বর্তমান কথিত শিক্ষিত, সভ্য সমাজের একটি খারাপ উপকরণ হল ইভটিজিং।শিক্ষিত,অশিক্ষিত, ছোট,বড় সকল মেয়ে এই অপ্রীতিকর বিষয়টি মুখ বুঝে সহ্য করে।তারা এটাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই নিয়েছে।কোন প্রতিকার আশা করে না তারা।
পাশের বিল্ডিংএর ছেলের অত্যাচারে দিয়া বাইরে বের হওয়া বাদ দিয়েছে।ছেলেটির বাবা-মা বিচার শুনে বলেছে,"ব্যাপার না,এই বয়সে ছেলেরা এমন করেই।তারে বলে দিব নে।"তারপর কিছুই থামেনি,বরং বেড়েছে।পুলিশ অভিযোগ নেয়নি।কারণ ছেলের বাবা ক্ষমতাশীল!
এটা হচ্ছে ইভটিজিংএর কমন ছবি।এমন লক্ষ ছবি আছে সারাদেশে।
অথচ একটু সচেতন, সাহসী হলেই এটা কঠিনভাবে দমন করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি তৈরি করতে বলেছেন।এটা কতটা কার্যকরী,জানার উপায় নেই,কারণ এটা গঠন করা হয় না।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ এর ধারা ১০ কে ইভটিজিং প্রতিরোধের তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়,যদিও ধারাটি মৌখিক মানহানির(কটুক্তি) কোন প্রতিকার দিতে পারে না।
ধারাটি হলো...
[ ১০৷ যদি কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোন নারীর শ্লীলতাহানি করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ন এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যুন তিন বত্সর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷]
এই ধারা বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় কোন ব্যক্তি যদি তার কামনা পূরণ করার জন্য
১.কোন নারী বা শিশুর কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন
২.কোন নারী বা শিশুর কোন অঙ্গ কোন বস্তু দ্বারা স্পর্শ করেন
৩.শ্লীলতাহানি করেন(যেহেতু ধারা-৯ এ ধর্ষণ বর্ণনা করা হয়েছে,তাই এখানে এর অর্থ মৌখিক-অপমান হতে পারে)
তবে এ কাজ যৌন নিপীড়ন হবে আর শাস্তি
হবে সর্বনিম্ন ৩ বছর, সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সাথে আর্থিক জরিমানা হতে পারে।
এবার পাঠক ভেবে দেখুন ইভটিজিংএ খারাপ লোকগুলো এই কাজই করে।
কিছু অতিসচেতন পাঠক যৌন কামনা শব্দটা দেখে নাক সিটকাতে পারেন।তবে আমি বলব ভাই আপনি এখনো (বোকার)
স্বর্গে বাস করছেন!সৃষ্টির শুরু থেকে পুরুষ জাতি এই কামনা মিটানোর জন্যই নারীর পিছনে সময় দেয়,তাই নয় কি?
এবার দেখি এর প্রতিকার, ভুক্তভোগী পুলিশে অভিযোগ করতে পারে।পুলিশ অভিযোগ গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।
এবার পাঠক মুখ টিপে হাসছেন!হ্যা,আমি জানি এত সোজা না। পুলিশ অভিযোগই নিতে চায় না।তবে ভুক্তভোগী
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল অথবা যে কোন ফৌজদারি আদালতে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। প্রতি জেলায় জেলা জজ বা দায়রা জজ এই ট্রাইবুনালের দায়িত্বে থাকেন।বিচারক অভিযোগ গ্রহন করে,পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিবেন।পুলিশ ১৫ দিনে তদন্ত শেষ করতে বাধ্য থাকবে।তারপরও ভয় থেকে যায়,যে পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট দিবে অর্থাৎ অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।তখন ভুক্তভোগী নারাজি দিবে,আবার তদন্ত হবে।সবশেষে বিচারক নিজেই তদন্ত করবেন(জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি)।আর আমাদের দেশের বিচারকদের অবস্থা এত খারাপ হয়নি যে,তারা কর্তব্যে অবহেলা বা পক্ষপাতিত্ব করবেন।
আপনি পদক্ষেপ নিয়ে দেখুন,খারাপ লোক ভয় পাবে,তাদের শিক্ষা হবে।হ্যা,পথ সোজা নয়,,কখনো হবেও না।
নিজের স্বাধীনতা, সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা, আর অন্য নারীকে সাহসী করতে আপনি এতটুকু করতেই পারেন।
আপনি শুরু করুন,অন্যরা অনুসরণ করবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



