somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণজাগরণ মঞ্চ এবং আমরা .....

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে যারা গণজাগরণ মঞ্চ-কে “গজা মঞ্চ” বলছেন তাদের বেশির ভাগই কিন্তু এই মঞ্চের সমর্থক ছিলেন অল্প কিছুদিন আগেও । আপনাদের হিসাবে অনুযায়ি গণজাগরণ মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেছে সেদিনই যেদিন কাদের মোল্লার বিচারের রায়ে পরিবর্তন করা গেছে ! সুতরাং এখন সেটা “গজা” মঞ্চ ! কেন সেটা মনে হলো আপনাদের ? কেউ কি বলবেন ? এই যে প্রশ্নটি করলাম তাই এখন “গজা” বলা লোকজন আসবেন বাল-ছাল অনেক কিছু বুঝাইতে । ভাই আপনাগো কোন কিছু বোঝানোর দরকার নাই, সবই আমরা বুঝি । আপনারা হচ্ছেন সেই সব আবাল বা লুজার যারা চামে নিজেরেও হিরু বানানোর স্বপ্নে বিভোর আছিলেন ! বেশি কইয়া ফেলাইলাম নাকি ?

আচ্ছা বলেন তো ভাই বা বোনেরা (যে কেউই হোন না কেন আপনি) - গণজাগরণ মঞ্চ-কে কেন গজা মঞ্চ বলছেন ? গণজাগরণ মঞ্চ তো কারো বাপ-দাদার সম্পত্তি না; তাই না ? এটা কোটি মানুষের চেতনার জায়গা । গুটি কয়েক মানুষের জন্য তো সবার চেতনাকে অপমান করতে পারেন না; তাই না ? গণজাগরণ মঞ্চ ছিলো, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে । একে কেউ “গজা মঞ্চ” বা অন্য যে কোন নাম দিয়ে আর মুছে ফেলতে পারবে না । হ্যা, এটা ঠিক এই আপনাদের মত মানুষ্দের জন্য ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষরা রাজপ্থে বের হবে কিনা সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন !

এখন আসি কিছু বাস্তব ভিত্তিক সমীকরণে । বাস্তবতার আলোকে আলোচনাটা করি । আচ্ছা আপনারাই বলেন একটা মুভমেন্ট চালাতে হলে অবশ্যি টাকার প্রয়োজন; তাই না ? নাকি হাওয়ায় হাওয়ায় কোন মুভমেন্ট চলে ? টাকা ছাড়া কি কোন কিছু করা সম্ভব আজকের দুনিয়ায় ? বলেন না; সম্ভব কিনা ? সম্ভব না । গণজাগরণ মঞ্চের নামে আজকে চাদাবাজি করার কথা উঠছে ! কি হাস্যকর একটা বিষয়; তাই না ? কত টাকা উঠেছে ২ কোটি ? ৫ কোটি ? ১০ কোটি? ২০ কোটি ? কেউ কিন্তু জানেন না । শুধু আঙ্গুল তুলছেন তাদের প্রতি । কেন ? কারণ এখন আপনারা তাদেরকে বির্তকিত করতে চান । তাও আবার সবাই না বিশেষ কিছু গোষ্ঠি ! যদি বলি তারা জামাত-শিবিরের পেইড; খুব কি বেশি বলা হয়ে যাবে ? যাবে না মনে হয় । কারণ, বর্তমান মার্কেটে জামাত-শিবিরের পারপাস তারাই সার্ভ করে দিচ্ছেন ! মার্কেটে এখন জামাত-শিবির দেখা যায় না, আছে তাদের পেইড এজেন্ট বা চেতনা নামধারী ব্যবসায়ী বা বুদ্ধিবেশ্যাগুলা । যারা উঠে পড়ে লেগেছেন গণজাগরণ মঞ্চ-কে বদনাম করার জন্য ।

