somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্টিন, এই যুদ্ধ আপনার একার নয়.. আমাদের সকলের..!!

১৭ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তির আশ্রয় হিসেবে মানুষ বারবার ফিরে আসে প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে, প্রিয় সন্তানদের মুখ দেখে কার না মন ভাল হয়ে যায়। কিন্তু সেই নারিকুল যখন ঘাতকদের রুপে হাজির হয় তখন সমাজ আর সুস্থ থাকেনা। সেরকম একটি ঘটনায় নির্মমভাবে প্রান হারায় সেনাবাহিনীর বেসামরিক কর্মকর্তা মার্টিন সরকার। স্ত্রীর ‘হত্যা-ষড়যন্ত্র’ থেকে তিন দফায় বেঁচে গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর বেসামরিক কর্মকর্তা মার্টিন সরকার। মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন নিজের প্রাণ। একই সঙ্গে দু’টি কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সুন্দর জীবনের কথা ভেবে স্ত্রী রুমা সরকারকে ক্ষমাও করেছিলেন একাধিকবার। কিন্তু হায়রে নিয়তি! ক্ষমার প্রতিদানে এমন নির্মম ট্র্যাজেডির শিকার হবেন মার্টিন- তা হয়তো কল্পনাও করেননি। কিন্তু তা-ই হয়েছে। ঘাতকরূপী স্ত্রী ও দুই কন্যার হাতেই তিনি খুন হয়েছেন। গতকাল পুলিশের কাছে পিতাকে হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছে মার্টিনের দুই কন্যা জয়া (১৬) ও অদ্বিতা (১৪)। আরও তথ্য আদায়ের জন্য আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেল গেটে দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। শাহ্‌ আলী থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে মার্টিনের দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ছিল। তার দুই মেয়ের সঙ্গে একাধিক যুবকের প্রেম ও মেলামেশার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মার্টিন। এসব কারণেই গত ১২ই জুন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তাদের প্রেমিক মামুন একযোগে মার্টিন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। প্রথমে কৌশলে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। পরে অচেতন হয়ে পড়লে তারা একযোগে হাত-পা, মুখ চেপে ধরে ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ছুরি দিয়ে মার্টিনের পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। (এ যেন ঠিক ঢাবি শিক্ষক রুমানার নাক কামড়ে নেয়ার মত ঘটনা)এরপর মধ্যরাতে মামুন ও তার দুই সহযোগী মাইক্রোবাসযোগে মার্টিনের লাশ মিরপুর বেড়িবাঁধে ফেলে দেয়। পরের দিন সকালে শাহ্‌ আলী পুলিশ অজ্ঞাত পুরুষ হিসেবে মার্টিনের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এর একদিন পরে পত্রিকায় খবর পড়ে মার্টিনের কর্মস্থল সেনবাহিনীর ইন্সপেক্টরেট ইলেকট্রোনিক অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট (আইই অ্যান্ড ই) ইউনিটের লোকজন মর্গে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, ঘাতক স্ত্রী রুমা সরকার জিজ্ঞাসাবাদে স্বামীকে হত্যার আগে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। তবে সে অতিশয় ধূর্ত। খুনের কথা সরাসরি স্বীকার না করে বলে, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জয়া ও অদ্বিতার বন্ধুরা তার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ মার্টিনের স্ত্রী রুমাকে আদালতে হাজির করা হবে। ওসি আনিসুর রহমান বলেন, রুমা ও মার্টিনের ১৮ বছর বিবাহিত জীবনের বেশির ভাগই সন্দেহ-অবিশ্বাস ও কলহের মধ্যে কেটেছে। মার্টিনের থেকে রুমা প্রায় ৬-৭ বছরের ছোট। এরা দু’জনে প্রেম করে বিয়ে করেছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছে। এদিকে মার্টিন হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট ওই পরিবারকেই প্রথম সন্দেহ করেছিল। পরে ওই সূত্র ধরেই পুলিশ মার্টিন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। তদন্তের শুরুতেই মার্টিনের স্ত্রী রুমা সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে পীরেরবাগ স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে দুই মেয়ে জয়া ও অদ্বিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্ত্রী রুমা স্বামীকে সব সময় সন্দেহের চোখে দেখতো। মনে করতো- অফিসের নাম করে বাইরে কোন মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করে। সেই অদৃশ্য মেয়ের পেছনেই সব টাকা-পয়সা খরচ করে। স্ত্রীর এমন সন্দেহ বেশ পুরনো। ওই সন্দেহ পাত্তা দিতো না মার্টিন। বরং সংসারের প্রতি আরও বেখেয়ালি হয়ে ওঠে। হঠাৎ করেই ২-৩দিন বাসায় ফিরতো না। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে রুমা ২০০৭ সালে মার্টিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। তবে মার্টিন দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রীকে নিয়েই সংসার জোড়া লাগার চেষ্টা করেন। তাতেও মন গলেনি রুমার। স্বামীকে ফাঁদ পেতে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এর কিছুদিন পর ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেয়। ওই বিষ মেশানো ভাত খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে আশপাশের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করেন মার্টিনকে। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। মিরপুর থানায় জিডি করেন। সে যাত্রায় রুমা দুই মেয়ের কসম খেয়ে ভাল ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন। আবারও মন গলে মার্টিনের। দু’টি কন্যার কথা চিন্তা করে ক্ষমা করে দেন নিজের স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতাকে।

চিরকাল নারীদের এমন মনভোলানো প্রলোভনে এভাবে কত পুরুষ হারিয়ে যাচ্ছে তার হিসেব হয়তো আমাদের নেই কারন পুরুষরা দিন দিন অবলা প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা এর বিরুদ্দে সোচ্চার হয় প্রতিবাদী হয়। আমরা চাই নারী পুরুষের মধ্য ঐক্য আর শান্তি।


সুত্র- View this link
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১২:১৫
৮১টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×