somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাত্রা শুরু

১৬ ই জুলাই, ২০০৭ রাত ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতের অন্ধকার চূর্ণ করে আবার ভোর হলো। কোমল আলোয় উদ্ভাসিত পূর্ব দিগন্ত। অন্য যে কোন সকালের সঙ্গে আজকের এই সকালটির দৃষ্টিগ্রাহ্য কোন পার্থক্য নেই। প্রকৃতির অকৃপণ হাতে সাজিয়ে দেয়া বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতে উচড়ে পড়া ঢেউয়ের বুকে সূর্যের আলো খেলা করছে। সৈকত জুড়ে শুরু হয়েছে প্রাতভ্রমণককারীদের পদচারণা। আজ সকালেও মাছ শিকারীরা জাল কাঁধে সৈকত দিয়ে ছুটছে তরঙ্গমালা তুচ্ছ করে। উপকূলীয় এলাকার যাতায়াতকারীরা জড়ো হচ্ছে লঞ্চ ঘাটগুলোতে। হুড়তোলা রিক্সা নিয়ে রাতের বাসে আসা যাত্রীর জন্য প্রতীক্ষা গরিব রিক্সাচালকের। ঘুম থেকে জেগে উঠছে আমার প্রিয় কক্সবাজার। কিছু সুখী মানুষ আরাম বিছানা ছেড়ে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। আর কিছু মানুষ বিছানা ছেড়ে ঢুকে পড়ছে ইন্টারনেটে। বিশ্বজুড়ে মনে হয় আজো আর একটি তাৎপর্যহীন দিন শুরু বঞ্চনার দিনপঞ্জি লেখার জন্য। এমনি এক নিরাবরণ সকালে ব্লগে আমার যাত্রা শুরু।
সকাল নিরাবরণ। কিন্তু আমার যাত্রা মোটেই নিরাবরণ নয়। সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ ও সংবাদকর্মীদের সমাজের বিবেক বলা হয়। আমি বলতে চাই- সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ বলা হলেও ইদানিং সমাজের এই দর্পণে সমাজের প্রতিচ্ছবি যথাযথ ভেসে উঠছে না। যথেষ্ট কাদা ময়লা ও স্টীকারের নিচে চাপা পড়ে গেছে সমাজের দর্পণস্বরূপ অধিকাংশ সংবাদপত্র।
আর সংবাদকর্মীদের সমাজের বিবেকক বলা হলেও ইদানিং বাক্যটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আমি চাই বাক্যটির যথার্থ মূল্যায়ন। এছাড়া আমাদের সংবিধান সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দিয়েছে তার উপকার শুধু গণমাধ্যম নয়, সব মানুষই পাবে।
আমি জানি যাত্রালগ্নের এই স্বপ্ন পূরণ সহজসাধ্য নয়।
আজ নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ অসহায়, কিংককর্তব্যবিমূঢ়। দূর্নীতির বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার করে চোখের সামনে মহীরুহ হয়ে উঠেছিল। নির্লজ্জ স্বজনপ্রীতি কোনো সীমারেখা মানেনি। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উন্নয়নের নামে পর্যটন নগরীর মূল্যবান সম্পদ লুটপাট এবং ভাগভাটোয়ারা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে কক্সবাজারে যত সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে, বলতে দ্বিধা নেই কেউ পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রকৃত উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি, সবাই কক্সবাজারের উন্নয়নের নামে মূল্যবান সম্পদ ভাগভাটোয়ারা করেছে। অনেক প্রতিক্ষার পর যে একজন প্রতমন্ত্রী কক্সবাজার পেয়েছিল তার দূর্নীতির কাহিনীতো ইতোমধ্যে দেশবাসীর কাছে রূপকথার গল্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কারণে ভাল মানুষ রাজনীতি থেকে ক্রমশ নিরাপদ দূরত্বে চলে যাচ্ছিল। ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রেখেছিল বুকের গভীরে। দুষ্টু রাজনীতির যাতাকলে অসহায় হয়ে পড়েছিল মানুষ। আর সেই অসহায়ত্ব এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। অপরাধী রাজনীতিবিদের পরিণতি দেখে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছে সাধারণ মানুষ।
সত্যি বলতে কী আমরা সময়ে সময়ে এমন কালপর্ব অতিক্রম করি, যখন ভুল করে হলেও ভাবতে বসি, আমরা কোথায় ছিলাম এবং কোথায় যাচ্ছি?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই অনেক সরকার পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। রাজনীতির চাবুক হাতে যারা পাগলা ঘোড়া ছোটাতে পারেন, তারা ও তাদের দোসররা বিত্ব-বৈভবে ঐশ্বর্যের বরপুত্র হয়ে গেছে। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক যে, সেরা দূর্নীতিবাজদের তালিকায় অতীতে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন তাদের নাম শোভা পাচ্ছে। সারা দেশে ৫০০ জন ক্লীনম্যান পাওয়া যাচ্ছে না।
এ দেশে কোনো সরকার দূর্নীতিমুক্ত ছিল না। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রতিযোগিতা চলতো। প্রতিযোগিতায় বার বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেও।
আমি মনে করি- অন্ধকার রাত পেরিয়ে আজকের সূর্যোদয়ের এই ফুটন্ত সকালটির মতো দুর্যোগপূর্ণ সময়টি থেকেও বেরিয়ে আসা সম্ভব।
আর এই সম্ভাবনার জন্যই হয়তো বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের কামনা ছিল। দ্রব্যমূল্যের লাগাম শক্ত হাতে ধরতে না পারলেও স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলছে। সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদদের ভোটার ভোলানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং দেশ ও জাতীর প্রতি প্রতারণার পরিবর্তন চায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ২:৩৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×