ওহ যে কথা বলছিলাম, গণজাগরণ মঞ্চ কোটি কোটি টাকা তুলছে, বেশ ভালো কথা । সেই টাকা কি আপনি দিছেন বা আপনি নিজে দেখছেন টাকা দিতে ? আল্লাহর ওয়াস্তে সেই ৫ ছাত্র সংগঠনের নাম নিয়েন না । যারা নিজেরাই তাদের প্রেস কনফারেন্সে বলেছে এই টাকা আদান-প্রদানের সময় সরাসরি জড়িত ছিলো । আপনিও যেমন জানেন আমিও তেমন জানি চোরে চোরে মাসতুত ভাই । পাচ ছাত্র সংগঠনই এখন কার পারপাস সার্ভ করছে তা ভালই বোঝা যাচ্ছে । তাই বলে মনে কইরেন না যে আমি গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-পোতাদেরকে ডিফেন্ড করছি। আমি ওদেরকে ডিফেন্ড করছি, আমি আমার, আপনার এবং তাদের ভূলগুলা ধরার চেষ্টা করছি আমার মত করে । কারণ, গণজাগরণ মঞ্চের সাথে আর সবার মত আমার চেতনাও যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত । আমি আমার টাইম লাইনে কিছুদিন আগে আমারই দেওয়া আমার স্ট্যাটাসটা রেখে দিয়েছি, ডিলিট করিনি । করবও না । ওখানে আমিও গণজাগরণ মঞ্চকে নিয়ে বিষোদাগার করেছি । সেটা করেছি আমার ভুল কিছু চিন্তা-ধারা থেকে । কিন্তু পরে আমি যখন বিশদ দিক নিয়ে চিন্তা করেছি তখন মনে হয়েছে আমি কত বোকা ? ৫৭ ধারার ফ্যাকরায় বাধা, তা না হলে অনেক কথাই বলা যেত ।

আমি বুঝি না গণজাগরণ মঞ্চের সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ সরাসরি স্বীকার না করে ইনিয়ে-বিনিয়ে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার কেন করছেন ? আরে বাবা সমস্যা কোথায়; টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করাতে ? আবারো বলছি এই রকম একটা মুভমেন্ট চালানো তো আর মুখের কথা না; তাই না ? হাওয়ার উপর ভরসা করে তো আর এরকম একটা মুভমেন্ট চলতে পারে না ! নাকি পারে ? আর এই বিদেশ-বিভূইয়ে বসে আমরা যতটুকু দেখেছি বা শুনেছি তাতে জানি যে এই টাকাগুলা টাকার মালিক স্বইচ্ছায় মঞ্চকে দিয়েছে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করার জন্য, খাবার-দাবার কেনার জন্য। আরে বাংলাদেশের এত সব রাজনৈতিক দল আছে তারাও তো তাদের দল পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর কাছ থেকে টাকা-পয়সা সাহায্য নিয়ে বেড়ান । নাকি এখন বলবেন এই সব দল চলে তাদের নেতার বাপের বাড়ির টাকায় ? যেহেতু মঞ্চের মুখপাত্র হিসাবে ইমরান এইচ সরকার দায়িত্বে ছিলেন সুতরাং সেই টাকাগুলা গ্রহণ করেছেন । এতে সমস্যার কি আছে ? আচ্ছা হলোই না হয় তারা দু-এক টাকা এদিক সেদিক করে খরচ করে ফেলেছে, তাতে কার বাপের কি আসে যায় ? যারা টাকা দিল তাদের মাথা ব্যাথা না অন্যের ঘুম হারাম হয়ে গেছে ! এ যে মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি অবস্থা ।

যেই সব বুদ্ধিবেশ্যারা আজকে কোমরের কাপড় তুলে এদের পিছে লেগে আছেন কই তাদেরকে তো দেখি না সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাইতে ? বা সোনালী ব্যাংক বা রুপালী ব্যাংক বা বেসিক ব্যাংকের মত জায়গায় এত বড় বড় দুর্নীতিতে কথা বলতে ! নাকি এই সব ব্যাপারে কথা বললে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়ে যাবে ? ইতিমধ্যে আপনারা তো সবাই ভুলে বসেই আছেন পদ্মা সেতুর কথা । কি না হলো এই পদ্মা সেতু বানানো নিয়ে ? এখন কি অবস্থা এর ? কোন অবস্থায় নায় । সংসদ নির্বাচন তো শেষ । আবার কেউ তো বললেন না দেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক, প্রাক্তন সাংসদ এ বি এম মুসা সাহেবের মৃত্যুর পর কেন তাকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হলো না বা তার শেষ নামাজে-জানাযা সংসদ ভবন প্লাজায় করা হলো না ? না আপনারা তো এসব বলবেন না, কারণ এগুলা বললেই তো ৫৭ ধারা চলে আসে ! ভয় পাওয়া লাগে । যদি গ্রেফতার হয়ে পড়েন ।

