somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

ও মা, তোমাকে বলতে তো পারছি না, বিয়ের শখ জেগেছে মনে, দয়া করে এবারের মত বিয়েটা করিয়ে দাও :) :) :)

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- আ...আ...... আসবো ?
- কে ? আচ্ছা, ভিতরে আসো ।

(পড়াশুনা করতে বসছি অনেক আগেই । অনেক কষ্ট করে যখন প্রায় মন বসিয়েছি, ঠিক তখনই পিছন থেকে মিষ্টি একটি কণ্ঠ শুনে মনোযোগটা নষ্ট হলো । মিষ্টি কণ্ঠ তো কি হয়েছে, ভিতরে ভিতরে কিন্তু অনেক রাগ লাগছে)

- আপনার চা ।
- (আমি অনেকটাই আশ্চর্যান্বিত হয়ে) চা মানে ?

(কিশোরী মেয়েটি কে, আর কেনইবা হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই, এভাবে চা নিয়ে আসলো । আমি তো তাকে চা আনতে বলিনি । মেয়েটি লম্বা একটি ঘোমটা দিয়ে মুখটা ঢাকার চেষ্ঠা করলেও পাতলা কাপড়ের ওড়নাটা ওর মুখটা ঠিকি ঢাকতে পারিনি । মেয়েটিকে আগে দেখেছি বলে মনে আসছে না । দেখি, ওকেই জিজ্ঞেস করে দেখি, ঘটনা কি । যাই হোক, মেয়েটির হাত থেকে চা টা হাতে নিলাম । খেয়াল করলাম, মেয়েটি এমনভাবে চায়ের কাপটি আমার হাতে দিলো যেন আমার হাতের সাথে মেয়েটির হাতের কোন অংশ স্পর্শ না হয় । এতে আমি আরও অবাক হলাম)

- কে তুমি ?
- জি, আ...আ...... আমি সু...সুফিয়া ।
- সুফিয়া !! তুমি কি বাড়িতে নতুন কাজ নিয়েছো নাকি ?

(কথাটি বলা মাত্রই মনে হলো মেয়েটি মুখ ঘুড়িয়ে ঝড়ের বেগে আমার ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো । আমি বেশ অবাক হলাম । আমার বুঝতে এখনও কষ্ট হচ্ছে আসলে ঘটনা কি । তাই ভাবলাম আসলে মায়ের সাথে কথা বলা দরকার)

- মা, মা, ও মা, কই তুমি ?
- কি রে ? গলা ফাটাচ্ছিস কেন ? আমি তো রান্নাঘরেই ছিলাম । তুই যেমনভাবে ষাঁড়ের মত চেচাচ্ছিস মনে হচ্ছে আমি তিন মাইল দূরে আছি ।
- আরে, ধুর, কই চেঁচালাম ? তুমিও না মা...... !!
- আচ্ছা, চেচাচ্ছিলি কেন ?
- তুমি বাড়িতে নতুন কাজের লোক রেখেছো ভালো কথা । তা আমাকে বলো নি কেন ?
- (আমার কথা শুনে মা মনে হলো আকাশ থেকে পড়েছে) নতুন কাজের লোক মানে ? এমনি তোর বাপের ইনকাম দিয়ে তিন বেলা খাওয়াই কষ্ট হয়ে যায়, আবার নতুন কাজের লোক !!! লাট সাহেবের শখ কত !!
- তাইলে ঐ সুফিয়াটা কে ? আর এভাবে তোতলায় কেন ? (মায়ের কথা শুনে আমারও ভীষণ রাগ হলো । তাই আমিও রাগ করেই জিজ্ঞেস করলাম)
- (আমার এই কথা বলা মাত্রই মা অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে লাগলো) তুই কি সুফিয়াকে নতুন কাজের লোক ভেবেছিস ?
- ভাববো না, তো কি ? আমাকে চা দিতে কে বলেছে ওকে ? আচ্ছা, বলো না মা, কে এই সুফিয়া ?
- খুব অস্থির হচ্ছিস মনে হচ্ছে ?
- অস্থির হবো না ? তুমি যেভাবে হাসাহাসি করছো, অস্থির না হয়ে উপায় আছে ? আচ্ছা, বলো না মা, কে ও ?
- আরে পাগল, তোর ছোটবেলার বিলকিস অ্যান্টির কথা মনে আছে, যার কাছে তুই সবসময় পড়ে থাকতি ? আমার কাছে তো আসতেই চাইতি না । তোর এই বিলকিস অ্যান্টি তো ছিল আমাদের ভাড়াটিয়া । তুই ছোট থাকতেই তারা পোস্টিং হয়ে যায় অন্য জায়গায় । সম্প্রতি তারা আবার এখানে ফিরে এসেছে । তোর বিলকিস অ্যান্টির-ই ছোট মেয়ে এই সুফিয়া । তোর বিলকিস অ্যান্টি-ই প্রথম প্রস্তাব দিয়েছে তোর আর সুফিয়ার ব্যাপারটি নিয়ে কিছু ভাবা যায় কিনা ? আমরা বাপু একেবারেই না করে দিয়েছি । কি বলিস ? তোতলা মেয়েকে না করবো না তো কি ?
- কি !! না করে দিয়েছো ? কেন ? মানে কি কারণে ? আমাকে বলবা না একবার ? কই তোতলায়, হয়তো নার্ভাসনেস থেকেই তোতলামি হয়েছে মেয়েটার ।
- কি ব্যাপার, তুই এত অস্থির হচ্ছিস কেন রে ? আবার দেখছি মেয়েটার হয়ে ওকালতি করছিস !!! (মা যে আমাকে খেপানোর জন্যই এইসব বলছে তা তখন পর্যন্ত আমার মাথায় আসেনি) তাইলে কি মেয়েটাকে তোর পছন্দ হয়েছে নাকি রে ?
- ধুর, কি যে বলো না !! যাও, আমি কি এটা একবারও বলেছি নাকি ?
- বুঝছি রে পাগ্লা । ছেলেটা আমার বর হতে চাইছে । ওরে কে কোথায় আছো, শীঘ্রি টোপর নিয়ে আসো । ছেলেটাকে পর করে দেওয়ার সময় চলে এসেছে আমার ।

মায়ের মুখ থেকে এই কথা শুনে কেমন জানি অন্য রকম একটা ভালোলাগা কাজ করছে আবার কান্নাও পাচ্ছে । আমি জীবনেও আমার মা থেকে পর হবো না । মরে গেলেও না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×