somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০০০ সালের পরের প্রজন্মকে আমি প্লাস্টিক প্রজন্ম বলি ।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাশ নাইনে পড়ি তখন । প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংকে পেলাম ২৬ । আমাদের সময় সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাশ হতো । শেষ পিরিয়ড ছিলো । অংক স্যার ঢুকলেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে ! উনি আসার পরই গলা শুকিয়ে গেল ! আমি ভাবলাম যে, আজকে আর মাইর মাফ নাই । সত্যিই মাফ করেননি ! অংকে ২৬ পাওয়ার জন্য বেধরক মাইর দিলেন । বাসায় এসে শার্ট খুলে ভাত খাওয়ার সময় আম্মু দেখলো মাইরের দাগ ! আব্বুকে বললেন আম্মু, রাতে আবার আব্বু মারলো । জ্বর উঠে গিয়েছিলো ! ওইদিন জেদ করেছিলাম, অংকে কি আছে দেখে ছাড়বো ! টানা তিন মাস প্রতিদিন ৬ ঘন্টা পড়লে ৪ ঘন্টা অংক করতাম, বাকি ২ ঘন্টা অন্য পড়া । ফলশ্রুতিতে এসএসসিতে অংকে এ+ পেয়েছিলাম ! ভালবেসে ফেলেছিলাম অংক কে ! এরপর থেকে অংকই আমার পছন্দের সাবজেক্ট হয়ে গিয়েছিলো । আমি এখনও গল্প করে অনেককে বলি এই কাহিনী । স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও স্যারের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ।

এবার ভিকারুন্নেসার সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে আমার একান্ত একটা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে নিই ।

টিফিনের টাকা জমিয়ে আবেগ কেনা প্রজন্ম সুইসাইড করবে না তো কে করবে? আমরা যারা '৯০ এর ঘরে জন্মেছি তারা?
ইটস কোয়াইট ইম্পসিবল !
আমাদের সময় স্যাররা আমাদের উত্তম-মাধ্যম দিতেন, বাসায় এসে ভয়ে বলতাম না । কারণ, বলার পর বাসায় আবার মাইর চলবে । আর এখনকার প্রজন্ম মাইর খেয়ে বাসায় এসে বলে, বাবা-মা যেয়ে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হুমকি দেয় !
এই প্রজন্ম "শিক্ষাগুরুর মর্যাদা" কবিতা পড়েনা । তারা জানেনা বাদশাহ আলমগীর তার ছেলের শিক্ষককে কি লিখেছিলেন । তারা যানে সানি লিওনি ড্রেসের নীচে কি আন্ডারওয়্যার পড়েছে ! বালামার !!!
বিলিভ মি; এখনকার প্রজন্ম যে বয়সে টিফিনের টাকা দিয়ে আবেগ কেনে, ওই বয়সে আমি বিছানায় হিসু করতাম ।
এখনও হিসু করি, চর-চর কইরা হিসু করি এই প্রজন্মের আবেগের উপ্রে ।

শুনলাম এই ঘটনায় স্কুলের ৩ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার ও তাদের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে । এটা কোন কথা? তখন স্যারের উচিৎ ছিলো অরিত্রি নামের ওই মেয়েকে খাতা নিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে বলা-"খুকি, যাও বাসায় যেয়ে সময় নিয়ে লিখো ! আর হ্যা, কাল এসে খাতা জমা দিয়ে যেও" । এরকম হলে ভাল হত?

কিছুদিন আগে আমার হাইস্কুলের এক শিক্ষক মারা যান । সেখানে গিয়ে দেখলাম, আমার শৈশবের কারিগরেরা আজ সকলেই প্রবীন হয়ে গেছেন । চুল দাঁড়ির শুভ্রতায় তাদের বার্ধক্য স্পষ্ট । এক প্রবীন শিক্ষক তো বলেই ফেললেন, “তোরা তো আর আসিস না । আসিস সময় করে পারলে । দেখিস আবার বেশি দেরি যেন না হয় । পরে এসে হয়ত আর জীবিত পাবি না ।”
এখনও অনেক স্যার ফোন দিয়ে খবর নেন । নিজেকে গর্বিত লাগে তখন ! বাড়িতে গেলে দেখা হলে কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন । কাধে হাত দিয়ে কথা বলেন, পাশে বসিয়ে চা খান একসাথে । অনেক আদর করেন এখনও । এই দোয়া ভালবাসা এখনও পাচ্ছি আর ঋণী হচ্ছি তাদের ভালবাসার কাছে !

শিক্ষকরা আমাদের জীবনকে সারাজীবনই বিভিন্নভাবে শেপ করেন তাদের কথা দিয়ে, কর্ম দিয়ে, শিক্ষা দিয়ে । বাবা মায়ের পরে আমরা আজ যে যেই অবস্থানেই আছি, তাতে করে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে শিক্ষকের অবদানকে অস্বীকার কোনোভাবেই সম্ভব নয় । কিন্তু জীবনের নাটকীয় চক্রে আমরা কতজনই সুযোগ পাই, উপলব্ধি করি যে, আমাদের জীবনের বাঁক বদলে অবদান রাখা এই শিক্ষকদেরও একটু ধন্যবাদ দেয়া উচিত? পৃথিবীর সকল শিক্ষকদের ধন্যবাদ, ভালবাসা ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা যারা আমাদের জীবনকে রঙিন করেছেন !

পূনশ্চঃ সামু তে আমি আগে নিয়মিত পাঠক ছিলাম । আজ থেকে পাঠক ও টুকটাক লেখক । সবার একান্ত সাহায্য ও পরামর্শ কামনা করছি । ভাল থাকবেন, ভাল রাখবেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইবাদতে মানুষের লাভ, না করলেও আল্লাহর কোন ক্ষতি নাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



সূরাঃ ১০৩ আসর, ১ নং থেকে ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। মহাকালের শপথ।
২। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ্য
৩। কিন্তু উহারা (ক্ষতিগ্রস্থ্য) নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৭


বাংলাদেশে কোনো অর্থমন্ত্রীর বিদায়ের পর একটা জিনিস প্রায় দেখা যায় । তাঁর একটা লিগ্যাসি তৈরি হয় । স্মরণসভার মতো পত্রিকায় “যুগান্তকারী সংস্কার”, “সাহসী সিদ্ধান্ত”, “দূরদর্শী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×