আমাদের প্রাণ প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি স্বয়ং নিজে মহান সংসদে সংসদ অধিবশন চলাকালীন সময় নিজ আসন হতে দাড়িয়ে বলেছিলেন “তার মনও পড়ে থাকে শাহাবাগে” । আমরা জানি উনি নিজেও যুব চেতনাকে নিজের আপন স্বত্তায় ধারণ করেন । আর আজকে কি এমন হলো যে উনি এই বিষয়ে একটি কথাও বলছেন না ? আমি আবার ৫৭ ধারায় পরে গেলাম নাতো ? আমার বিশ্বাস আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কেউ না কেউ ভূল বোঝাচ্ছেন । যা কিনা তার তথাপি দলের জন্যই বড় ক্ষতি । তাকে আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে ।

এক জায়গায় একসাথে অনেক্গুলা হাড়ি-পাতিল থাকলে ঠোকাঠুকি এক-আধটু যে হবে তা সবাই জানে । কিন্তু তাই বলে হাড়ি-পাতিলগুলাকে তো আর তুলে ফেলে দেওয়া যায় না । আজকে আপনারা একে বলছেন “গজা” মঞ্চ ! ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে সমস্যা ? ঠিক আছে তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দাও । তা না পুরা গণজাগরণ-কেই খেয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে !

অনেকে আবার এই গণজাগরণ মঞ্চকে প্রশাসনের উপর প্রেসার গ্রুপ হিসাবে দেখচ্ছেন । এতে খারাপের কি হলো ? প্রশাসনের উপর যদি কোন “প্রেসার গ্রুপ” না ই থাকে তবে প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করবে কিভাবে ? তাদেরও তো ভুল-ত্রুটি হয় নাকি ? না তারা ফেরেশতা, যে তাদের কোন ভুল হয় না । সুতরাং সেই ভুলগুলা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে তো দরকার । দয়া করে কেউ বলতে আইসেন না বিরোধী দলগুলা তো আছেই আমাদের হয়ে কথা বলার জন্য ! ঠিক আছে বিরোধী দলের সাথে সাথে অন্য একটি গ্রুপও না হয় থাকলো এই প্রেসার গ্রুপ হয়ে, যারা কিনা প্রশাসনের সাথে সাথে বিরোধীদের ভুল-ত্রুটিও ধরিয়ে দিবে । আর এই গ্রুপ নিজেও যদি ভুল-ত্রুটি করে তবে তো প্রশাসন রইলোই তাদের জন্য । বর্তমানে বিরোধী দলের যে অবস্থা, প্রশাসনকে প্রেসারে রাখবে কি উল্টা প্রশাসনই তাদেরকে প্রেসারে রেখেছে ! কোন এক সময়কার বৃহৎ বিরোধী দল বা ৩ বারের (১ বার বিতর্কিত) নির্বাচিত দলকে তো এখন আর মাঠেই দেখা যায় না । তারা সবাই ব্যস্ত নিজেদেরকে বাচানোর জন্য । মানে গ্রেফতারের হাত থেকে । এই যদি হয় নেতার অবস্থা তাহলে তো দেশের কি অবস্থা হবে তা তো বলাই বাহুল্য ! এতদিন শুনে এসেছি পুলিশের মাইর আর জেলে না গেলে বলে নেতা হওয়া যায় না ! সেখানে তারা জেলে যাওয়ার ভয়ে রাজপথে না নেমে তালেবানী স্টাইলে ঘরের চিপা থেকে ভিডিও মেসেজ দেয় ! আর তাদের চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চেয়ারম্যানের মাথায় তো এখন পুরাই গেছে । ৪৩ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন করায় ব্যস্ত !

