় পঞ্চাশ টা নেকড়ে মানব । এবার শুরু হলো অ্যারন আর নেকড়ে
মানবদের মধ্যে অসম যুদ্ধ । যুদ্ধে আরনের ক্ষিপ্রতা দেখে অ্যান্দ্রনিকা সহ সব মেয়ে অবাক হয়ে গেলো । পানির মত এক একটা নেকড়ের মাথা কেটে ফেলছিল অ্যারন । যখন মাত্র চার পাঁচ টা নেকড়ে
মানব বাকি ছিল তখন ওরা একটা চিৎকার দিয়ে সেই গর্তে ঢুকে পড়ে । তখন অ্যারন হাত থেকে একটা নীল পদার্থ বের করে সেই গর্তে ছুড়ে মারে । তারপর দুটি পাথর ঘসে আগুন তৈরি করে গর্তের ভেতর
ছুড়ে মারে ।কিছুক্ষন পর একটা বিশাল বিস্ফোরণে পুরো পাহাড় কেপে ওঠে । অনেক পাথর ধস হয়ে পুরো গর্তটা বন্ধ হয়ে যায় । তারপর ভেলায় করে ওরা অন্য কোন গোত্রের উদ্দেশে পারী জমাতে থাকে ।
অ্যান্দ্রনিকা অ্যারন কে জিজ্ঞেস করে এক বছর সে কোথায় ছিল । আর সে কিভাবে এত ক্ষিপ্র গতিতে যুদ্ধ বিদ্যা শিখলো । অ্যারন বলল , প্রতিটা মানুষের মধ্যে অজস্র শক্তির উৎস আছে । সেটাকে
ভেতর থেকে বের করে আনার দায়িত্ব তার নিজের । আবাডন এর সাথে হেরে তার ভেতর প্রচণ্ড জিদ কাজ করছিল । সে অনুভব করতে পারছিল তার ভেতরের শক্তি টা তাকে বের করে আনতে হবে । তাই গত
একবছর সে অমানুষিক পরিশ্রম করেছে । সে গাছ থেকে গাছের পাতা পরতে দিত না । তার আগে গিয়েই ছুড়ি দিয়ে সেই পাতাকে দুভাগ করে দিত । এভাবে ধীরে ধীরে তার ক্ষিপ্রতা বেড়ে গেল ।
তিনদিন তিনরাত পর তারা একটা নতুন গোত্রের সাথে মিলিত হয় । সেখানে অ্যারন
আর অ্যান্দ্রনিকার ধুমধাম করে বিয়ে হয় । অন্য মেয়েগুলোর সাথে ওই গোত্রের পুরুষদের বিয়ে হয়ে যায় ।তারপর থেকে সবাই সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকে .........।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×