somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোশারফ হোসেন ০০৭
বেলাশেষে ক্লান্ত-তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় আসলাম সামুর তীরে, রেখে যেতে চাই কিছু অবিস্মরণীয় কীর্তি । পারি না আর না পারি, চেষ্ঠার ত্রুটি রাখবো না, এই ওয়াদা করছি ।

অভিশপ্ত গৌধুলি ও হারিয়ে যাওয়া একজন :(

২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গৌধুলির সময়টাতেই মন সবচেয়ে খারাপ হয় । একা একা থাকলে তো কথাই নেই, হাজারটা উল্টাপাল্টা ভাবনা মনের জানালা দিয়ে উঁকি দেয় । আর কারও সাথে থাকলেও দুইজনের মনের ভাবনার মিল হয় না ।



কেউ কেউ তো এই গৌধুলি সময়টাকে অভিশপ্ত বলে থাকে । সমুদ্র সৈকতে থেকে সূর্যাস্ত দেখার মধ্যে আলাদা একটা ফিলিংস আছে । অনেকে বলে সূর্য নাকি সারা দিনের দুঃখগুলো নিয়ে ডুব দেয় । তবে তারা যেটা জানে না, সেটি হচ্ছে সূর্য কিছু দুঃখগুলো বহন করার শক্তি পায় না, সেই দুঃখগুলো আসলেই অনেক ভারী হয়, তখন সূর্য সেই দুঃখগুলোকে ফেলেই চলে যায় । সেগুলোই একসময় জমতে জমতে অনেক বড় পাহাড় তৈরি করে । পাহাড়ের কারণেই একসময় সেই সূর্যটাও ঢাকা পড়ে যায়, দৃষ্টিতেও আর পড়ে না ।

মেয়েটার দিকে দৃষ্টি নিবন্ধিত করে সোজা দিকে হাঁটতে লাগলো দিয়া । একমাত্র মেয়ে তাশফি মায়ের কাছে বলেই হাঁটতে হাঁটতে একা সমুদ্রের অনেকটা কাছে চলে গেছে । নাহ, মেয়েটা সাঁতার পারে না, থামতে বলতে হবে । অনেকবার চিৎকার করেও তাশফির কাছ পর্যন্ত আওয়াজটুকু পৌঁছানো গেলো না । অগত্যা দ্রুত বেগে পা চালালো দিয়া । অল্প সময়ের মধ্যেই তাশফির লাগাল পেয়ে গেলো দিয়া । মেয়েটা আসলে সমুদ্রের খুব কাছে গিয়ে দাড়িয়ে পড়েছে । পিছন থেকে কাধে হাত দিতেই অনেকটা অবাক হয়ে কেঁপে উঠলো যেন তাশফি । মায়ের চোখ থেকে আড়াল করতেই হয়তো একটু অন্য দিকে ঘুরে চোখের পানি নিলো মুছে নিলো সে । কিছুই চোখ এড়ালো না দিয়ার । কি বলবে সে !! নিজেই তো একটু আগে ভালো করে চোখ মুছে এসেছে । অথচ এমন কিছুই হওয়ার কথা ছিল না ।