আমার হিসাবে তার-ই নীতি বাক্য বলা সাজে যে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় । আপনি বেনিফিট খাবেন, আরেক জনের থেকে টাকা নিয়ে তার পারপাস সার্ভ করবেন আর এসে আমাকে নীতি বাক্য শোনাবেন, আপনার ড্যাশ মারি !

আজকে ছাত্রলীগ আর বাম এক সাথে হয়ে গেছে ! যা কিনা কষ্মিনকালেও চিন্তা করা যেত না । যেখানে ওপেন সিক্রেট একটি বিষয় যে - এই বামরা সহ কতিপয় বিপথগামী সেনা-সদস্য এবং ফিডম পার্টি সরাসরি জড়িত ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পুরো পরিবারকে হত্যার জন্য । এ কথা কে মুখ ফুটে বলবে ? ৫৭ ধারা চলে আসে যে ! এবার আসি হেফাজতের কথায় । হেফাজতের শফি হুজুর ভাষণ দিচ্ছেন - আওয়ামিলীগ, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ আর তারা নাকি এখন ভাই ভাই ! কি আশ্চর্য্য তাই না ? এই সেদিনও হেফাজত ছিলো দুশমন । যেখানে মহান সংসদে বসে তার একটি স্টেটমেন্টের জন্য বিভিন্ন এএমপি-মিনিষ্টাররা শফি হুজুরকে ধূয়ে দিলেন । তেতুল হুজুর, লালা হুজুর কত কিছুই না বলা হলো তাকে ! এখন আবার সেই হুজুর ভালো হয়ে গেলো ? ক্ষমতা যে কি জিনিষ তা তো এখন দিনের আলোর মত পরিষ্কার ।

আবার আসি গণজাগরণ মঞ্চে । গণজাগরণ মঞ্চ-কে সেই সময় জামাত-শিবিরেরা নাস্তিকতার উপাধি দিলো আর আজ দিচ্ছেন আপনারা । ব্যাপারটা কেমন কেমন হয়ে গেলো না ? তখন জামাত-শিবিরেরা বললো এরা গাঞ্জা খায়, মদ খায়, সিগারেট খায়, মাগী লাগায়, বেলাল্লাপনা করে ইত্যাদি ইত্যাদি । আজকে সেই আপনারাই (যারা কোন এক সময় এই আন্দোলনের কোর সদস্য বা সমর্থক ছিলেন) আবার সেই সুরে কথা বলছেন ! কি আশ্চর্য্য তাই না ? সারা পৃথিবী জুড়ে সবাই জানে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা অনেক পায়াস (পবিত্র) । তারা মদ-গাজা-সিগারেট খায় না । কথাটা কি সত্যি ? না সত্যি না ? এই বর্তমান যুগে গুটিকতক শ্রদ্ধেয় হুজুর এবং এই লাইনে পড়াশুনা করা কিছু মানুষ ছাড়া বাকি সবাই প্রতিটি খারাপ কাজ করেন (কম-বেশি)। খোদ এই ইংল্যান্ডের পূর্ব লন্ডন শহরের বাঙ্গালী পাড়া নামক বিখ্যাত হোয়াইট চ্যাপেলে এমন প্রচুর মুরুব্বী এবং যুব সমাজ দেখা যায় যারা অহরহ ধূমপান করছেন । আর করছেন ইয়া বড় বড় দাড়ি, মাথায় টুপি এবং গায়ে জোব্বা ! আমার প্রশ্নটা এখানেই - কেন আমি বা আপনি ধর্মীয় লেবাস (ধর্মীয় লেবাস বললাম এই কারণেই যে দুনিয়া জুড়ে সবাই জানে মুসলমান ধর্মের লেবাস এইটা) পরে এসব অপকর্মগুলা করব ? অন্যের কথা কি বলব, আমি আমার কথায় বলি - লন্ডনে অন্য ধর্মের মানুষের সাথে যখন আমি সিগারেট বা বিয়ার খাই তখন তারা একটু অবাক হয়ে যায় যে একজন মুসলমান হয়ে কিভাবে আমি এটা করছি ? আমার ধর্ম তো এটাকে সাপোর্ট করে না ! সত্যি কথা বলতে কি তখন কিন্তু আমি নিজেও একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি । এই যা কারো ধর্মানুভূতিতে নাড়া দিয়ে ফেললাম না তো ?

