somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউ-১৯৭১ কিশোরীর চোখে মুক্তিযুদ্ধ

৩০ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বইয়ের নাম: ১৯৭১ কিশোরীর চোখে মুক্তিযুদ্ধ
লেখকঃ জামিলা হাসান (সুরঞ্জনা মায়া) (ব্লগ নিক সুরঞ্জনা)
প্রকাশ কালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২০
প্রকাশকঃ নীল সাধু, এক রঙ্গা এক ঘুড়ি, ৩২/২ শুক্রাবাদ, ঢাকা-১২০৭
পৃষ্ঠা সংখ্যঃ ৫৬
মূল্যঃ ১৫০ টাকা



সুরঞ্জনা নামের আড়ালে লেখকের আসল নাম জামিলা হাসান প্রায় হারিয়ে গেছে। ব্লগে লেখকের কয়েকটি ভ্রমণ বিষয়ক লেখা পড়েছি, রান্না বিষয়ক লেখা দেখেছি; কিন্তু এরকম একটি অসাধারণ একটি লেখা ওনার কলম থেকে আসবে এমনটা কখনো ধারণা করি নি।

বাঙলা ভাষায় মুক্তি যুদ্ধের উপর প্রচুর লেখা আছে। কিছু বীর গাঁথা, কিছু বিশ্লেষন মূলক, কিছু রাজনৈতিক, কিছু উপন্যাস। যোদ্ধাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা নিয়েও বেশ কিছু বই আছে। কিন্তু একটা ১১ বছরের বাচ্চা মেয়ের দৃষ্টিতে ৭১এর যুদ্ধ কেমন ছিলো এই থিমের উপর লেখা কোনো কিছু আগে চোখে পড়ে নি। বইটি অনেকটা আনা ফ্রান্কের ডায়েরির কথা মনে করিয়ে দেয়।

১৯৭১ এর মার্চে লেখকের অবস্থান ছিলো সিলেট জেলার মৌলভিবাজার মহকুমায়। ওনারা যে বাসায় ভাড়া থাকতেন তার মালিক ছিলো একজন রাজাকার। কিছু মানুষ রূপী শয়তানের লোভ, সাধারণ মানুষের দুর্দশা, ধর্মিয় ভাবে সংখ্যা লঘু মানুষদের উপর অন্য মাত্রার অত্যাচার, চা শ্রমিকদের না বলা কষ্টের অজানা কাহিনী- সকল শ্রেণীর মানুষের জীবনের যুদ্ধকালীন ট্রানসফরমেশন, আতঙ্ক, ঈদের ফ্যাকাসে আনন্দ, মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, পাক বাহিনি ও তাদের দোসরদের নির্যাতনের ভয়াবহতা - সবই নিপুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সুরঞ্জনা আপা। একদম শেষের দিকে যুদ্ধ জয়ের পর কষ্ট মাখানো সেলিব্রেশনের বর্ননা দিয়ে বইটি শেষ করেছেন। এর কিছু অংশ তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারলাম না।









বইয়ের একাধিক জায়গায় লেখক বলেছেন ওনাদের বাসা সৈয়দ মুজতবা আলীর বাড়ির কাছে ছিলো। আমি অনুমান করি লেখক এখানে সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাইয়ের বাড়ির কথা বলেছেন, কেননা আমার জানা মতে মুজতবা আলী পাকিস্তান রাষ্ট্রকে মেনে নিতে পারেন নি, ১৯৪৭ এর ভারত ভাগের পর অল্প কিছু দিন পূর্ব পাকিস্তানে থাকার পর উনি ভারতেই স্থায়ী হন, দেশ স্বধীন হবার আগে আর দেশে ফেরেন নি। ১৯৭২এ দেশে ফেরার পর ১৯৭৪ এ মৃত্যু বরন করার আগ পর্যন্ত উনি ঢাকাতেই ছিলেন।

বইটির কাগজের মান বেশ ভালো, ছাপা ঝকঝকে; তবে বাঁধাই ভালো না, স্থানে স্থানে আঠা জড়িয়ে গেছে। প্রচ্ছদ আমার কাছে ভালো লেগেছে। তবে এরকম একটি বইয়ের প্রচ্ছদ ল্যামিনেটেড হলে আরো ভালো লাগতো। বইটিতে প্রচুর বানান ভুল , বিষয়টি কষ্ট দিয়েছে।




আমাদের দেশে এখনো বইয়ের মূল্য পৃষ্ঠা সংখ্যা হিসেবেই নির্ধারণ করার রেওয়াজ চলে আসছে। ৫৬ পৃষ্ঠার বইয়ের মূল্য ১৫০ টাকা আমার কাছে একটু বেশিই মনে হয়েছে।

আমি ব্লগের সকল পাঠককে অনুরোধ করবো বইটি কিনে পড়ার এবং নিজ সংগ্রহে রাখার জন্য। এই বইটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি দলিল বলেই আমি মনে করি। বইটি রকমারি থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

রকমারির লিঙ্ক --https://www.rokomari.com/book/197132/kishorir-chokhe-muktizuddho-1971

রেটিংঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা এই বইটির রেটিঙ করার যোগ্যতা আমার নেই বলে মনে করি।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ব্লগার সুরঞ্জনার একটি সাক্ষাৎকার কাল্পনিক ভালবাসার ব্লগে গত ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০তারিখে প্রকাশিত হয়েছিলো। আগ্রহী পাঠকেরা ঘুরে আসতে পারেন।
ব্লগারদের বিশেষ সাক্ষাতকারঃ এক। এই পর্বের অতিথি ব্লগার সুরঞ্জনা মায়া।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৪
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×