somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

হবে নাকি আমার ভ্যালেন্টাইন ডে এর ভ্যালেন্টাইন ? :-*

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটি রোজ সন্ধ্যা থেকে রাত্রি নয়টা পর্যন্ত বারান্দাতেই দাড়িয়ে থাকে । শত বলেও, বকেও তাকে ওখান থেকে সরানো যায় না । মেয়েটির নামটিও রাত্রির সাথে মিল রেখে “নিশি” । মনমোহনা তাবাসসুম নিশি । মেয়েটি কাউকে না বললেও সে আসলে বারান্দায় দাড়িয়ে থাকে অখিলের জন্য । অখিল, পুরো নাম রিয়াজুত তৌহিদ অখিল একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছে ফিন্যান্সে । অখিল শুধুমাত্র দুর্ভাগ্যবশত ভালো একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি, এমনিতে সে ভীষণ পড়ুয়া । প্রতিদিন নিয়ম করে সন্ধ্যা থেকে রাত্রি দশটা পর্যন্ত পড়ে সে । নিশির বারান্দায় দাড়িয়ে থাকার কারণও এইটাই । নিশি ছোটবেলা থেকেই অখিলকে পছন্দ করে । কিন্তু ছোটবেলা থেকেই একসাথে বেড়ে উঠার পরও অখিল এটা কোনদিন টেরই পায়নি । নিশি পড়াশুনা করে না । ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি দারুণ অনীহা সত্ত্বেও টেনেটুনে ম্যাট্রিকটা পাশ করেছে সে, তাও আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে । এরপর আর পড়াশুনার আগ্রহ করে উঠতে পারেনি সে । ওর বাবা-মা দুইজনই বুদ্ধি দিয়েছিল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার । এখন সেখানেই ভর্তি রয়েছে সে, তবে ইন্টার পরীক্ষা দেয়নি একবারও ।

অখিল আবার ভালোবাসে কথাকে । পুরো নাম মাশিয়াত খন্দকার কথা । কথা অবশ্য সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, সেকেন্ড ইয়ারে । বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডমিশন কোচিং করতে যেয়ে অখিলের পরিচয় হয় কথার সাথে । এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অখিল নিজ আগ্রহে যোগাযোগ টিকিয়ে রেখেছে, যদিও কথাকে সাহস করে ভালোলাগার অনুভূতিটুকু প্রকাশ করা হয়নি । এভাবেই চলছিল লাভ ট্রায়াঙ্গ্যাল ।

হঠাৎ একদিন ক্যাম্পাস থেকে আসতে যেয়ে বাইক এক্সিডেন্ট করলো অখিল । এই কথা শুনে হাসপাতালে ছুটে গেলো নিশি । সকলকে বুঝতে না দিয়ে যথাসাধ্য সেবা করে অখিলকে সুস্থ করে তুললো, বলতে গেলে নিশি একাই । অখিল সুস্থ হতেই নিশিকে শুধু একটি ধন্যবাদ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করলো । ওদিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার রাতেই হঠাৎ করে কথার বিয়ের কার্ড হাতে পেলো অখিল । পুরো আকাশটাই যেন ভেঙ্গে পড়লো তার মাথায় । কি করবে সে এখন ? নিজেকে ভেঙ্গে যেতে দিবে, নাকি নিজের ভালোবাসার জন্য কিছু করবে সে, কোন প্রশ্নেরই উত্তর ছিল না অখিলের কাছে । সারারাত কান্নাকাটি করে সেই রাত্রি পার করলো অখিল ।

সকাল বেলা নিশি এই খবরটি জানতে পারলো । সে খুব ভোরে গিয়ে তাজা গলাপের এক তোড়া কিনে নিয়ে অখিলের সাথে দেখা করতে চললো । দিনের বেলাতেও নিজেকে অন্ধকারে লুকিয়ে ফেলানো অখিলের হাতে ফুলের তোড়াটি দিলো নিশি । অখিল প্রথমে নিশির হাতে ফুলের তোড়া দেখে থতমত খেয়ে গেলো । নিশি হাসতেই হাসতেই অখিলকে বলে উঠলো, “এই পাগল ছেলে, জানো, আজকে কি দিন ? আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে ।” নিশির এই কথাগুলো স্বপ্নের মতই লাগলো অখিলের কাছে । কথাগুলো কি নিশিই বলছে ? অখিল নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিজের চোখ দুইটি বন্ধ করলো । চোখ করতেই নিশির হাসিমাখা মুখখানা দেখতে পেলো সে, কথা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে নিমিষেই । অখিল চোখ খুললো । সে নিশির হাত দুইটি ধরলো আর বললো, হবে নাকি আমার ভ্যালেন্টাইন ডে এর ভ্যালেন্টাইন ? নিশি লজ্জা পেয়ে অখিলের কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে দৌড় দিলো ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×