এই যে নোটিশটা করলাম এটা কি ভূল করলাম ? আমি দীর্ঘ্য সময় ধরে মিডিয়াতে কাজ করে আসছি এবং তার ফলশ্রুতিতে এখানকার বাঙ্গালী কমিউনিটির দু-একটা টিভিতে কাজও করেছি । সেই সুবাদে এখানকার অনেক বড় বড় হুজুরদের সাথে আমার কথা-বার্তা হয়েছে । তাদেরকেও আমি অনেক বার এই বিষয়গুলো নোটিশ করেছি এবং তারাও তা টিভিতে বসে অন-এয়ার এইসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন । ধূর আমি তো আমার কথাই বলা আবার শুরু করে দিলাম ! এই হচ্ছে আমার দোষ । আচ্ছা যাই হোক আবার আগের কথায় ফিরে আসি - যে সব লোকজন এখন গণজাগরণ মঞ্চ-কে বিতর্কিত করার জন্য এই সব কথা বলে বেড়াচ্ছেন যে তারা সেখানে যে সব ডোনেশন পেয়েছে তা দিয়ে মদ-গাজা খেয়ে উড়িয়েছে । এই কথা শুনে হাসি ছাড়া আর কিছু আসতাছে না আমার । আপনাদের এমন অনেককেই আমি ব্যক্তিগত্ভাবে চিনি যারা সন্ধ্যার পর কে কি করেন । আমরা যখন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া-প্রতিযোগীতার অনুষ্ঠান করতাম তখন স্কুল থেকে বাজেট পেতাম স্কুলকে সাজানোর জন্য । আর এটা পেতাম রাতে যারা আমরা কাজ করতাম । সেই টাকা দিয়ে খাবার-দাবার কেনার সাথে সাথে কিছু টাকা বাচিয়ে যারা বড় ছিলাম তারা আবার বিড়ি-সিগারেট (এর চেয়ে বেশি কিছু না) কেনায়ও ব্যবহার করতাম । তো তাই বলে কি আমরা খারাপ হয়ে গেছি নাকি ? নাকি এখন আমাদের বিচারের কাঠ-গড়ায় দাড়াতে হবে যে কেন আমরা স্কুলের টাকায় বিড়ি-সিগারেট কিনে খেলাম ?

যাক এবার শেষ করি অনেক বড় লেখা লিখে ফেললাম - ইমরান এইচ সরকার যদি নতুন কোন রাজনৈতিক দল খোলার ঘোষণা দিয়ে থাকে তবে এটা সম্পূর্ণ্য তার বাক্তিগত অভিমত হবে বলে আমার বিশ্বাস । এতে গণজাগরণ মঞ্চের বিন্দু মাত্রও ক্ষতি হবে । সে তার আপন গতিতেই চলবে । যারা একে ভারতীয় (অনীল কাপুর অভিনিত) “নায়ক” ফিল্মের সাথে তুলনা করতে চান না তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই - সেটা না হয় নিছক ফিল্মই ছিলো তাই বলে কি এভাবে আমরা চিন্তা করতে পারি না ? চিন্তা করতে দোষ কি ? ঘূণে ধরা এই সমাজকে তো আমাদেরই শুদ্ধ করতে হবে । অনর্থক চিলে কান নিছে বলে চিলের পিছে না দৌড়িয়ে কষ্ট করে নিজের কানের জায়গায় হাত দিয়ে দেখুন না তা ঠিক জায়গায় আছে কিনা ? আর কোন গোষ্ঠিরই উচিত হবে না এই রকম একটি মুভমেন্টকে খেয়ে ফেলার । এই মুভমেন্টটা দরকার রাষ্ট্রের স্বার্থে । যে কোন গষ্ঠীকে তার নিজ কক্ষ পথে সঠিকভাবে অবস্থান ধরে রাখার জন্য এর বিকল্প নেই । আজকে গণজাগরণ মঞ্চ আছে বলেই জবাবদিহিতার একটি ভয় আছে, তা যে পক্ষই হোক না কেন ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:২৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×