আবিরের সবচেয়ে বড় গুণ বা দোষ যেটাই বলা হোক না কেন, সেটি হচ্ছে হঠাৎ কোন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া । সেই অবস্থায় নতুন হয়ে এমনভাবে নিজেকে মানিয়ে নেবে যে পুরনো যারা ঐ অবস্থার মধ্যে ছিল, তারাও কনফিউশনে পড়ে যেতে বাধ্য । বিয়ের দিনও দেখা গেলো শেরওয়ানি, পাগড়ি ইত্যাদি কিছুই ম্যানেজ করা হয়নি আবিরের । ওদিকে দিয়াদের বাড়ি থেকে বারবার ফোন, আবিরের আব্বা তো চিৎকার-চেঁচামিচি করে সারা বাড়ি মাথায় । বিয়ের দিনও এমন খামখেয়ালী, করা লাগবে না বিয়ে, সারাজীবন ব্যাচেলর থাকবি । আবির কিছুই না বলে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে, ভাব এমন যেন বিয়ের মোটেও ইচ্ছা নেই অথচ পাঁচ বছর প্রেম করে বাড়িতে বিয়ের কথা প্রথম আবিরের মুখ থেকেই বেরিয়েছিল । আবির একমাত্র সন্তান বলে কেউই না করেনি । আবিরের আম্মা যখন আবিরের আব্বাকে শান্ত করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই আবির একটা আধোয়া, ইস্ত্রিহীণ পাঞ্জাবী পড়ে একা একাই দিয়াদের বাড়িতে হাজির । নতুন বরকে এই অবস্থায় দেখে বিয়ে বাড়ির সবার আক্কেলগুড়ুম, তারপর আবার বড় এসেছে বরযাত্রী কাউকে না নিয়ে । বিয়ের আনন্দ ওখানেই মাটি হয়ে যাওয়ার কথা, ঠিক তখনই আবির ফোন দিলো তার এক বন্ধুকে যে নাকি আবার ডিজে । বেচারা আরেকটি শো ছেড়ে দৌড়ে এলো । এরপর যা হলো সেটি কারোরই মাথায় ছিল না । বিয়ে বাড়ির আনন্দটাই দ্বিগুণ হয়ে গেলো । এমনই ছিল আবির । সেই আবিরই কিনা হঠাৎ ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলো । এত কি ছিল মাথায় ওর ? কি ভাবতো এত ও ? দিয়ার কাছে কোন প্রশ্নের উত্তর নেই ।

মেয়েটা সবে মাত্র ক্লাশ সিক্সে উঠেছে, বাবার কাছে শখ করে নতুন ব্যাগ, পানির পট, টিফিন বাটি ইত্যাদির আবদার করতে দৌড়ে কাছে যেতেই হঠাৎ মাথা চেপে ধরে অজ্ঞান হয়ে যায় আবির । দিয়া তখন সকালের নাস্তা বানাতে রান্নাঘরে । তাশফি হঠাৎ চিৎকার করে কান্না করে উঠতেই দৌড়ে আসে দিয়া । এরপর হাসপাতাল, অপারেশন ইত্যাদি আরও কত ঝামেলা । হাসপাতালেই ভর্তি ছিল ১৩ দিনের মত । বাড়িতেও আর আসা হয়নি, সেখান থেকেই চলে গেছে ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দিয়ে । যাবার আগেও হাসতে হাসতে দিয়াকে বলে গেছে আরেকটা বিয়ে করে নিতে । আর তাশফিকে খুব খুব আদর করতে । পাগল একটা !! কখনও নিজের জন্য কিছুই চাওয়ার ছিল না ওর । দিয়ার হাজারবার বারণ সত্ত্বেও একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল আবির, সেখানেই টোনাটুনি আর ছোট্ট একটা টুনটুনি নিয়ে সুখের সংসার । সব এখন লণ্ডভণ্ড । তাশফি ভীষণ দুষ্টু ছিল, এখন ভালোভাবে কথাও বলে না । মা-মেয়ে দুইজনেই নীরবে খুব করে কাঁদে কিন্তু কেউ কারও সামনে না । দুইজনেই ভাবে হয়তো এভাবে নীরবে কাঁদলে কেউই জানবে না তখন একজন আরেকজনের শক্তি হবে কিন্তু বিষয়টা আসলেই উল্টো । মা যে কাঁদে, এটা তাশফি জানে আর তাশফির ব্যাপারটা তো দিয়ার কাছে লুকোনোর কথাই না । দুই বছর পরেও বাড়ির অত্যাবশ্যকীয় সদস্যটির কথা কেউই ভুলতে পারেনি । আত্মীয় স্বজন বিশেষ করে তাশফির দাদাদাদি আর নানানানি জোর করে দিয়া আর তাশফিকে কক্সবাজারে ঘুরতে পাঠিয়েছে । প্রথমে রাজী না হলেও পরে সকলের জোরাজুরিতে ঠিকই এসেছে ।

সূর্য যতই শক্তিশালি হোক না কেন, এরকম দুঃখগুলোকে কখনই তার পক্ষে বহন করা সম্ভব হবে না । এমন ভার বহন করার দায়িত্ব হয়তো ঈশ্বর একমাত্র মানুষকেই দিয়েছেন, অন্য কোন প্রাণীকে নয় । :||
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:০৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×